logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/লাইফস্টাইল
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখবে যেসব পানীয় - image

গরমে শরীর ঠান্ডা রাখবে যেসব পানীয়

05 মে 2026, বিকাল 4:05

গ্রীষ্মের তপ্ত রোদে জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন সুস্থ থাকাটাই হয়ে দাঁড়ায় বড় চ্যালেঞ্জ। চিকিৎসকদের মতে, এই মৌসুমে শরীরকে হিটস্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা করতে সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। পর্যাপ্ত পানির পাশাপাশি প্রথাগত ও দেশি পানীয় গ্রহণ করলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া যায়।অত্যধিক গরমে বেলের শরবত হতে পারে আপনার সেরা সঙ্গী। ফাইবার, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ বেলের শরবত শুধু শরীরকে তাৎক্ষণিক শীতলই করে না, বরং এটি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে এবং গরমজনিত পেটের সমস্যা দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। নিয়মিত এই শরবত পান করলে তীব্র তাপদাহেও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট থাকে।শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে এবং ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে আখের রস ও ছাতুর শরবতের বিকল্প নেই। আখের রসে থাকা প্রাকৃতিক গ্লুকোজ ক্লান্তি দূর করে শরীরকে সতেজ করে তোলে। অন্যদিকে, প্রোটিন ও ফাইবারে ভরপুর ছাতুর শরবত দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখার পাশাপাশি শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখে, যা বাইরের রোদে কাজ করা মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী।ঐতিহ্যবাহী পানীয় হিসেবে ঠান্ডাই ও জিরাপানি গ্রীষ্মের দুপুরে আনে প্রশান্তি। দুধ ও শুকনো ফল দিয়ে তৈরি ঠান্ডাই যেমন পুষ্টি জোগায়, তেমনি ভাজা জিরা, পুদিনা ও বিট লবণের সংমিশ্রণে তৈরি জিরাপানি হজমশক্তি বাড়িয়ে শরীরকে সজীব রাখে। এই পানীয়গুলো শরীরে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং গরমের ক্লান্তি দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে।পরিশেষে, কৃত্রিম ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের বদলে ঘরে তৈরি এসব প্রাকৃতিক পানীয় বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। গরমে সুস্থ থাকতে প্রচুর পানি পান করার পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই দেশি পানীয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করলে তা আপনাকে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করবে এবং সারা দিন কাজের উদ্যম বজায় রাখতে সাহায্য করবে।/টিএ

মে ০৫, ২০২৬

প্রতিদিন ১৫ মিনিট খালি পায়ে হাঁটার উপকারিতা

আধুনিক নগরজীবনে জুতো আমাদের নিত্যসঙ্গী হলেও সুস্থতার খোঁজে মানুষ এখন ফিরে যাচ্ছে আদি অভ্যাসে। খালি পায়ে হাঁটা কেবল একটি প্রাচীন জীবনযাপনের পদ্ধতি নয়, বরং এটি বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে একটি কার্যকর ব্যায়াম হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শত শত বছর ধরে মানুষ খালি পায়ে চলাফেরা করলেও বর্তমানের গবেষণায় এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ও প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে আসছে।চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের পায়ের তলার সাথে শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের সরাসরি স্নায়বিক সংযোগ রয়েছে। ইমিউনোলজি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, খালি পায়ে হাঁটার সময় পায়ের পাতায় যে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়, তা শরীরের অভ্যন্তরীণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে অসমতল ভূমি বা প্রাকৃতিক সংস্পর্শে হাঁটা শরীরের স্নায়ুগুলোকে সজাগ করে তোলে, যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখে।মানসিক প্রশান্তির ক্ষেত্রেও এই অভ্যাসের জুড়ি নেই। ঘাস, পাথর কিংবা ভেজা মাটির ওপর দিয়ে হাঁটা মানসিক চাপ বা স্ট্রেস দ্রুত কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের জন্য নরম ঘাসের ওপর হাঁটার পরামর্শ দেন। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি পায়ের পাতার সঠিক গঠন তৈরিতে সাহায্য করে এবং 'ফ্ল্যাট ফুট' হওয়ার ঝুঁকি কমায়। অন্যদিকে, বয়স্কদের শারীরিক ভারসাম্য ও মানসিক সতেজতা রক্ষায় এটি বেশ কার্যকর।তবে সুফলের পাশাপাশি কিছু সতর্কতার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। হেলথলাইনের তথ্যমতে, অস্বাস্থ্যকর বা অপরিচ্ছন্ন স্থানে খালি পায়ে হাঁটলে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়। বিশেষ করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক থেকে বাঁচতে স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। এছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে পায়ের ক্ষতের ঝুঁকি থাকায়, এই অভ্যাস শুরু করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।শুরুতেই দীর্ঘক্ষণ খালি পায়ে না হেঁটে বরং শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিদিন মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট দিয়ে এই যাত্রা শুরু করা যেতে পারে। পরবর্তীতে শরীরের সহনশীলতা বাড়লে ধীরে ধীরে এই সময়সীমা বাড়ানো সম্ভব। সঠিক নিয়ম ও পরিচ্ছন্নতা মেনে চললে প্রকৃতির এই সহজ ছোঁয়া আমাদের দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার চাবিকাঠি হতে পারে।

