logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/লাইফস্টাইল
রোদ কতটা উপকারী, কতটা ক্ষতিকর? - image

রোদ কতটা উপকারী, কতটা ক্ষতিকর?

12 আগস্ট 2026, বিকাল 2:34

আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে সূর্যের আলো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোদ পুরোপুরি এড়িয়ে চলার প্রয়োজন নেই; বরং পরিমিত সময় রোদে থাকা শরীরের জন্য উপকারী। সূর্যের আলো ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরিতে সহায়তা করে, যা হাড় ও পেশি শক্ত রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।সূর্যের আলো শরীরের স্বাভাবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে সকালের প্রাকৃতিক আলো মস্তিষ্ককে সজাগ করে এবং দিন-রাতের পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত আলো না পেলে ঘুমের সমস্যা, মন খারাপ বা অবসাদের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তবে ত্বকের রঙ, বয়স, বসবাসের স্থান ও ঋতুভেদে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরির পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেবেকা মেসনের মতে, ভিটামিন ডি পাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় রোদে থাকার প্রয়োজন নেই। অল্প সময়ের রোদেই প্রয়োজনীয় উপকার পাওয়া সম্ভব। তবে শ্যামলা বা কালো ত্বকে প্রাকৃতিক সুরক্ষাকবচ বেশি থাকায় ভিটামিন ডি তৈরিতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে। প্রতিদিন কত মিনিট রোদে থাকতে হবে, তার নির্দিষ্ট হিসাবও নেই; কারণ অঞ্চল ও আবহাওয়াভেদে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির মাত্রা বা ইউভি ইনডেক্স পরিবর্তিত হয়।অতিরিক্ত রোদে শরীর সীমাহীনভাবে ভিটামিন ডি তৈরি করে না। বরং দীর্ঘ সময় সূর্যের তীব্র রশ্মিতে থাকলে ত্বক পুড়ে যাওয়া, বয়সের ছাপ এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। চোখেরও ক্ষতি হতে পারে। তাই সূর্যের তেজ বেশি থাকলে ত্বক ঢেকে রাখা, প্রয়োজন অনুযায়ী সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং বাইরে গেলে সানগ্লাস পরার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।অন্যদিকে, যারা দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে থাকেন বা পর্যাপ্ত রোদ পান না, তাদের ভিটামিন ডির ঘাটতি হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এ ঘাটতিতে হাড় দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে রোদ ছাড়াও খাবার ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক জোয়ান ম্যানসনও দীর্ঘ সময় রোদে থাকার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রোদকে ভয় না পেয়ে পরিমিতভাবে গ্রহণ করতে হবে এবং অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।সূত্র: সামা টিভি/টি

আগস্ট ১২, ২০২৬

ফ্যাটি লিভার সারাতে হাঁটা কতটা কার্যকর?

