
যেকোনো সময় ইরানে আবার হামলা চালাতে পারি: ট্রাম্প
ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা বিশ্বকে রক্ষা করতেই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র লড়াই করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইসরায়েলিদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘ইসরায়েলের চিন্তার কিছু নেই। আমি ইসরায়েলের দেখভাল করব।’ একইসঙ্গে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ভালো করছে দাবি করে প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় আবারও দেশটিতে হামলা চালানোর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন তিনি।তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলকে সহায়তার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তার জন্যও যুক্তরাষ্ট্র এই লড়াই করছে। ট্রাম্পের দাবি, ইসরায়েলকে ধ্বংস করার পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাত এবং পরবর্তী সময়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহরকে লক্ষ্যবস্তু করত।এর আগে তেহরানের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে ইসরায়েলিদের আশ্বস্ত করেন ট্রাম্প। ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম কানকে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের চিন্তার কিছু নেই’, কারণ তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশটির দেখভাল করবেন। প্রায় এক মাসের বিরতির পর নতুন করে সংঘাত শুরুর সময় তার এই বক্তব্য এসেছে। এর আগে সপ্তাহান্তে ইরানের লারাক দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।এদিকে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন ট্রাম্প। তার দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং বড় ধরনের সমস্যা ছাড়াই তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল করছে। ইরান সেখানে রাডার, ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ও মাইন স্থাপনের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছিল বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প জানান, এসব তৎপরতা শনাক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর হামলা চালিয়েছে এবং ইরানের তৈরি করা প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে।প্রয়োজনে আবারও ইরানে হামলার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। পরে ইরানের গণমাধ্যম কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক, চাবাহার ও কোনারাকে বিস্ফোরণের খবর জানায়। আইআরজিসি দাবি করেছে, এর জবাবে কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।/টি