
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান সত্ত্বেও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ‘আব্রাহাম চুক্তি’তে সই করবে না পাকিস্তান। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ এক টিভি সাক্ষাৎকারে বিষয়টি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, পাকিস্তান এমন কোনো চুক্তিতে যোগ দেবে না যা তাদের মৌলিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পাকিস্তান তাদের পাসপোর্টেও ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের চুক্তি পাকিস্তানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং ভবিষ্যতে এই অবস্থান পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই। এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি বলেও তিনি জানান।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে ঐক্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক ও
দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া পাকিস্তান এখনো ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না এবং দুই দেশের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। পাকিস্তান বরাবরই ১৯৬৭ সালের পূর্ব সীমার ভিত্তিতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে আসছে। বর্তমান গাজা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি বারবার ভঙ্গ হচ্ছে এবং ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যাদের বিশ্বাস করা কঠিন, তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসা জটিল।
আঞ্চলিক কূটনীতির একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই দৃঢ় মন্তব্য এল। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ইস্যু ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উত্তেজনা বাড়ার পর উপসাগরীয় দেশগুলো, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে। এরই অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি সম্প্রতি তেহরান সফর করেছেন, যা কর্মকর্তাদের মতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সম্ভাব্য চূড়ান্ত সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে।
২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা আবার উন্নতির দিকে যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি পেলেও পাকিস্তান বারবার স্পষ্ট করেছে যে, ইসরায়েল ইস্যুতে তাদের নীতি অপরিবর্তিত। এদিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ জনমত ও রাজনৈতিক দলগুলোও সবসময় ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অনড়। একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে দেশটির জনগণ ও ধর্মীয় দলগুলো তীব্র প্রতিরোধী অবস্থানে রয়েছে।
/টিএ