বর্তমান বিশ্বে নীরবে ছড়িয়ে পড়া রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম ফ্যাটি লিভার। এর আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের নাম ‘মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ’ (MASLD)। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি তিনজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রায় একজন এ সমস্যায় আক্রান্ত। সাধারণত স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং কায়িক পরিশ্রমহীন জীবনযাত্রার কারণে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে এ রোগের সৃষ্টি হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত হাঁটা ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ভারতের শালিমার বাগের ফোর্টিস হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের প্রধান ড. রমেশ গর্গের মতে, হাঁটার মাধ্যমে লিভারে জমে থাকা চর্বি কমানো সম্ভব। মাঝারি মাত্রার অ্যারোবিক ব্যায়াম হিসেবে হাঁটা শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায়, পেশির গ্লুকোজ ব্যবহারের ক্ষমতা উন্নত করে এবং অতিরিক্ত চর্বি ও প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। বিশেষ করে দ্রুত হাঁটা বা ব্রিস্ক ওয়াকিং শরীরের ক্যালোরি খরচ বাড়িয়ে এ ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা লিভারসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সপ্তাহে অন্তত ১৫০ থেকে ৩০০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কসরতের পরামর্শ দেন। সে হিসেবে সপ্তাহের অধিকাংশ দিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট দ্রুত হাঁটা কার্যকর হতে পারে। তবে যারা নিয়মিত হাঁটেন না, তাদের অল্প সময় দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে সময় ও গতি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার, কাজের ফাঁকে হাঁটা কিংবা খাবারের পর কিছুক্ষণ হাঁটার মতো ছোট অভ্যাসও দৈনন্দিন শারীরিক সক্রিয়তা বাড়াতে পারে।তবে শুধু হাঁটলেই ফ্যাটি লিভার পুরোপুরি ভালো হয়ে যাবে—এমনটা নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাঁটার পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস জরুরি। শরীরের ওজন প্রায় ৫ শতাংশ কমাতে পারলে লিভারে জমা চর্বি কমতে শুরু করতে পারে, আর ৭ থেকে ১০ শতাংশ ওজন কমাতে পারলে প্রদাহ ও শুরুর দিকের লিভার ক্ষতি কমার সম্ভাবনা বাড়ে। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, হোল গ্রেইন ও চর্বিহীন প্রোটিন রাখার পাশাপাশি অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট এড়িয়ে চলা এবং সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম করাও উপকারী।ফ্যাটি লিভারের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেরই কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে রোগটি নীরবে বাড়তে বাড়তে লিভারে ফাইব্রোসিস, সিরোসিস, এমনকি লিভার ফেইলিউর ও লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা উচ্চ কোলেস্টেরলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা ও প্রয়োজন অনুযায়ী আল্ট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে লিভারের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ড. রমেশ গর্গের ভাষায়, প্রতিদিনের প্রতিটি পদক্ষেপই গুরুত্বপূর্ণ—নিয়মিত ব্রিস্ক ওয়াকিং লিভারের সুস্থতার জন্য একটি বড় বিনিয়োগ।/টি

আগস্ট ১১, ২০২৬

হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে যেসব দৈনন্দিন অভ্যাস

হৃদরোগের সঙ্গে ধূমপান, স্থূলতা ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো বিষয়গুলোর সম্পর্ক সুপরিচিত। তবে এর বাইরেও কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস রয়েছে, যেগুলোকে অনেকেই ক্ষতিকর মনে করেন না। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া কিংবা অতিরিক্ত লবণ ও চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণের মতো অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে হৃদপিণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘসময় বসে থাকা এবং শারীরিক কার্যকলাপ এড়িয়ে চলা হৃদস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। দিনের বড় একটি সময় ডেস্কে বসে, গাড়িতে বা টেলিভিশনের সামনে কাটালে শরীরের ক্যালোরি খরচ কমে যায় এবং রক্তসঞ্চালনেও প্রভাব পড়ে। তাই প্রতি ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পরপর উঠে দাঁড়ানো, কিছুক্ষণ হাঁটা বা শরীর স্ট্রেচ করার অভ্যাস করা উপকারী। পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম, যেমন দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার বা নাচ, হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে সহায়ক।পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপও হৃদস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত সাত ঘণ্টার কম ঘুম রক্তচাপ ও প্রদাহ বাড়ানোর পাশাপাশি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তাই প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের চেষ্টা করার পাশাপাশি হাঁটা, ধ্যান, গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। আচার, প্যাকেটজাত খাবার, সস ও তৈরি খাবারে থাকা অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি ধরে রেখে রক্তচাপ বাড়াতে পারে। একইভাবে কোমল পানীয়, মিষ্টি ফলের জুস, এনার্জি ড্রিঙ্ক এবং অতিরিক্ত চিনি দেওয়া চা-কফি নিয়মিত পান করলে ওজন বৃদ্ধি ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা হৃদরোগের সঙ্গেও সম্পর্কিত। এসবের পরিবর্তে পানি, ডাবের পানি, চিনি ছাড়া ঘোল এবং কম চিনি বা চিনি ছাড়া পানীয় বেছে নেওয়া যেতে পারে।এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই শরীরে উপস্থিত থাকতে পারে। ফলে সুস্থ বোধ করলেও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখতে দীর্ঘসময় বসে থাকা এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত ঘুম, পরিমিত লবণ ও চিনি গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি। এসব ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।/টি

