
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
শিশু খাবার খেতে না চাইলে বেশিরভাগ অভিভাবকই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর অরুচি অনেক সময়ই সাময়িক এবং এটি সবসময় রোগের লক্ষণ নয়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমেই অরুচির কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। সঠিক কারণ বুঝে ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিবর্তন আনলেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমাধান সম্ভব।
শিশুর খাবারে অরুচির পেছনে বেশ কিছু সাধারণ কারণ রয়েছে। অনিয়মিত খাবারের সময়সূচি, অতিরিক্ত নাস্তা, চিপস-চকলেট বা কোমল পানীয়ের প্রতি আসক্তি এবং খাবারের সময় মোবাইল বা টিভি দেখার অভ্যাস এর মধ্যে অন্যতম। এছাড়া জোর করে খাওয়ানোর অভিজ্ঞতা শিশুর মনে খাবারের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে। অন্যদিকে দাঁত ওঠা, সর্দি-কাশি, জ্বরের পরবর্তী দুর্বলতা, কৃমি সংক্রমণ, কোষ্ঠকাঠিন্য
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর খাবারের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দিনে তিন বেলা প্রধান খাবার এবং দুই বেলা হালকা নাস্তার সময় ঠিক করে দিতে হবে। এই সময়ের বাইরে খাবার বা জুস দিলে শিশুর স্বাভাবিক ক্ষুধা নষ্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি প্রধান খাবারের আগে টিফিন বা বিস্কুট দেওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে, কারণ এতে শিশু মূল খাবার খেতে চায় না।
খাবারের সময় পরিবেশও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। খাওয়ার সময় টিভি, মোবাইল বা কার্টুন বন্ধ রাখা উচিত, যাতে শিশু মনোযোগ দিয়ে খেতে পারে। পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে খেলে শিশুর মধ্যে ইতিবাচক অভ্যাস তৈরি হয় এবং খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—শিশুকে কখনোই জোর করে খাওয়ানো উচিত নয়। এতে খাবার শিশুর কাছে শাস্তির মতো মনে হয়। বরং অল্প পরিমাণে খাবার দিন, না খেলে কিছু সময় পরে আবার চেষ্টা করুন।
এছাড়া শিশুর নাস্তা ও মূল খাবারে বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন। প্রতিদিন একই ধরনের খাবার দিলে শিশু বিরক্ত হয়ে পড়ে। ফল, দই, সেদ্ধ ডিম বা ঘরে তৈরি পুষ্টিকর নাস্তা দেওয়া ভালো অভ্যাস গড়ে তোলে। একই উপাদান ভিন্নভাবে রান্না করে পরিবেশন করলে শিশুর আগ্রহ বাড়ে। পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা ও শারীরিক সক্রিয়তা শিশুর ক্ষুধা বাড়াতে সহায়ক। তবে অরুচির সঙ্গে যদি ওজন না বাড়া, দুর্বলতা বা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
/টিএ