
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
বিয়ে মানবজীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এটি শুধু দুটি মানুষের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন নয়, বরং নতুন একটি পরিবার গঠন এবং সারাজীবন একসঙ্গে পথচলার অঙ্গীকার। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে জীবনসঙ্গী নির্বাচনে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বাহ্যিক সৌন্দর্য, অর্থসম্পদ ও সামাজিক মর্যাদার পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধ, উত্তম চরিত্র ও মানসিকতার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। ইসলামে পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এসব গুণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ধার্মিকতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘চারটি বিষয় দেখে কোনো নারীকে বিয়ে করা হয়: তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য এবং তার ধার্মিকতা। সুতরাং তুমি ধার্মিক নারীকে লাভ করে বিজয়ী হও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৯০)। এ হাদিসের আলোকে বিয়ের ক্ষেত্রে সৌন্দর্য, সম্পদ ও বংশমর্যাদার পাশাপাশি ধার্মিকতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একইভাবে পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আল্লাহভীরুতাকে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন।
জীবনসঙ্গী নির্বাচনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উত্তম চরিত্র। শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করাই যথেষ্ট নয়; একজন মানুষের সততা, ধৈর্য, দায়িত্ববোধ, আচার-আচরণ ও অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মানসিকতাও বিবেচনা করা জরুরি। এ বিষয়ে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কাছে এমন কোনো পাত্রের বিয়ের প্রস্তাব আসে, যার ধার্মিকতা ও চরিত্রের ব্যাপারে তোমরা সন্তুষ্ট, তখন তার সঙ্গে তোমাদের মেয়েদের বিয়ে দাও। যদি তা না করো, তবে পৃথিবীতে বড় ধরনের ফিতনা ও ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১০৮৪)।
জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তৃতীয় বিষয় হলো পারস্পরিক সমতা বা সামঞ্জস্য। ইসলামী ফিকহের পরিভাষায় একে ‘কুফু’ বলা হয়। সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য পাত্র-পাত্রী উভয়ের মধ্যে চিন্তাভাবনা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারিবারিক পরিবেশ, শিক্ষা, পেশা ও সামাজিক অবস্থানের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হানাফি ফিকহে বিয়ের ক্ষেত্রে কুফুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া ও পারিবারিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু বাহ্যিক আকর্ষণ বা আর্থিক অবস্থানকে প্রাধান্য না দিয়ে ধার্মিকতা, উত্তম চরিত্র ও পারস্পরিক সামঞ্জস্যের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। কারণ দাম্পত্য জীবন দীর্ঘ পথচলার নাম। সেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্ববোধ, বিশ্বাস ও বোঝাপড়াই একটি সুন্দর পরিবার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
টি/