আগস্ট ১১, ২০২৬

শিশুদের উচ্চতা বাড়াতে কোন ফলগুলো উপকারী

শিশু-কিশোরদের উচ্চতা দ্রুত বাড়াতে নির্দিষ্ট কিছু ফল বিশেষভাবে কার্যকর—এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই রয়েছে। তবে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, কোনো একক ফল সরাসরি উচ্চতা বাড়াতে পারে না। উচ্চতা মূলত বংশগত বৈশিষ্ট্য, বয়স, হরমোন, পর্যাপ্ত ঘুম, শারীরিক কার্যক্রম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। তবে বিভিন্ন ফলে থাকা ভিটামিন ও খনিজ হাড়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং শরীরের সুস্থ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।বিশেষজ্ঞদের মতে, কলা, কমলা, পেঁপে, আপেল এবং স্ট্রবেরি-ব্লুবেরির মতো বেরিজাতীয় ফল শিশু-কিশোরদের খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। কলায় থাকা পটাশিয়াম ও ভিটামিন বি৬ হাড় ও পেশির স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখে। কমলার ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে, যা হাড় ও তরুণাস্থির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পেঁপেতে থাকা ভিটামিন এ ও সি এবং হজমে সহায়ক উপাদান পুষ্টি শোষণে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে আপেল ও বেরিজাতীয় ফলে থাকা ভিটামিন, খনিজ, আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে।তবে শুধু ফল খেলেই উচ্চতা বাড়বে—এমন ধারণা ঠিক নয়। শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও হাড়ের বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, জিংক, ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন কে প্রয়োজন। তাই একটি বা কয়েকটি ফলের ওপর নির্ভর না করে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও দুধজাত খাবার, শাকসবজি, শস্য এবং বিভিন্ন ধরনের ফলসহ সুষম খাদ্য গ্রহণ করা জরুরি।স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত খেলাধুলা ও ব্যায়াম এবং প্রয়োজনীয় সময় রোদে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এতে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে সহায়তা করে এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য উপকার পাওয়া যায়। কোনো শিশু বা কিশোরের বৃদ্ধি বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক না হলে কিংবা পুষ্টিহীনতা বা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি।অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ফল, খাবার, ব্যায়াম বা সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে উচ্চতা বাড়ানো সাধারণত সম্ভব নয়। কারণ বয়ঃসন্ধির শেষ দিকে অধিকাংশ মানুষের হাড়ের গ্রোথ প্লেট বন্ধ হয়ে যায়। তাই উচ্চতা বাড়ানোর কোনো ‘জাদুকরি ফল’ নেই। বরং শিশু-কিশোরদের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ স্বাভাবিক উচ্চতায় পৌঁছাতে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।সূত্র: বিকাম টলার ক্লিনিক/টি 

আগস্ট ১০, ২০২৬

দিনে দুইবার দাঁত না মাজলে হতে পারে যে বিপদ

প্রতিদিন নিয়ম মেনে দাঁত না মাজলে শুধু দাঁত ও মাড়ির সমস্যাই নয়, হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। স্কটল্যান্ডে চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে অন্তত দুইবার দাঁত না মাজা ব্যক্তিদের হার্টের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কয়েক গুণ বেশি।ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় ১১ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের দাঁত মাজার অভ্যাস, ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়ার হার, চিকিৎসা ও পারিবারিক হৃদরোগের ইতিহাস, রক্তচাপ এবং রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হয়।গবেষণায় দেখা যায়, প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৬ জন ব্যক্তি প্রতি ছয় মাসে অন্তত একবার ডেন্টিস্টের কাছে যান। অন্যদিকে, ১০ জনের মধ্যে ৭ জন নিয়মিত দিনে দুইবার দাঁত ব্রাশ করার কথা জানান। আট বছর ধরে চলা এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫৫৫টি হৃদরোগজনিত ঘটনা শনাক্ত হয়, যার মধ্যে ১৭০টি ছিল প্রাণঘাতী।গবেষকরা জানান, স্থূলতা, ধূমপান ও পারিবারিক হৃদরোগের ইতিহাসের মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও দেখা গেছে, যাদের মুখের পরিচ্ছন্নতা সবচেয়ে খারাপ ছিল, তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দিনে দুইবার দাঁত মাজা ব্যক্তিদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। এসব মানুষের রক্তে প্রদাহ সৃষ্টিকারী বিশেষ প্রোটিনের মাত্রাও বেশি পাওয়া গেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ ও মাড়ির সংক্রমণ থেকে তৈরি হওয়া প্রদাহ রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়াতে পারে, যা পরবর্তীতে হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে। তবে মুখের পরিচ্ছন্নতা সরাসরি হৃদরোগের কারণ কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। চিকিৎসকদের পরামর্শ, হার্ট সুস্থ রাখতে সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান এড়িয়ে চলার পাশাপাশি দিনে দুইবার ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মাজা ও নিয়মিত ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।সূত্র: বিবিসি/টি

