
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
নির্বাচনে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ার পর এবার সরকার গঠনের পথেও বড় ধাক্কা খেলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র অতি-গোঁড়া ইহুদিদের দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম এবার তার পাশে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দলটি জানিয়েছে, নতুন সরকার গঠনের জন্য তারা নেতানিয়াহুর নাম সুপারিশ করবে না। এতে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা বেড়েছে। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের মতো আলোচনা করছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। নির্বাচনে নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকট—কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি। আগের পাঁচটি নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়া ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম এবার কোনো নেতার নামই সুপারিশ করেনি। ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে দলটির আসনসংখ্যা সাত। তবে দলটি আইজেনকটকেও সমর্থন দেয়নি।
দলটির এই অবস্থানের পেছনে ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নেতানিয়াহুর কাছে এই সুবিধা বহাল রাখার দাবি জানিয়ে আসছে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও শাস পার্টি। তবে গাজা, লেবানন ও ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে ইসরায়েলের সংরক্ষিত সেনাদের বারবার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের আইনপ্রণেতা আইজ্যাক পিনড্রাস জানিয়েছেন, নতুন সরকার গঠিত হলে তোরাহ শিক্ষার্থীদের অবস্থান নির্ধারণের বিষয়টি সমাধান করাই হবে তাদের প্রথম কাজ।
অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট মধ্যপন্থি ও মধ্য-ডানপন্থি দলগুলোকে নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করছেন। বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের অব্যাহতি বন্ধের বিষয়ে তিনি অনড়। নতুন পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ৫৩, যার মধ্যে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের আসনও রয়েছে। অন্যদিকে আইজেনকটের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। এ ছাড়া ইসরায়েলের আরব দলগুলোর আসন বেড়ে ১৯-এ দাঁড়িয়েছে। এসব দলের সমর্থন পেলে আইজেনকটের সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যদিও এতে বিরোধী জোটের কিছু সমর্থন হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রেসিডেন্ট হারজগ একজন আইনপ্রণেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন। সাধারণত সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দলের সমর্থন পাওয়া নেতাকেই এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। সে হিসাবে আইজেনকটের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। দায়িত্ব পাওয়ার পর সরকার গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতা ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো হতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের এই অবস্থান নেতানিয়াহুর ওপর চাপ তৈরির কৌশলও হতে পারে। শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু সরকার গঠনে সফল হলে দলটি তার জোটে ফিরতে পারে।
টি/