
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
বিশ্ব রাজনীতিতে এখন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। প্রথাগত রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জায়গা করে নিচ্ছেন তরুণ প্রজন্ম। বিশেষ করে, বিশ্বজুড়ে কম বয়সী নারী সংসদ সদস্যদের (এমপি) আগমন রাজনীতিতে নতুন এক যুগের সূচনা করেছে। পুরুষতান্ত্রিক ও প্রবীণ-নির্ভর রাজনীতির দীর্ঘদিনের বৃত্ত ভেঙে এসব তরুণী নিজ নিজ দেশের সংসদে তুলে ধরছেন সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর। তাদের এই সাহসী যাত্রা বিশ্বজুড়ে কোটি তরুণীর জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।
বিশ্বের ইতিহাসে কনিষ্ঠতম নারী সংসদ সদস্যদের তালিকায় শীর্ষস্থানগুলোর একটিতে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্লিও উইলস্কুট । মাত্র ২০ বছর বয়সে দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে যোগ দিয়ে তিনি ইতিহাস গড়েন। নিউজিল্যান্ডের হানা-রাহিতি মাইপি-ক্লার্ক ২১ বছর বয়সে দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদে
আফ্রিকা ও এশিয়ার রাজনীতিতেও তরুণীদের এই জয়যাত্রা সমানভাবে দৃশ্যমান। নামিবিয়ার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ইতিহাস গড়েন পেশেন্স মাসুয়া । ঠিক একই বয়সে ঘানার পার্লামেন্টে নির্বাচিত হয়ে নজির গড়েন ফ্রান্সেসকা ওতেং মেনসাহ । অন্যদিকে, কেনিয়ার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ২৪ বছর বয়সে পা রাখেন লাইনেত চেপকোরির । আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি; ওড়িশার ২৫ বছর বয়সী আদিবাসী তরুণী চন্দ্রমণি মুর্মু ভারতের লোকসভার ইতিহাসে কনিষ্ঠতম নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।
পাশ্চাত্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উন্নত দেশগুলোতেও কম বয়সী নারীরা নেতৃত্বের অগ্রভাগে থাকছেন। যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে মাত্র ২৪ বছর বয়সে জায়গা করে নেন নাদিয়া হুইটম , যাকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের 'বেবি অব দ্য হাউস' বলা হতো। এছাড়া সিঙ্গাপুরের পার্লামেন্টে ২৬ বছর বয়সে নির্বাচিত হয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন তরুণী নেত্রী রাইসা খান । জলবায়ু পরিবর্তন, লিঙ্গ সমতা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের মতো আধুনিক ও বৈশ্বিক সংকটগুলো নিয়ে এই তরুণ এমপিরা দেশের সর্বোচ্চ আইনসভায় প্রতিনিয়ত জোরালো ভূমিকা রাখছেন।
ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৈশ্বিক রাজনীতিতে তরুণী ও নারীদের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। কম বয়সী এই নারী সংসদ সদস্যদের সংসদে উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কেবল দীর্ঘ অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই, বরং অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও দূরদর্শিতাই যথেষ্ট।
/টি