আগস্ট ০৯, ২০২৬

খাবার খাওয়ার পরও দুর্বল লাগছে? হতে পারে যে কারণ

খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই আবার ক্ষুধা লাগা, বারবার মিষ্টি খেতে ইচ্ছা করা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি কিংবা মাথা ঝিমঝিম করার মতো সমস্যাকে অনেকেই সাধারণ বিষয় হিসেবে এড়িয়ে যান। তবে এসব উপসর্গ কখনো কখনো গ্লুকোজ ইনটলারেন্সের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এমন একটি অবস্থা, যখন শরীর স্বাভাবিকভাবে রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। গ্লুকোজ ইনটলারেন্স নিজে ডায়াবেটিস নয়, তবে সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করলে ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।গ্লুকোজ ইনটলারেন্স হলে খাবার থেকে তৈরি গ্লুকোজ শরীরের কোষে পৌঁছে শক্তি হিসেবে ব্যবহারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত ইনসুলিন হরমোন রক্তের গ্লুকোজকে কোষে প্রবেশ করতে সহায়তা করে। কিন্তু ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে গেলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যেতে পারে, বিশেষ করে খাবার খাওয়ার পর। এ অবস্থাকে অনেক সময় প্রিডায়াবেটিসের একটি পর্যায় হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। এর লক্ষণ হিসেবে খাবারের পর আবার ক্ষুধা লাগা, মিষ্টি খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা, হঠাৎ দুর্বল বা ক্লান্ত লাগা, মাথা ঝিমঝিম করা, মনোযোগে সমস্যা, মেজাজের পরিবর্তন এবং খাবারের পর অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব দেখা দিতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পরিবারের ডায়াবেটিসের ইতিহাস এবং বয়স বাড়ার মতো বিভিন্ন কারণে গ্লুকোজ ইনটলারেন্সের ঝুঁকি বাড়তে পারে। যাদের ওজন বেশি, পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরল আছে, নিয়মিত শরীরচর্চা করেন না কিংবা আগে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হয়েছিল—তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তবে এসব উপসর্গ অন্য অনেক কারণেও হতে পারে, তাই শুধু লক্ষণ দেখে গ্লুকোজ ইনটলারেন্স নিশ্চিত করা যায় না।গ্লুকোজ ইনটলারেন্স শনাক্ত করতে চিকিৎসকের পরামর্শে খালি পেটে রক্তে শর্করা পরীক্ষা, ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট (ওজিটিটি) এবং এইচবিএ১সি পরীক্ষার মতো পরীক্ষা করা হতে পারে। পরীক্ষার ফলাফল দেখে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। এ অবস্থায় জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা গুরুত্বপূর্ণ। পরিমিত ও সুষম খাবার গ্রহণ, অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত ঘুম রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে।বারবার দুর্বল লাগা, অস্বাভাবিক ক্ষুধা বা তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব কিংবা অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা গেলে রক্তে শর্করার অস্বাভাবিকতা প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্লুকোজ ইনটলারেন্সকে অবহেলা না করে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন শুরু করলে অনেক ক্ষেত্রেই ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।সূত্র: গাল্ফ নিউজ

আগস্ট ০৮, ২০২৬

কোন ভিটামিনের ঘাটতিতে ঘাড়ে ব্যথা হয়?