এপ্রিল ৩০, ২০২৬

বৃষ্টির দিনে তৈরি করুন 'সবজির আচারি খিচুড়ি'

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর সেই পার্বণের তালিকায় বৃষ্টির দিনের 'খিচুড়ি উৎসব' যেন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্ষার মেঘলা আকাশ আর টিনের চালে বৃষ্টির ঝমঝম শব্দের সাথে ধোঁয়া ওঠা খিচুড়ির ঘ্রাণ বাঙালির চিরচেনা আবেগ। কেবল স্বাদে নয়, পুষ্টিগুণেও খিচুড়ি অতুলনীয়। তাই এই বর্ষায় একঘেয়েমি কাটাতে আর ঘরোয়া আড্ডায় ভিন্নতা আনতে আপনিও সহজে রান্না করতে পারেন জিভে জল আনা 'সবজির আচারি খিচুড়ি'।খিচুড়ি রান্নার প্রতি বাঙালি নারীদের বিশেষ এক মমতা কাজ করে। বিশেষ করে বৃষ্টির দিন এলে যেন রান্নাঘরে শুরু হয় এক উৎসবের আমেজ। আচারি খিচুড়ির বিশেষত্ব হলো এর টক-ঝাল-মিষ্টি স্বাদ, যা সাধারণ সবজি খিচুড়িকে করে তোলে অনন্য। আধ কেজি নাজিরশাইল চালের সাথে এক কাপ ডাল এবং আধ কাপ করে পেঁপে, বরবটি, গাজর ও ফুলকপি কিউব করে কেটে নিলেই রান্নার মূল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। সাথে বাড়তি স্বাদ যোগ করতে প্রয়োজন এক কাপ টক-মিষ্টি আমের আচার।রান্নার শুরুতে চাল আধ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে এবং সবজিগুলো হালকা সেদ্ধ করে নিতে হবে। এরপর চুলায় আধ কাপ তেল গরম করে তাতে রসুন কুচি, পেঁয়াজ কুচি, শুকনো মরিচ ও পাঁচফোড়ন দিয়ে বাদামি করে ভেজে নিতে হবে। এরপর হলুদ, জিরা, মরিচ গুঁড়ো এবং আদা বাটা দিয়ে সামান্য পানিতে মশলাটি ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে। এই মশলার সুগন্ধই মূলত খিচুড়ির আসল স্বাদ নির্ধারণ করে।মশলা কষানো হলে সেদ্ধ সবজি, চাল ও ডাল দিয়ে ভালো করে কষিয়ে পরিমাণমতো পানি দিয়ে ২০ মিনিট দমে রাখতে হবে। এই পর্যায়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখলে সবজির পুষ্টি ও চালের সুগন্ধ অটুট থাকে। চাল পুরোপুরি সেদ্ধ হয়ে এলে রান্নার শেষ চমক হিসেবে পুরো খিচুড়িতে টক-মিষ্টি আমের আচার ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। আচারের টক স্বাদ আর সবজির মিষ্টতা মিলে তৈরি হবে এক রাজকীয় স্বাদ।গরম গরম এই আচারি খিচুড়ি শুধু রসনা তৃপ্তিই দেয় না, বরং ঘরোয়া আড্ডায় যোগ করে বাড়তি আনন্দ। বৃষ্টির দিনে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এক থালা ধোঁয়া ওঠা সবজির আচারি খিচুড়ি আর সাথে যদি থাকে একটু বেগুন ভাজা বা ডিম ভাজি, তবে সেই দুপুরের তৃপ্তি আর কিছুর সাথেই তুলনা করা যায় না। তাই দেরি না করে আজই আপনার রান্নাঘরে তৈরি করে ফেলুন দারুণ এই রেসিপিটি।/টিএ

