
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে ইরান ও তাদের মিত্ররা হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমন কোনো হামলা হলে পাল্টা জবাবে ‘মাত্রাতিরিক্ত’ সামরিক আঘাত হানা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। রোববার (২৫ অক্টোবর) ইসরাইলের একটি অ্যারো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাঁটি পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন নেতানিয়াহু। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে তাঁর এই বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইলি গোয়েন্দাদের কাছে এমন তথ্য রয়েছে, যার ভিত্তিতে ইরান ও তাদের মিত্রদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির সামরিক বাহিনী আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—উভয় ধরনের অভিযান পরিচালনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ইরানকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ইসরাইলকে পরীক্ষা করার চেষ্টা করলে তার কঠোর মূল্য দিতে হবে। তাঁর ভাষায়, ইসরাইল যতটা শক্তিশালী, প্রতিপক্ষ তা ধারণাও করতে পারবে না। সম্ভাব্য হামলার জবাবে ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যেও উত্তেজনা বেড়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, ওই রাতে ইরানে হামলা চালানো হবে না। তবে এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আবারও ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘এপিক ফিউরি’। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি করবে, নাকি দেশটিকে পুরোপুরি পরাস্ত করবে—সেটিই এখন মূল বিষয়। তাঁর দাবি, দুই ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হবে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলেও তেহরানের বর্তমান নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। তেহরানে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে তিনি ইতোমধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ভাবছেন। তাঁর বক্তব্য, এর আগে দুই দফা হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষ কী অর্জন করেছে, তা তাদের পর্যালোচনা করা উচিত। আবার হামলা চালানো হলে আগের চেয়ে ভিন্ন কোনো ফল পাওয়া যাবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ইসরাইলের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা, নেতানিয়াহুর কঠোর সামরিক হুঁশিয়ারি এবং ট্রাম্পের নতুন অভিযানের ইঙ্গিত—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। একদিকে ইসরাইল সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুতির কথা বলছে, অন্যদিকে ইরানও তাদের অবস্থান থেকে সরে না আসার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হবে, নাকি সংঘাত আবারও তীব্র হবে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পরবর্তী সিদ্ধান্তই পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।
টি/