ঘাড়ে ব্যথা এখন অনেকেরই পরিচিত সমস্যা। কারও ঘুম থেকে ওঠার পর ঘাড় শক্ত হয়ে যায়, আবার কারও সামান্য নড়াচড়াতেই তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। অনেকেই ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে সাময়িক স্বস্তি পেলেও কিছুদিন পর একই সমস্যা আবার ফিরে আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ব্যথা কমানোর ওষুধ নয়, সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।ভারতীয় পুষ্টিবিদ অনুশ্রী মিশ্রের বরাত দিয়ে নিউজ এইট্টিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহারই ঘাড়ে ব্যথার একমাত্র কারণ নয়। তার মতে, শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা দিলে ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা, পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া এবং অস্বস্তির মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।বিশেষজ্ঞরা জানান, অনেকেই মনে করেন শুধু সূর্যের আলো থেকেই পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব। তবে বাস্তবে সূর্যালোক থেকে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি ও কার্যকর হতে সময় লাগে। তাই খাদ্য থেকেই ভিটামিন ডি গ্রহণ করা বেশি কার্যকর হতে পারে। তৈলাক্ত মাছ, সামুদ্রিক মাছ, ডিম, দুগ্ধজাত খাবার, ফর্টিফায়েড দুধ ও দই, ওটস এবং বিভিন্ন দানাশস্য ভিটামিন ডি-এর ভালো উৎস হিসেবে বিবেচিত।এ ছাড়া হঠাৎ কঠিন ব্যায়াম করলে ঘাড়ের পেশিতে টান লাগতে পারে। শরীরে প্রোটিনের ঘাটতিও পেশি দুর্বল ও শক্ত হয়ে যাওয়ার একটি কারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম, মাছ, মাংস, দুধ, পনির, ডাল, শিম, সয়াবিন ও টোফুর মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে পেশির স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং এ ধরনের সমস্যা কমানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।অন্যদিকে, ক্যালসিয়ামের ঘাটতি এবং শরীরে পানির অভাবও ঘাড়ের ব্যথা বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পানি পান করলেই হবে না, শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজের ভারসাম্যও বজায় রাখতে হবে। বিশেষ করে যারা বেশি খেলাধুলা করেন বা অতিরিক্ত ঘাম ঝরান, তাদের জন্য ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য ঠিক রাখা জরুরি। তবে দীর্ঘদিন ঘাড়ে ব্যথা বা পেশি শক্ত হয়ে থাকার সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।/টি