এপ্রিল ২৯, ২০২৬

বজ্রপাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে যা করবেন

বর্ষা মৌসুমে প্রকৃতির সজীবতার পাশাপাশি বর্তমানে বজ্রপাত এক ভয়াবহ আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম বজ্রপাতপ্রবণ দেশ, যেখানে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় মাত্র কয়েক দিনে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু এই দুর্যোগের ভয়াবহতাকে আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। বজ্রপাত কেবল প্রাণঘাতীই নয়, এটি শরীরে দীর্ঘস্থায়ী পঙ্গুত্ব, শ্রবণশক্তি হ্রাস এবং হৃদরোগের মতো জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।বজ্রপাতের সময় ঘরের ভেতরে থাকাটাই সবচেয়ে নিরাপদ, তবে সেখানেও কিছু নিয়ম মানা জরুরি। বজ্রঝড় শুরু হলে দ্রুত ঘরের জানালা ও দরজা বন্ধ করে দিতে হবে। এই সময়ে ল্যান্ডফোন বা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ বৈদ্যুতিক লাইনের মাধ্যমে বজ্রপাতের প্রভাব ঘরের ভেতর ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়া পানি বিদ্যুতের সুপরিবাহী হওয়ায় এই সময়ে গোসল করা, পানির কল ব্যবহার করা বা জলাধারের সংস্পর্শে থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক।যদি আপনি বজ্রপাতের সময় খোলা আকাশের নিচে থাকেন, তবে কখনোই বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেবেন না। উঁচু গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটি বজ্রপাতকে আকর্ষণ করে, যা কাছে থাকা ব্যক্তির জন্য মৃত্যুর কারণ হতে পারে। খোলা মাঠে থাকলে নিচু হয়ে বসে পড়ুন, তবে মাটিতে শুয়ে পড়বেন না। রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে রাবারের সোলযুক্ত জুতা পরা কিছুটা সুরক্ষা দেয়। গাড়ির ভেতরে থাকলে জানালার কাঁচ বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান করাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।বজ্রপাতের ঝুঁকি এড়াতে ইলেকট্রনিক গ্যাজেট যেমন—মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার থেকে দূরে থাকা শ্রেয়। অনেক সময় ঝড় থেমে যাওয়ার পরও বজ্রপাতের আশঙ্কা থেকে যায়, তাই শেষ বজ্রধ্বনির অন্তত ৩০ মিনিট পর ঘর থেকে বের হওয়া নিরাপদ। এছাড়া শিশুদের এই দুর্যোগ সম্পর্কে সচেতন করা এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন যাতে তারা আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে পারে।প্রাকৃতিক এই দুর্যোগকে রুখে দেওয়ার ক্ষমতা মানুষের নেই, তবে সচেতনতা ও সঠিক প্রস্তুতিই পারে প্রাণহানি কমিয়ে আনতে। নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করা এবং বজ্রপাতের সময় ঘরের বাইরে না যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই হবে আত্মরক্ষার মূল কৌশল। মনে রাখবেন, সামান্য অবহেলা কেড়ে নিতে পারে একটি মূল্যবান জীবন, তাই মেঘের গর্জন শুনলেই নিরাপদ আশ্রয়ে থাকাকে অগ্রাধিকার দিন।/টিএ

