
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ভয়াবহ বিমান হামলা, অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু!
বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে ঠিক কী ঘটছে, তা নিয়ে এখন চারদিকে এক জমাট বাঁধা রহস্য আর আতঙ্ক। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে একের পর এক বিমান হামলা এবং লাগাতার বোমা বর্ষণ কি কেবলই একটি দেশের অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধ, নাকি এটি বাংলাদেশের সীমান্তসহ সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মানবিক স্থিতিশীলতার জন্য এক বিরাট রহস্যময় হুমকি? গত সোমবার বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের কিয়াউকতাও শহরে জান্তা বাহিনীর ফাইটার জেট থেকে ফেলা বোমাগুলো যখন একটি জনবহুল বাজারকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছিল, তখন সেই আগুনের আঁচ এসে লেগেছে বাংলাদেশের সীমান্তবাসীদের বুকেও। এই হামলায় নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫০ জন নিরীহ
সেদিন সকালটা আর দশটা দিনের মতোই সাধারণ ছিল। টেকনাফ আর নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্ত ঘেঁষা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যখন নিজেদের প্রতিদিনের কাজে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ওপার থেকে ভেসে আসে এক বিকট ও বুক কাঁপানো শব্দ। চোখের পলকে আকাশ কাঁপিয়ে মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর ফাইটার জেটগুলো ছুটে আসে বাংলাদেশ সীমান্তের একদম কাছাকাছি।
টার্গেট ছিল একটি ব্যস্ত নদী তীরবর্তী বাজার, যেখানে রাখাইন, রোহিঙ্গা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় ২০০টিরও বেশি দোকান ছিল। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আকাশ থেকে নেমে আসে জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ড। মুহুর্মুহু বোমায় মুহূর্তের মধ্যে পুরো বাজারটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। চারদিকে শুধু রক্ত, ছিটকে পড়া মানবদেহ আর বাঁচার আকুল আর্তনাদ। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান অন্তত ৫০ জন মানুষ, আর ৫৮ জনেরও বেশি মানুষ হাত-পা হারিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ।
ওপারের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সরাসরি আঘাত হানছে বাংলাদেশের সীমান্তে। নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থী অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) সীমান্ত জুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। নাফ নদী এবং স্থল সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা কড়া টহল জোরদার করা হয়েছে।
ওপারে যখন নিষ্পাপ মানুষের রক্তে নাফ নদীর জল রাঙা হয়, এপারে তখন বাংলাদেশ এক বিশাল মানবিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রহর গোনে। জাতিসংঘ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তবে বিশ্বনেতাদের কেবল নিন্দা প্রকাশের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে মিয়ানমারের এই লাগামহীন যুদ্ধাপরাধ বন্ধে এখনই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবেই হয়তো এই অঞ্চলের আকাশে আবার শান্তির সুবাতাস বইবে।