আগস্ট ০৬, ২০২৬

সকালে ঘুম থেকে উঠেই কাঁধে ব্যথা? জেনে নিন কারণ

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় শরীর একেবারে স্বাভাবিক থাকলেও সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই হঠাৎ কাঁধে তীব্র ব্যথা, শক্তভাব বা নড়াচড়ায় অসুবিধা অনুভব করেন। এমনকি দাঁত ব্রাশ করা, জামা পরা কিংবা চুল আঁচড়ানোর মতো সাধারণ কাজও কষ্টকর হয়ে ওঠে। আগের দিন কোনো আঘাত বা বিশেষ ঘটনা না থাকায় অনেকেই এই ব্যথার কারণ বুঝে উঠতে পারেন না।চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে ঘুম থেকে উঠে কাঁধে ব্যথা অনুভূত হওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি সাধারণ কারণ রয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘমেয়াদি কাঁধ বা ঘাড়ের সমস্যারও লক্ষণ হতে পারে।ভুল ঘুমের ভঙ্গি সবচেয়ে বড় কারণবিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে কাঁধে ব্যথার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ভুল ঘুমের ভঙ্গি। বিশেষ করে যারা পাশ ফিরে ঘুমান, তারা অনেক সময় নিজের কাঁধের ওপর অতিরিক্ত চাপ দিয়ে দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় থাকেন। এতে কাঁধের টেন্ডন ও বার্সা অংশে চাপ পড়ে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। ঘুমের সময় ব্যথা অনুভূত না হলেও সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তীব্র ব্যথা দেখা দেয়।কাঁধের ওপর অতিরিক্ত চাপঘুমের সময় যদি হাত এমনভাবে থাকে যে কনুই কাঁধের চেয়ে ওপরে অবস্থান করে, তাহলে কাঁধের নরম টিস্যুগুলো চাপে পড়ে। দীর্ঘ সময় এমন অবস্থায় থাকলে প্রদাহ বা ইনজুরির ঝুঁকি বাড়ে এবং সকালে ব্যথা ও শক্তভাব দেখা দিতে পারে।ফ্রোজেন শোল্ডারের লক্ষণও হতে পারেকিছু ক্ষেত্রে হঠাৎ কাঁধে ব্যথা শুরু হওয়া ফ্রোজেন শোল্ডার-এর প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এ অবস্থায় প্রথমে ব্যথা দেখা দেয়, পরে ধীরে ধীরে কাঁধ শক্ত হয়ে যায় এবং নড়াচড়া সীমিত হয়ে পড়ে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।রোটেটর কাফ টেন্ডনের সমস্যাকাঁধের ভেতরের টেন্ডন অতিরিক্ত ব্যবহার, একই ধরনের কাজ বারবার করা কিংবা দীর্ঘ সময় কাঁধে চাপ পড়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ অবস্থাকে রোটেটর কাফ টেন্ডিনাইটিস বা টেন্ডিনোসিস বলা হয়। এর ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠে কাঁধে ব্যথা ও শক্তভাব অনুভূত হতে পারে।ঘাড়ের সমস্যার ব্যথাও কাঁধে অনুভূত হতে পারেসব সময় কাঁধের সমস্যার কারণেই কাঁধে ব্যথা হয় না। অনেক সময় ঘাড়ের স্নায়ু বা মাংসপেশির সমস্যার কারণে ব্যথা কাঁধে ছড়িয়ে পড়ে। তাই দীর্ঘদিন ব্যথা থাকলে সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুল ঘুমের ভঙ্গির কারণে হওয়া ব্যথা সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমে যায়। তবে যদি ব্যথা কয়েক দিনের বেশি স্থায়ী হয়, হাত নড়াতে সমস্যা হয় বা ব্যথা ক্রমেই বাড়তে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।এ ছাড়া বাম কাঁধ বা হাতে হঠাৎ তীব্র ব্যথার সঙ্গে বুক চেপে ধরা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া বা দুর্বল লাগার মতো উপসর্গ দেখা দিলে তা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।প্রতিরোধে যা করবেনপাশ ফিরে ঘুমানোর সময় কাঁধের ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়িয়ে চলুন।হাত এমনভাবে রাখুন যাতে কনুই কাঁধের নিচে থাকে।দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে না থেকে ঘুমের অবস্থান পরিবর্তন করুন।আরামদায়ক ও সঠিক উচ্চতার বালিশ ব্যবহার করুন।বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে কাঁধে ব্যথার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কারণ থাকে ভুল ঘুমের ভঙ্গি। তবে ব্যথা যদি বারবার ফিরে আসে বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে সেটিকে অবহেলা না করে দ্রুত কারণ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া উচিত।সূত্র: কর্নারস্টোন

আগস্ট ০১, ২০২৬

ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখছেন? জানুন ক্ষতি

রাতে ঘুমানোর আগে কিংবা সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করা এখন অনেকেরই দৈনন্দিন অভ্যাস। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল ফোন হাতে নেওয়ার অভ্যাস শরীর ও মনের ওপর নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের সময় শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কও বিশ্রামে থাকে। এ সময় মস্তিষ্ক ডেল্টা মোডে অবস্থান করে। ঘুম ভাঙার পর ধীরে ধীরে থিটা ও আলফা মোড অতিক্রম করে মস্তিষ্ক বিটা মোডে সক্রিয় হয়। কিন্তু ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ব্যবহার করলে মস্তিষ্ককে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রক্রিয়াজাত করতে হয়, ফলে মস্তিষ্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।এ ছাড়া সকালে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বেশি থাকে। এ সময় মোবাইলের নোটিফিকেশন, খবর কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন কনটেন্ট দেখলে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ আরও বেড়ে যেতে পারে।চিকিৎসকদের মতে, ঘুম ভাঙার পরপরই স্মার্টফোনের নীল আলো চোখের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এর ফলে চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া, জ্বালাপোড়া বা ড্রাই আইয়ের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।শুধু তাই নয়, সকালে ঘুম থেকে উঠেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটানোর ফলে দিনের কাজে মনোযোগ কমে যেতে পারে। নেতিবাচক খবর বা মন্তব্যের প্রভাব সারাদিনের মানসিক অবস্থার ওপরও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।এদিকে স্মার্টফোনের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণেও বাধা সৃষ্টি করে। এই হরমোন মানুষের ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে রাতে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের পাশাপাশি সকালে ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল ব্যবহার করলেও শরীরে অস্বস্তি ও মানসিক উদ্বেগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঘুম থেকে ওঠার অন্তত ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর মোবাইল ফোন ব্যবহার করা শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য তুলনামূলকভাবে উপকারী।/টি

জুলাই ৩০, ২০২৬

সকালে খালি পেটে যেসব খাবার ভুলেও খাবেন না

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে পাকস্থলী সবচেয়ে সংবেদনশীল অবস্থায় থাকে। এ সময় কী খাওয়া হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে সারাদিনের হজমপ্রক্রিয়া, শক্তি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি পেটে কিছু খাবার খেলে অ্যাসিডিটি, গ্যাস, বুকজ্বালা, হজমের সমস্যা এমনকি দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।খালি পেটে কেন সতর্ক থাকা জরুরিরাতভর উপোস থাকার পর সকালে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই দিনের শুরুতে ভারী, অতিরিক্ত মসলাদার বা অ্যাসিডিক খাবার খেলে তা সরাসরি পাকস্থলীতে প্রভাব ফেলে। ফলে অস্বস্তি, গ্যাস্ট্রিক, বুকজ্বালা ও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণে সকালে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।যেসব খাবার খালি পেটে এড়িয়ে চলবেনঅনেকেই সকালে স্বাস্থ্যকর মনে করে ফলের জুস পান করেন। তবে খালি পেটে ফলের জুস পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে এবং অগ্ন্যাশয় ও লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। দই পুষ্টিকর হলেও খালি পেটে খাওয়া উপযুক্ত নয়। কারণ, এতে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলীর অ্যাসিডে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, ফলে প্রত্যাশিত উপকার পাওয়া যায় না। দিনের শুরুতে চা বা কফি পান করাও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নয়। খালি পেটে ক্যাফেইন শরীরে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি করে, যা বুকজ্বালা, গ্যাস ও পেট ফাঁপার কারণ হতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত মসলাদার খাবার, সফট ড্রিংকস বা সোডা এবং টমেটোর মতো অ্যাসিডিক খাবার খালি পেটে খেলে গ্যাস্ট্রিক ও হজমজনিত সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।খালি পেটে কী খাওয়া ভালোবিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের শুরুতে হালকা গরম পানি পান করা সবচেয়ে উপকারী। এটি শরীরকে হাইড্রেট রাখে, হজমপ্রক্রিয়া সচল করে এবং শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের হতে সহায়তা করে। এ ছাড়া খেজুর, সারারাত ভিজিয়ে রাখা বাদাম, মৌসুমি ফল, ওটস কিংবা হালকা সেদ্ধ খাবার দিয়ে সকালের খাবার শুরু করা যেতে পারে। এসব খাবার সহজে হজম হয়, দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়।স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলুনসকালের খাবার শুধু ক্ষুধা মেটানোর জন্য নয়, বরং শরীরকে নতুন দিনের জন্য প্রস্তুত করার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ধীরে ধীরে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়াই সুস্থ থাকার অন্যতম উপায়। খালি পেটে কোন খাবার খাওয়া উচিত আর কোনটি এড়িয়ে চলা প্রয়োজন—এ বিষয়ে সচেতন থাকলে অনেক সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যা সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে দিন শুরু করলে শরীর থাকবে সুস্থ, মন থাকবে সতেজ।সূত্র: এনডিটিভি/টি 