এপ্রিল ২৮, ২০২৬

তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে যা করবেন

সারাদেশে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ, যা শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপাকে ফেলেছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং ক্রনিক রোগীদের জন্য এই আবহাওয়া চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। একটানা দাবদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং, যা পরিস্থিতিকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত তাপে শরীর নিজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে হিট স্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী সমস্যা দেখা দিতে পারে, তাই এই সময়ে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি।ঘরের তাপমাত্রা সহনীয় রাখতে দিনের বেলা রোদ আটকাতে জানালা বন্ধ রাখা এবং ভারী পর্দা বা ব্লাইন্ড ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সন্ধ্যার পর বাইরের তাপমাত্রা কমলে জানালা খুলে দিয়ে ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা উচিত। এছাড়া ঘরের অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক বাতি ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখলে অভ্যন্তরীণ তাপ অনেকটাই হ্রাস পায়। ঘরের মেঝে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছলে বা জানালার পর্দার ওপর পানি স্প্রে করলে প্রাকৃতিকভাবেই ঘর কিছুটা শীতল থাকে।গরমে স্বস্তি পেতে পোশাক ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃত্রিম তন্তুর বদলে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরিধান করা উচিত, যা ঘাম শুষে নিতে সাহায্য করে। দিনে অন্তত দুবার স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে গোসল করা এবং প্রয়োজনে বারবার ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মোছা উপকারী। তৃষ্ণা না পেলেও দিনে অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান নিশ্চিত করতে হবে; প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া শরীরে পানিশূন্যতার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়।তীব্র গরমে খাদ্যাভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এই সময়ে ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত মসলাদার এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো হজমে সমস্যা করে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় বা ক্যাফেইন শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে ফেলে, তাই ডাবের পানি বা বাড়িতে তৈরি ফলের শরবত বেশি কার্যকরী। ভারী খাবার বা ফ্যাটযুক্ত দুগ্ধজাত পণ্যের বদলে তরল ও সহজে হজমযোগ্য খাবার গ্রহণ করা এই সময়ে সবচেয়ে নিরাপদ।সবশেষে, গরমে হঠাৎ মাথা ঘোরা, প্রচণ্ড ক্লান্তি বা বমিভাব দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের এই গরমে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশনা অনুযায়ী, দুপুরের তীব্র রোদে বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকা এবং যথাযথ সচেতনতাই পারে এই প্রতিকূল আবহাওয়ায় পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে।তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস ম্যাগাজিন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)

এপ্রিল ২৫, ২০২৬

দুধের সঙ্গে যে ৬ খাবার হতে পারে বিপদের কারণ

আমাদের প্রাত্যহিক খাদ্যতালিকায় দুধকে 'সুষম খাদ্য' হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ক্যালসিয়াম, প্রোটিন এবং ভিটামিনের ভাণ্ডার এই পানীয়টি হাড়ের গঠন মজবুত করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অনন্য। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার জন্যই পুষ্টিবিদরা নিয়মিত দুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও নির্দিষ্ট কিছু খাবারের সঙ্গে দুধ গ্রহণ করলে তা শরীরের জন্য উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি ডেকে আনে।দুধের সঙ্গে অম্লজাতীয় বা সাইট্রাস ফল, বিশেষ করে লেবু খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড দুধের সংস্পর্শে এলে তা দ্রুত জমাট বেঁধে যায়, যা পেটে মারাত্মক অস্বস্তি তৈরি করে। এর ফলে হজমের গোলমাল, পেটব্যথা এবং বমির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধ পান করার অন্তত এক ঘণ্টা আগে বা পরে টকজাতীয় ফল খাওয়া উচিত।প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন মাছ বা মাংসের সঙ্গে দুধ পান করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। মাছ এবং দুধ উভয়েই উচ্চ প্রোটিনযুক্ত হওয়ায় এদের হজম প্রক্রিয়া ভিন্ন ধরনের হয়। এই দুটি খাবার একসঙ্গে খেলে পরিপাকতন্ত্রে বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়, যার ফলে ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিক বা ত্বকের অ্যালার্জি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একইভাবে সকালের নাশতায় দুধ ও কলার মিশ্রণ জনপ্রিয় হলেও, আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী এটি শরীরে কফের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং হজম শক্তিকে দুর্বল করে তোলে।খামিরযুক্ত খাবার বা দক্ষিণ ভারতীয় খাবার যেমন ইডলি ও দোসার সঙ্গে দুধ এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এই ধরনের ফার্মেন্টেড খাবারের সঙ্গে দুধ খেলে দ্রুত গ্যাস ও অ্যাসিডিটির সমস্যা তৈরি হয়। পাশাপাশি আমাদের অনেকেরই প্রিয় চকলেট বা কোকো পাউডার দুধে মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস আছে। তবে কোকোতে থাকা অক্সালেট দুধের ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হাড়ের ক্ষতি করতে পারে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় ফাস্টফুড যেমন পিৎজা, বার্গার বা চর্বিযুক্ত বিরিয়ানির পর দুধ পান করা স্বাস্থ্যের জন্য একটি 'বিপজ্জনক জুটি' হিসেবে পরিচিত। এই খাবারগুলো উচ্চ চর্বিযুক্ত হওয়ায় দুধের পুষ্টিগুণ শোষণ করতে শরীরকে বাধা দেয় এবং পেটে দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি তৈরি করে। সুতরাং, দুধের পূর্ণ পুষ্টি পেতে এবং শারীরিক জটিলতা এড়াতে এই ছয়টি খাবার থেকে দুধকে দূরে রাখাই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত।/টিএ

