
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআরসি) বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত শহর বুকাভুর একটি স্কুল ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যম ও চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের রেডিও ওকাপি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কিভু প্রদেশের রাজধানী বুকাভুর চিম্পুন্ডা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে বিদ্রোহী প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নিহতের সংখ্যা ২৪ বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে উজামা ও ফুরাহা প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং এর কাছাকাছি একটি বসতিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়াবহ আতঙ্ক ও পদদলনের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় নেতা প্যাট্রিস বুডুগে এএফপিকে বলেন, আগুন থেকে বাঁচতে শিক্ষার্থীরা একে অপরের ওপর দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং অনেকে বিপজ্জনক পথ
বিদ্রোহী প্রশাসনের কর্মকর্তা দুনিয়া মাসুমবুকো বওয়েঙ্গে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ২৪ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৯ জন মেয়ে ও পাঁচজন ছেলে। এ ছাড়া আরও ২৯ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় একটি ক্লিনিকের নার্স ক্রিস্টোফ জিগাশানে জানান, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৪ জন শিশু। তিনি বলেন, প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ও কয়েকজন শিক্ষককে শ্বাসরোধজনিত গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
অগ্নিকাণ্ডে স্কুলের পাশাপাশি আশপাশের বহু বাড়িতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আল জাজিরার যাচাই করা ভিডিওতে বেশ কয়েকটি বাড়ি ও দুটি স্কুলে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগুনে ৩০০ থেকে ৫০০টি বাড়ি এবং একটি ক্লিনিকও পুড়ে গেছে। ধোঁয়া শ্বাস নেওয়ার কারণে বেশ কয়েকজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে এখন পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা জানা যায়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বুকাভুতে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গত রোববারের একটি অগ্নিকাণ্ডে ৪৫টিরও বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়। গত বছর পূর্ব ডিআরসিতে এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আকস্মিক অভিযানের পর থেকে বুকাভু তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এই এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সর্বশেষ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা