
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
সন্তান মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার। কারও ঘরে একসঙ্গে দুই সন্তান জন্ম নেয়, কারও হয় ছেলে, আবার কারও হয় মেয়ে। কেউ ছেলে ও মেয়ে উভয় সন্তান লাভ করেন, আবার কেউ নিঃসন্তান থাকেন। মানুষের জীবনে এই বৈচিত্র্য মহান আল্লাহর নিদর্শন। আল্লাহর নির্ধারিত এই ব্যবস্থার পরিবর্তন করার ক্ষমতা কারও নেই। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তিনি যাকে ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন। অথবা তাদের দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন।’ (সুরা শুরা, আয়াত: ৪৯-৫০)
কন্যাসন্তান মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত ও নেয়ামত। ইসলাম কন্যাসন্তানকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে এবং তাদের প্রতি অবহেলা ও বৈষম্যকে নিরুৎসাহিত করেছে। জাহেলি যুগে কন্যাসন্তান জন্মের সংবাদ শুনে অনেক বাবার মুখ কালো হয়ে যেত, এমনকি কেউ কেউ মেয়েশিশুকে জীবিত পুঁতে ফেলত। ইসলাম এ ধরনের ঘৃণ্য প্রথা নিষিদ্ধ করে নারী ও কন্যাসন্তানকে সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে বর্তমান সমাজেও কোথাও কোথাও মেয়ে জন্মালে মা-বাবার মন খারাপ হতে দেখা যায়। ছেলে না হওয়ার কারণে স্ত্রীকে কটূক্তি করাও অনুচিত। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘তাদের কাউকে যখন সংবাদ দেওয়া হয় সেই সন্তানের (মেয়ে), যা তারা দয়াময় আল্লাহর প্রতি আরোপ করে, তখন তার মুখমণ্ডলে কালিমা ছেয়ে যায়, আর মন দুঃখ-বেদনায় ভরে যায়।’ (সুরা জুখরুফ, আয়াত: ১৭)
রাসুলুল্লাহ (সা.) কন্যাসন্তানের লালন-পালন, তাদের প্রতি মমতা প্রদর্শন এবং ভরণপোষণের ব্যাপারে বিশেষ ফজিলতের কথা জানিয়েছেন। কন্যাসন্তানকে ভালোবাসা, তাদের দায়িত্ব পালন এবং সুন্দরভাবে মানুষ করার মাধ্যমে জান্নাত লাভের সুসংবাদ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার তিনজন কন্যাসন্তান হবে আর সে তাদের আবাসের ব্যবস্থা করবে, মমতা প্রদর্শন করবে এবং তাদের ভার বহন করবে, তার জান্নাত নিশ্চিত। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, যদি দুজন হয়? বললেন, দুজন হলেও। বর্ণনাকারী বলেন, সাহাবিরা কারও কারও ধারণা হলো, যদি কেউ বলত একজন হলে? তাহলে নবীজি বলতেন, একজন হলেও।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ১৪২৪৭)
প্রতিটি মুমিন-মুসলমানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা জান্নাত লাভ করা। কন্যাসন্তান কিংবা বোনদের সঙ্গে উত্তম আচরণ এবং তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে জান্নাত অর্জনের সুসংবাদ দিয়েছেন মহানবী (সা.)। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের কারও যদি তিন মেয়ে কিংবা তিন বোন থাকে আর সে তাদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করে, তাহলে সে জান্নাতে যাবে।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৯১২) অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার তিনটি মেয়ে কিংবা তিনজন বোন অথবা দুটি মেয়ে বা দুজন বোন রয়েছে, আর তাদের সঙ্গে সে ভালো ব্যবহার করেছে এবং তাদের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করেছে তাহলে তার জন্য রয়েছে জান্নাত।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৯১৬)
কন্যাসন্তানকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত স্নেহ-মমতা দিয়ে লালন-পালন করার ফজিলতও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেয়ামতের দিন মানুষের অবস্থা হবে ভয়াবহ। এ দিনের বর্ণনায় আল্লাহ বলেন, ‘সেদিন মানুষ বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মতো হবে।’ (সুরা কারিয়াহ, আয়াত: ৪)। এমন কঠিন দিনে কন্যাসন্তানকে যত্নসহকারে বড় করে তোলার প্রতিদান হিসেবে মহানবী (সা.)-এর সান্নিধ্য লাভের সুসংবাদ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে দুটি মেয়েকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করবে, কেয়ামতের দিন আমি এবং সে এ দুটি আঙুলের মতো পাশাপাশি আসব (এরপর তিনি তার আঙুলগুলো মিলিত করে দেখালেন)।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৩১) তাই কন্যাসন্তানকে বোঝা মনে না করে আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত হিসেবে গ্রহণ করা এবং ভালোবাসা, যত্ন ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তাদের লালন-পালন করা প্রত্যেক মা-বাবার কর্তব্য।
টি/