এপ্রিল ২২, ২০২৬

স্ত্রীকে গিফট করলে হার্ট সুস্থ থাকে, বলছে গবেষণা

দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীকে উপহার দেওয়া বা সারপ্রাইজ দেওয়া কেবল একটি সামাজিক সৌজন্য নয়, এর পেছনে রয়েছে চমৎকার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। সাম্প্রতিক মনোবিজ্ঞান ও কার্ডিওলজি গবেষণা বলছে, স্ত্রীকে নিয়মিত উপহার দেওয়া এবং তার হাসিমুখ দেখা স্বামীর মানসিক চাপ বা 'স্ট্রেস' উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। যখন একজন পুরুষ তার সঙ্গিনীকে খুশি করার চেষ্টা করেন, তখন তার মস্তিষ্কে 'ডোপামিন' ও 'অক্সিটোসিন' হরমোনের নিঃসরণ ঘটে, যা সরাসরি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস (UCLA)-এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রিয়জনকে উপহার দেওয়ার সময় দাতার রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন নাটকীয়ভাবে কমে যায়। একে গবেষকরা 'ওয়ার্ম গ্লো অব গিভিং' বা 'দানের উষ্ণ আভা' বলে অভিহিত করেছেন। এই ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।বিশেষজ্ঞরা জানান, অসুখী দাম্পত্য জীবনের দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিপরীতে, উপহার আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য থাকলে শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমে আসে। পিটসবার্গ ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, সুখী ও স্থিতিশীল সম্পর্কে থাকা পুরুষদের কার্ডিওভাসকুলার স্ট্রেস বা হৃদযন্ত্রের ধকল অন্যদের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম থাকে।উপহার মানেই খুব দামী কিছু হতে হবে এমন নয়; একটি ছোট ফুল, প্রিয় চকলেট বা সামান্য চিরকুটও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। উপহার দেওয়ার এই প্রবণতা দম্পতির মধ্যে বন্ধুত্বের দেয়াল মজবুত করে এবং এক ধরনের 'হেল্পার্স হাই' বা তৃপ্তি তৈরি করে। গবেষকদের মতে, যারা নিয়মিত প্রিয়জনকে উপহার দিয়ে আনন্দিত করেন, তারা অন্যদের তুলনায় দীর্ঘকাল সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হন।সুস্থ হার্ট এবং সুন্দর জীবনের জন্য দামী ওষুধের চেয়েও কার্যকরী হলো ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। আপনার সামান্য একটি উপহার যদি স্ত্রীর মুখে হাসি ফোটায়, তবে সেই হাসির রেশ আপনার হৃদযন্ত্রকেও রাখবে সুস্থ ও সবল। তাই হার্টের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আজই আপনার জীবনসঙ্গিনীকে বিশেষ কোনো উপহার দিয়ে চমকে দিন।/টিএ

এপ্রিল ১৮, ২০২৬

শরীরে ভিটামিনের অভাব? যে ৫টি লক্ষণ দেখে সতর্ক হবেন

বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে শরীরে ভিটামিনের অভাব একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুষ্টির এই ঘাটতিগুলো প্রাথমিক অবস্থায় খুব একটা প্রকট হয় না, ফলে আমরা তা এড়িয়ে যাই। কিন্তু শরীর প্রতিনিয়ত কিছু নীরব সংকেত বা লক্ষণের মাধ্যমে আমাদের সতর্ক করার চেষ্টা করে। এই মৃদু লক্ষণগুলো শনাক্ত করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।অকারণে ক্লান্তি বোধ করা ভিটামিনের অভাবের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। যদি পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও আপনি সারাদিন অবসাদ অনুভব করেন, তবে বুঝতে হবে আপনার শরীরে ভিটামিন বি১২ বা ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকতে পারে। এই উপাদানগুলো শরীরের শক্তি উৎপাদন এবং স্নায়বিক কার্যকারিতা সচল রাখতে অপরিহার্য। এই প্রাথমিক সংকেতটি উপেক্ষা করলে কর্মক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে।চুল পড়া এবং নখের ভঙ্গুরতাও পুষ্টির অভাবকে নির্দেশ করে। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চুল পড়া আয়রন, বায়োটিন বা ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির সংকেত হতে পারে। চুলের গোড়ায় প্রয়োজনীয় পুষ্টির সরবরাহ বিঘ্নিত হলে স্বাভাবিক বৃদ্ধি চক্র ব্যাহত হয়। একইভাবে, নখ যদি পাতলা হয়ে সহজে ভেঙে যায় কিংবা ত্বক অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে দেখায়, তবে তা শরীরে আয়রন বা ভিটামিন সি-এর অভাবের লক্ষণ।মুখের ভেতরের স্বাস্থ্যও শরীরের অভ্যন্তরীণ পুষ্টির অবস্থা জানান দেয়। অনেকেরই ঠোঁটের কোণে বারবার ঘা বা ফাটল দেখা দেয়, যা মূলত বি-কমপ্লেক্স ভিটামিন যেমন— বি২, বি৬ এবং বি১২-এর অভাবজনিত সমস্যা। ওপর থেকে কেবল ওষুধ ব্যবহার করে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া গেলেও আসল সমাধান লুকিয়ে আছে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টির ভারসাম্য নিশ্চিত করার মধ্যে।সবশেষে, হাত ও পায়ে ঝিনঝিন করা বা অসাড় বোধ হওয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত। এটি মূলত শরীরে ভিটামিন বি১২-এর তীব্র অভাবের কারণে স্নায়ুর ক্ষতির একটি প্রাথমিক সংকেত। এই লক্ষণটি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা ভবিষ্যতে গুরুতর স্নায়বিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই শরীরের এই নীরব ভাষাগুলো বুঝে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা সুস্থ থাকার জন্য অপরিহার্য।/টিএ

এপ্রিল ১৬, ২০২৬

হাম থেকে শিশুদের বাঁচাতে যেসব জানা জরুরি

দেশের বিভিন্ন জেলায় শিশুদের মধ্যে সম্প্রতি হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক বায়ুবাহিত রোগ যা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডা. লুৎফুন্নেসা সতর্ক করে জানিয়েছেন, হামের সংক্রমণ ক্ষমতা এমনকি কোভিড-১৯-এর চেয়েও বেশি; একজন আক্রান্ত শিশু সহজেই ১২ থেকে ১৮ জন সুস্থ শিশুকে সংক্রমিত করতে পারে।হামের প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, সর্দি, কাশি এবং চোখ লাল হওয়া। সংক্রমণের কিছুদিন পর কপাল থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ দেখা দেয়। তবে ভয়ের বিষয় হলো, হামের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। চিকিৎসকরা মূলত রোগের ফলে সৃষ্ট নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের সংক্রমণ) বা চোখের কর্নিয়ার আলসারের মতো জটিলতাগুলোর চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এসব জটিলতা প্রতিরোধে আক্রান্ত শিশুদের উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো জরুরি।বাংলাদেশে হাম প্রতিরোধের জন্য ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রথম ডোজের হার ৯০ শতাংশের বেশি হলেও দ্বিতীয় ডোজের ক্ষেত্রে অনেক অভিভাবকই অবহেলা করেন। বিশেষ করে পরিবারের বড় সন্তানের টিকার বিষয়টি অনেক সময় গুরুত্ব হারায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন না করলে শিশুর শরীরে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা তৈরি হয় না, যা ভবিষ্যতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।ডা. লুৎফুন্নেসা আরও জানান, নবজাতক শিশুরা মায়ের শরীর থেকে প্রাপ্ত অ্যান্টিবডির মাধ্যমে ৯ মাস পর্যন্ত সুরক্ষিত থাকে, যার ফলে এর আগে টিকা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে দেশের কিছু কিছু এলাকায় কুসংস্কারের কারণে এখনো টিকা নেওয়ার হার কম। এই ছোট ছোট জনপদ বা 'পকেট কমিউনিটি'গুলো সংক্রমণের বড় উৎস হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের মহামারি সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করছে।হামের টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এর কোনো গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। সামান্য জ্বর বা টিকা দেওয়ার স্থানে ব্যথার মতো সাধারণ উপসর্গ দেখা দিলেও তা কয়েক দিনেই সেরে যায়। তাই শিশুদের সুরক্ষায় সময়মতো এমএমআর টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। যদি কোনো কারণে টিকা দিতে দেরি হয়ে থাকে, তবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করে শিশুকে সুরক্ষিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এপ্রিল ১৫, ২০২৬