জুলাই ২৯, ২০২৬

যেসব গুরুত্বপূর্ণ কথা কখনোই টেক্সটে বলা উচিত নয়

বর্তমান ডিজিটাল যুগে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে টেক্সট মেসেজ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই সরাসরি কথা বলার পরিবর্তে মেসেজেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও থেরাপিস্টদের মতে, সব ধরনের আলাপ টেক্সটের মাধ্যমে করা উচিত নয়। কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ফোনে বা সামনাসামনি করলে ভুল বোঝাবুঝি কমে এবং সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেক্সট মেসেজে কণ্ঠের আবেগ, স্বরের ওঠানামা কিংবা মুখের অভিব্যক্তি প্রকাশ পায় না। ফলে সাধারণ একটি বার্তাও অনেক সময় রূঢ়, শীতল বা অবজ্ঞাপূর্ণ বলে মনে হতে পারে। একই সঙ্গে কঠিন পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাও সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে পারে।থেরাপিস্ট ইভন ইনিয়াংয়ের ভাষ্য, “যদি কোনো আলাপচারিতা কাউকে মানসিকভাবে সুস্থ করে তুলতে পারে বা নতুন করে কষ্ট দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে টেক্সট নয়—ফোনে কথা বলুন অথবা সরাসরি দেখা করুন।”বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, যেসব বিষয়ে টেক্সটের পরিবর্তে ফোনে বা সামনাসামনি কথা বলা উচিত—আবেগপূর্ণ ও সংবেদনশীল আলোচনাঝগড়া বা মতবিরোধের সমাধানআন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়াসম্পর্ক শুরু, পরিবর্তন বা শেষ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তব্যক্তিগত সীমারেখা বা সম্পর্কের নিয়ম নির্ধারণমৃত্যু, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো দুঃখজনক সংবাদ জানানোদীর্ঘ ও জটিল কোনো ঘটনা ব্যাখ্যা করাস্পর্শকাতর বা সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনাব্যঙ্গ বা সারকাজম ব্যবহার করে কিছু বলাপ্রিয়জনকে মানসিক সমর্থন বা পাশে থাকার অনুভূতি দেওয়াবিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো মেসেজ পড়ে যদি মনে হয় ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে, নিজেকে আত্মরক্ষামূলক মনে হয় বা মানসিক চাপ অনুভূত হয়, তাহলে টেক্সট চালিয়ে না গিয়ে ফোনে কথা বলাই উত্তম। এতে ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ কমে এবং সম্পর্ক আরও স্বচ্ছ ও আন্তরিক থাকে।তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল মাইন্ড।

জুলাই ২৮, ২০২৬

অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসে বাড়ছে শিশুদের ফ্যাটি লিভার রোগ

কয়েক দশক ধরে ফ্যাটি লিভার রোগকে মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের সমস্যা হিসেবে দেখা হলেও, এখন সেই চিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে চিকিৎসকরা লক্ষ্য করছেন, ক্রমেই বেশি সংখ্যক শিশু ও কিশোর-কিশোরী এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে অল্প বয়সীদের মধ্যে এটি দ্রুত বর্ধনশীল দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভোগা শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।গবেষণা বলছে, ১৯৭৫ সালে যেখানে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে স্থূলতার হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ শতাংশে। এর প্রভাব পড়েছে সরাসরি লিভারের ওপর। বর্তমানে ‘মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ’ বা ফ্যাটি লিভার বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ শিশুদের প্রভাবিত করছে, যা তাদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগে পরিণত হয়েছে।এই রোগের সবচেয়ে বড় উদ্বেগজনক দিক হলো এর নীরব বিস্তার। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আক্রান্ত শিশুরা কোনো লক্ষণ অনুভব করে না এবং স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করে। কিন্তু অজান্তেই তাদের লিভারে চর্বি জমতে থাকে, যা একসময় প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং লিভারের স্থায়ী ক্ষতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। সময়মতো শনাক্ত না হলে এটি টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ নানা জটিলতার কারণ হতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু চর্বিযুক্ত খাবারই নয়, বরং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা মিলেই এই রোগের প্রধান কারণ। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং দীর্ঘসময় স্ক্রিনে আসক্ত থাকা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র আট সপ্তাহ চিনি কমালে কিশোরদের লিভারের চর্বি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞরা গুরুত্ব দিচ্ছেন সুষম খাদ্যাভ্যাস ও সক্রিয় জীবনযাত্রার ওপর। ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য, মাছ, বাদামসহ পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খাওয়ার পাশাপাশি ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণ উপকারী। এছাড়া ভিটামিন ই-এর একটি রূপ ‘টোকোট্রিয়েনল’ নিয়ে গবেষণায় ইতিবাচক সম্ভাবনা দেখা গেলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন—সাপ্লিমেন্ট নয়, বরং সঠিক খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং কম স্ক্রিন টাইমই হলো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস গড়ে তোলা, খেলাধুলায় উৎসাহ দেওয়া এবং জাঙ্ক ফুড থেকে দূরে রাখাই পারে এই নীরব ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে।/টি

জুলাই ২৬, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo