
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
বর্তমান বিশ্বে নীরবে ছড়িয়ে পড়া রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম ফ্যাটি লিভার। এর আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের নাম ‘মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ’ (MASLD)। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি তিনজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রায় একজন এ সমস্যায় আক্রান্ত। সাধারণত স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং কায়িক পরিশ্রমহীন জীবনযাত্রার কারণে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে এ রোগের সৃষ্টি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত হাঁটা ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ভারতের শালিমার বাগের ফোর্টিস হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের প্রধান ড. রমেশ গর্গের মতে, হাঁটার মাধ্যমে লিভারে জমে থাকা চর্বি কমানো সম্ভব। মাঝারি মাত্রার অ্যারোবিক ব্যায়াম হিসেবে হাঁটা শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায়, পেশির গ্লুকোজ ব্যবহারের ক্ষমতা উন্নত করে এবং অতিরিক্ত চর্বি ও প্রদাহ
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা লিভারসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সপ্তাহে অন্তত ১৫০ থেকে ৩০০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কসরতের পরামর্শ দেন। সে হিসেবে সপ্তাহের অধিকাংশ দিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট দ্রুত হাঁটা কার্যকর হতে পারে। তবে যারা নিয়মিত হাঁটেন না, তাদের অল্প সময় দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে সময় ও গতি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার, কাজের ফাঁকে হাঁটা কিংবা খাবারের পর কিছুক্ষণ হাঁটার মতো ছোট অভ্যাসও দৈনন্দিন শারীরিক সক্রিয়তা বাড়াতে পারে।
তবে শুধু হাঁটলেই ফ্যাটি লিভার পুরোপুরি ভালো হয়ে যাবে—এমনটা নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাঁটার পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস জরুরি। শরীরের ওজন প্রায় ৫ শতাংশ কমাতে পারলে লিভারে জমা চর্বি কমতে শুরু করতে পারে, আর ৭ থেকে ১০ শতাংশ ওজন কমাতে পারলে প্রদাহ ও শুরুর দিকের লিভার ক্ষতি কমার সম্ভাবনা বাড়ে। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, হোল গ্রেইন ও চর্বিহীন প্রোটিন রাখার পাশাপাশি অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট এড়িয়ে চলা এবং সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম করাও উপকারী।
ফ্যাটি লিভারের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেরই কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে রোগটি নীরবে বাড়তে বাড়তে লিভারে ফাইব্রোসিস, সিরোসিস, এমনকি লিভার ফেইলিউর ও লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা উচ্চ কোলেস্টেরলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা ও প্রয়োজন অনুযায়ী আল্ট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে লিভারের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ড. রমেশ গর্গের ভাষায়, প্রতিদিনের প্রতিটি পদক্ষেপই গুরুত্বপূর্ণ—নিয়মিত ব্রিস্ক ওয়াকিং লিভারের সুস্থতার জন্য একটি বড় বিনিয়োগ।
/টি