
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ব্যস্ত জীবনযাত্রায় প্রতিদিন জিমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শরীরচর্চা করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। তবে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন পেতে কঠোর ব্যায়ামই একমাত্র উপায় নয়। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, প্রতিদিনের রুটিনে সামান্য পরিবর্তন এবং অল্প সময়ের শারীরিক সক্রিয়তাও দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত জিমে যাওয়ার পরিবর্তে সারা দিনে কাজের ফাঁকে অল্প অল্প করে শরীরচর্চা করা সুস্থ থাকার সহজ উপায় হতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘এক্সারসাইজ স্ন্যাকিং’ বা ‘স্ন্যাকটিভিটি’। এর অর্থ হলো, দিনের বিভিন্ন সময়ে অল্প সময়ের জন্য শরীরকে সচল রাখা। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার প্রায় দেড় লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিটের মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যকলাপও অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। নরওয়েজিয়ান স্কুল অব স্পোর্টের অধ্যাপক উলফ ইকেতুন্ডের মতে, দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো কিংবা সিঁড়ি বেয়ে ওঠার মতো কার্যকলাপের মাধ্যমে জনসংখ্যার পর্যায়ে প্রায় ১০ শতাংশ অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে।
গবেষকেরা অবশ্য বলছেন, এর অর্থ এই নয় যে সুস্থ থাকার জন্য দিনে পাঁচ মিনিটের ব্যায়ামই যথেষ্ট। বরং যারা একেবারেই শরীরচর্চা করেন না, তাঁদের জন্য অল্প সময়ের শারীরিক সক্রিয়তাও গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস কমানোও জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন বসে থাকার সময় থেকে ৩০ মিনিট কমিয়ে সেই সময় হাঁটাচলায় ব্যয় করলে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় সাত শতাংশ কমতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পেশির শক্তি, শারীরিক সক্ষমতা ও হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে নিয়মিত চলাফেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
‘এক্সারসাইজ স্ন্যাকিং’য়ের জন্য আলাদা পোশাক, জিম কিংবা ব্যায়ামের সরঞ্জামের প্রয়োজন নেই। রান্নার ফাঁকে কয়েকটি স্কোয়াট করা, পছন্দের গানের সঙ্গে কিছুক্ষণ নাচা, ঘর পরিষ্কার করা কিংবা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুতগতিতে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করার মাধ্যমেও শরীরচর্চা করা যায়। যুক্তরাজ্যের আলস্টার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মারি মারফির মতে, অল্প সময়ের ব্যায়াম শরীরের বিপাকপ্রক্রিয়াকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে। এর ফলে ওজন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সুবিধা হতে পারে।
দৈনন্দিন জীবনে ছোট কিছু অভ্যাস গড়ে তুলেও শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ানো সম্ভব। যুক্তরাজ্যের লফবরো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আমান্ডা ডেলির পরামর্শ, গন্তব্য থেকে কিছুটা দূরে গাড়ি পার্ক করে হেঁটে যাওয়া এবং লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করার মতো অভ্যাস তৈরি করা যেতে পারে। এ ছাড়া প্রতিদিন হাঁটার ক্ষেত্রেও ১০ হাজার পদক্ষেপের লক্ষ্য পূরণ করতে না পারলে হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে প্রায় ২ হাজার ৫১৭ থেকে ২ হাজার ৭৩৫ কদম হাঁটলেও দৈনিক ২ হাজার কদম হাঁটার তুলনায় হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ১১ শতাংশ কমতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকতে ভারী ব্যায়াম বা জিমের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না হয়ে নিয়মিত শরীর সচল রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যকলাপের লক্ষ্য রাখা উচিত। তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও অল্প সময়ের ব্যায়াম দিয়ে শুরু করা উপকারী। তাই কাজের ফাঁকে কয়েক মিনিট হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার কিংবা ঘরের কাজে সক্রিয় থাকার মতো ছোট পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ জীবনযাপনে সহায়ক হতে পারে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
টি/