শিশু খেতে না চাইলে কী করবেন?

শিশু খাবার খেতে না চাইলে বেশিরভাগ অভিভাবকই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর অরুচি অনেক সময়ই সাময়িক এবং এটি সবসময় রোগের লক্ষণ নয়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমেই অরুচির কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। সঠিক কারণ বুঝে ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিবর্তন আনলেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমাধান সম্ভব।শিশুর খাবারে অরুচির পেছনে বেশ কিছু সাধারণ কারণ রয়েছে। অনিয়মিত খাবারের সময়সূচি, অতিরিক্ত নাস্তা, চিপস-চকলেট বা কোমল পানীয়ের প্রতি আসক্তি এবং খাবারের সময় মোবাইল বা টিভি দেখার অভ্যাস এর মধ্যে অন্যতম। এছাড়া জোর করে খাওয়ানোর অভিজ্ঞতা শিশুর মনে খাবারের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে। অন্যদিকে দাঁত ওঠা, সর্দি-কাশি, জ্বরের পরবর্তী দুর্বলতা, কৃমি সংক্রমণ, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ঘুমের সমস্যাও অরুচির কারণ হতে পারে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর খাবারের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দিনে তিন বেলা প্রধান খাবার এবং দুই বেলা হালকা নাস্তার সময় ঠিক করে দিতে হবে। এই সময়ের বাইরে খাবার বা জুস দিলে শিশুর স্বাভাবিক ক্ষুধা নষ্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি প্রধান খাবারের আগে টিফিন বা বিস্কুট দেওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে, কারণ এতে শিশু মূল খাবার খেতে চায় না।খাবারের সময় পরিবেশও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। খাওয়ার সময় টিভি, মোবাইল বা কার্টুন বন্ধ রাখা উচিত, যাতে শিশু মনোযোগ দিয়ে খেতে পারে। পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে খেলে শিশুর মধ্যে ইতিবাচক অভ্যাস তৈরি হয় এবং খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—শিশুকে কখনোই জোর করে খাওয়ানো উচিত নয়। এতে খাবার শিশুর কাছে শাস্তির মতো মনে হয়। বরং অল্প পরিমাণে খাবার দিন, না খেলে কিছু সময় পরে আবার চেষ্টা করুন।এছাড়া শিশুর নাস্তা ও মূল খাবারে বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন। প্রতিদিন একই ধরনের খাবার দিলে শিশু বিরক্ত হয়ে পড়ে। ফল, দই, সেদ্ধ ডিম বা ঘরে তৈরি পুষ্টিকর নাস্তা দেওয়া ভালো অভ্যাস গড়ে তোলে। একই উপাদান ভিন্নভাবে রান্না করে পরিবেশন করলে শিশুর আগ্রহ বাড়ে। পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা ও শারীরিক সক্রিয়তা শিশুর ক্ষুধা বাড়াতে সহায়ক। তবে অরুচির সঙ্গে যদি ওজন না বাড়া, দুর্বলতা বা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।/টিএ

