
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ব্যাপক আর্থিক সংকট, জনপ্রিয় ডিজিটাল ব্যাংকের পতন এবং তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক রেকর্ড করা ভিডিও বার্তায় তিনি এ ঘোষণা দেন। দেশটির ডিজিটাল ব্যাংক ‘উয়েনো’ ধসে পড়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠলে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
ভিডিও বার্তায় পেনা বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উয়েনো ব্যাংকের আর্থিক বিপর্যয়ের কারণে প্রায় ৬৫ লাখ জনসংখ্যার দেশটির প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহক নিজেদের ব্যাংক হিসাবের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ হারিয়েছেন। ব্যাংকটি সরকারের প্রায় ৮৫ কোটি ডলারের তহবিল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বেও ছিল।
ব্যাংকটির পতনকে কেন্দ্র করে দেশটির আর্থিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়। গত মঙ্গলবার প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে উয়েনো ব্যাংকের আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। বিরোধী দলগুলো কংগ্রেসে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেয়। পাশাপাশি রাজপথে বিক্ষোভ চলতে থাকে এবং নিজ দলের রক্ষণশীল নেতাদের একটি অংশের সমর্থনও হারান পেনা।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে নির্বাচিত অর্থনীতিবিদ সান্তিয়াগো পেনা অতীতে উয়েনো ব্যাংকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘গ্রুপো ভাসকেজ’-এর শেয়ারহোল্ডার ছিলেন। ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা ছিল। আইনপ্রণেতারা ব্যাংকটির বিপর্যয়ের পেছনে পেনার স্বার্থের সংঘাত এবং পেনশন তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন পেনা। তাঁর দাবি, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ।
পেনার পদত্যাগ কার্যকর করতে দেশটির সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে কংগ্রেসের অধিবেশন বসার কথা ছিল। পদত্যাগ অনুমোদিত হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির চলমান আর্থিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ক্ষমতার এই পরিবর্তন প্যারাগুয়ের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স