এপ্রিল ১৩, ২০২৬

বাড়ছে গরম, যেসব সাবধানতা জরুরি

দেশজুড়ে তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত গরমে শরীর থেকে প্রচুর ঘাম ঝরে যাওয়ায় শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আর্দ্রতা ও পরিবেশগত কারণে দেখা দিচ্ছে নানা জটিলতা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা এই তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। সাধারণত ঘামাচি ও ত্বকের সমস্যার পাশাপাশি লিভার ইনফেকশন, ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও হেপাটাইটিসের মতো পানিবাহিত রোগের প্রকোপ এই সময়ে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।চিকিৎসকদের মতে, রাস্তার পাশের অস্বাস্থ্যকর খাবার ও অপরিষ্কার পানি পানই এসব রোগের প্রধান কারণ। শরীর সুস্থ রাখতে দিনে কয়েকবার গোসল করা এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পানিশূন্যতা রোধে ডাবের পানি, ফলের রস, ওরস্যালাইন বা ঘরে তৈরি লবণ-চিনির শরবত বেশ কার্যকর। তবে প্যাকেটজাত জুস এড়িয়ে সবসময় তাজা ফলের রস খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।রোদে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বাইরে বের হলে ছাতা ব্যবহার করা, সানস্ক্রিন মাখা এবং হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরা জরুরি। অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে; এমন পরিস্থিতিতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে শরীর ঠান্ডা পানি দিয়ে মোছাতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, হিটস্ট্রোকের প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে মুখে কিছু খাওয়ানো যাবে না।শিশুদের ক্ষেত্রে গরমকাল আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। শিশুর অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, পাতলা পায়খানা, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা চোখ বসে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। বিশেষ করে যেসব শিশু মায়ের দুধ পান করে, তাদের ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ানোই এই সময়ে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিকার। পাশাপাশি গরমকালে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা ও মশারি ব্যবহার করা আবশ্যক।গরমকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত সচেতনতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই এখন প্রধান অস্ত্র। পানীয় জল ও খাবারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। নিরাপদ থাকার জন্য প্রয়োজনে ভালো মানের বোতলজাত পানি পান এবং বাইরের খোলা খাবার বর্জন করে বাড়িতে তৈরি খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।/টিএ

এপ্রিল ০৯, ২০২৬

ঘরে বসেই ওজন কমানোর সেরা উপায়

রোজার মাস এবং ঈদের লম্বা ছুটিতে আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের রুটিনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা এবং অনিয়মিত খাবারের কারণে অনেকেরই অজান্তে ওজন বেড়ে যায়। তবে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই; সঠিক পরিকল্পনা এবং সামান্য কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমেই আপনি দ্রুত আপনার আগের ফিটনেস ফিরে পেতে পারেন।ওজন কমানোর যাত্রায় শুরুতেই পানির গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিদিন প্রতিটি প্রধান খাবারের অন্তত ৩০ মিনিট আগে পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন, যা আপনার অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমিয়ে দেবে। পাশাপাশি হজমের সমস্যা বা পেট ফাঁপা দূর করতে আদা চা, পুদিনা পাতা বা গ্রিন-টি অত্যন্ত কার্যকরী, কারণ সুস্থ বিপাক প্রক্রিয়া দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে।পর্যাপ্ত এবং গভীর ঘুম ওজন কমানোর অন্যতম প্রধান শর্ত। প্রতিদিন অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা নিয়মিত ঘুমালে শরীরের হরমোন ভারসাম্য ঠিক থাকে, যা অতিরিক্ত ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে। বিশেষ করে রাতের খাবার ঘুমানোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে শেষ করার অভ্যাস করুন; এতে শরীর খাবার হজম করার পর্যাপ্ত সময় পায় এবং চর্বি জমার সুযোগ কমে যায়।আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বড় পরিবর্তন আনতে হবে প্রক্রিয়াজাত এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার বর্জনের মাধ্যমে। এর পরিবর্তে প্রোটিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার যেমন—মাছ, ডিম, ডাল, তাজা শাকসবজি ও ফলমূল বেশি করে গ্রহণ করুন। এই খাবারগুলো দীর্ঘক্ষণ আপনার পেট ভরা রাখবে, ফলে বারবার অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ইচ্ছা জাগবে না।দ্রুত ফলাফল পেতে শরীরচর্চার ক্ষেত্রে আপনি ‘৪০-২০’ নিয়ম অনুসরণ করতে পারেন, যেখানে ৪০ সেকেন্ড দ্রুত ব্যায়াম এবং ২০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিতে হয়। এছাড়া ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা নির্দিষ্ট সময় পর পর খাওয়ার পদ্ধতিটি চর্বি পোড়াতে চমৎকার কাজ করে। নিয়মিত এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে ঈদের বাড়তি ওজন ঝরিয়ে আপনি আবারও হয়ে উঠবেন সতেজ ও প্রাণবন্ত।/টিএ

এপ্রিল ০৫, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo