logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/আন্তর্জাতিক
নেতানিয়াহুকে সরানোর দাবি বিরোধী আইনপ্রণেতার - image

নেতানিয়াহুকে সরানোর দাবি বিরোধী আইনপ্রণেতার

06 সেপ্টেম্বর 2026, বিকাল 4:52

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দায়িত্ব থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছেন দেশটির বিরোধী আইনপ্রণেতা গিলাদ কারিভ। ইসরায়েলি সমাজের অস্তিত্বের স্বার্থেই নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। শনিবার মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তদন্ত নিয়ে নেতানিয়াহুর অবস্থানের সমালোচনা করতে গিয়ে এ দাবি জানান কারিভ।কারিভ অভিযোগ করেন, ৭ অক্টোবরের হামলার পর কয়েক মাস ধরে গাজা সীমান্তবর্তী কিবুতজগুলোতে যেতে এড়িয়ে গেছেন নেতানিয়াহু। একইভাবে ওই হামলার দিন কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তদন্তের ক্ষেত্রেও তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন এই বিরোধী আইনপ্রণেতা। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে বারবার ‘পরিত্যাগ’ এবং জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ‘সম্পূর্ণ অযোগ্যতার’ অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এমন কাউকে দেশের ভবিষ্যৎ ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।এদিকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে ও পরে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা খতিয়ে দেখতে ইসরায়েলে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে বিরোধী দল ও দেশটির সমাজের একটি বড় অংশ। তবে নেতানিয়াহু সরকার এ ধরনের রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সরকারের নিয়োগ করা একটি তদন্ত প্যানেলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এ কারণে রাজনৈতিক দায় এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে।নেতানিয়াহু আগামী পার্লামেন্ট নির্বাচনেও রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসরায়েলে পরবর্তী পার্লামেন্ট নির্বাচন আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং সাম্প্রতিক জনমত জরিপে নেতানিয়াহু ও তাঁর দল লিকুদ পার্টির জনপ্রিয়তায় পতনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এর পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বিচার চলছে। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়েও আন্তর্জাতিকভাবে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।/টি

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬

সৌদির কাছে ৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাবিত অস্ত্রের তালিকায় বিভিন্ন ধরনের বোমা, লক্ষ্য নির্ধারণ ও পরিচালনার জন্য গাইডেন্স কিট এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। এ অস্ত্র সরবরাহের ফলে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার হবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন অস্ত্র ও সরঞ্জাম সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে দেশটি আঞ্চলিক বর্তমান ও ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবিলা, নিজ ভূখণ্ডের নিরাপত্তা জোরদার এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে পারবে।যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, সৌদি আরবকে এই অস্ত্র সরবরাহের উদ্যোগ দেশটির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণেও ভূমিকা রাখবে। ওয়াশিংটন সৌদি আরবকে ন্যাটোর সদস্য নয়—এমন একটি ‘প্রধান মিত্র’ হিসেবে বিবেচনা করে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কের মধ্যেই নতুন এই অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব সামনে এলো।এদিকে চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর সৌদি আরবও আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাবের মুখে পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি বাহিনী এবং তেহরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।অস্ত্র বিক্রির এই প্রস্তাব সম্পর্কে মার্কিন কংগ্রেসকেও অবহিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করতে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের অনুমোদন এখনো প্রয়োজন। কংগ্রেসের অনুমোদন পাওয়ার পরই সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের এসব অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।/টি

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬

শূকরের কিডনি নিয়ে ২৭১ দিন বহাল তবিয়তে ছিলেন তিনি

শূকরের কিডনি নিয়ে ২৭১ দিন বহাল তবিয়তে ছিলেন তিনিশূকরের শরীর থেকে প্রতিস্থাপন করা একটি কিডনি এক রোগীর শরীরে ২৭১ দিন কার্যকর ছিল। এটি এ ধরনের  চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের রেকর্ড বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকেরা। খবর বিবিসিরকিডনি প্রতিস্থাপন করা ওই রোগীর নাম টিম অ্যান্ড্রুজ।  তিনি জানান, এই চিকিৎসা তাকে নতুন করে বাঁচার আশা দিয়েছে। একই সঙ্গে কয়েক মাস হাসপাতালে গিয়ে ডায়ালাইসিস মেশিনের মাধ্যমে রক্ত পরিশোধনও করতে হয়নি তাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাস জেনারেল ব্রিগহাম হাসপাতালের চিকিৎসক দল বলছে, তাদের এই সাফল্য প্রমাণ করে, মানুষের কিডনি পাওয়া পর্যন্ত শূকরের অঙ্গকে ‘সেতু’ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে।তবে ২৭১ দিন পর শূকরের কিডনিটি শেষ পর্যন্ত কাজ করা বন্ধ করে দেয়। চিকিৎসকেরা সেটি অপসারণ করেন। এরপর নতুন মানবদাতা পাওয়া পর্যন্ত অ্যান্ড্রুজকে অল্প সময়ের জন্য আবার ডায়ালাইসিস নিতে হয়।অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় কিডনির সংকট দীর্ঘদিনের। এ কারণে বিজ্ঞানীরা অন্য প্রাণীর অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছেন। এই পদ্ধতিকে বলা হয় জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন (xenotransplantation)।যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ মানুষ কিডনি প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু  প্রতি বছর কেবল ২৫ হাজারের মতো কিডনি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়। যুক্তরাজ্যেও সাত হাজারের বেশি মানুষ কিডনি প্রতিস্থাপনের তালিকায় রয়েছেন।অ্যান্ড্রুজকে বলা হয়েছিল, কিডনি প্রতিস্থাপনের তালিকায় তার সুযোগ আসতে সাত বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কিন্তু ডায়ালাইসিসে একজন মানুষ গড়ে প্রায় পাঁচ বছর বাঁচেন।অ্যান্ড্রুজ বলেন, ‘আমার হাতে সময় কম ছিল। বিষয়টি খুবই হতাশাজনক হয়ে উঠছিল।’শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের সুযোগকে তিনি তাই ‘আশা’ এবং ‘সুড়ঙ্গের শেষের আলো’ হিসেবে দেখেছিলেন।কেন শূকরের কিডনি?গবেষকদের কাছে জেনোট্রান্সপ্লান্টেশনের জন্য শূকরকে সবচেয়ে উপযোগী প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ তাদের অঙ্গের আকার মানুষের অঙ্গের কাছাকাছি।তবে সাধারণ শূকরের কিডনি সরাসরি মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করা যায় না। মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সঙ্গে সঙ্গে সেটিকে বহিরাগত অঙ্গ হিসেবে শনাক্ত করে আক্রমণ শুরু করবে। ফলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই কিডনির কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অঙ্গটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।এই সমস্যা কাটাতে গবেষকেরা ইউকাটান মিনিয়েচার পিগ বা ছোট আকারের শূকরের বিশেষ জাত তৈরি করেছেন। এসব শূকরের জিনে মোট ৬৯টি পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে তাদের অঙ্গ মানুষের শরীরের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।এই জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে শূকরের কোষের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য বাদ দেওয়া হয়েছে, যেগুলো মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সহজেই শনাক্ত করে আক্রমণ করে।এ ছাড়া শূকরের অঙ্গে কিছু মানব জিন যুক্ত করা হয়েছে, যা এক ধরনের আড়ালের মতো কাজ করে এবং মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা থেকে শূকরের টিস্যুকে লুকিয়ে রাখতে সাহায্য করে।শূকরের ডিএনএ-তে থাকা সম্ভাব্য ভাইরাসগুলোকেও নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে মানুষের শরীরে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।চিকিৎসকদের এই সাফল্য অঙ্গ সংকট মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। ভবিষ্যতে মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গের ঘাটতি পূরণে জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬

যেকোনো সময় ইরানে আবার হামলা চালাতে পারি: ট্রাম্প

ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা বিশ্বকে রক্ষা করতেই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র লড়াই করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইসরায়েলিদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘ইসরায়েলের চিন্তার কিছু নেই। আমি ইসরায়েলের দেখভাল করব।’ একইসঙ্গে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ভালো করছে দাবি করে প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় আবারও দেশটিতে হামলা চালানোর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন তিনি।তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলকে সহায়তার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তার জন্যও যুক্তরাষ্ট্র এই লড়াই করছে। ট্রাম্পের দাবি, ইসরায়েলকে ধ্বংস করার পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাত এবং পরবর্তী সময়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহরকে লক্ষ্যবস্তু করত।এর আগে তেহরানের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে ইসরায়েলিদের আশ্বস্ত করেন ট্রাম্প। ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম কানকে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের চিন্তার কিছু নেই’, কারণ তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশটির দেখভাল করবেন। প্রায় এক মাসের বিরতির পর নতুন করে সংঘাত শুরুর সময় তার এই বক্তব্য এসেছে। এর আগে সপ্তাহান্তে ইরানের লারাক দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।এদিকে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন ট্রাম্প। তার দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং বড় ধরনের সমস্যা ছাড়াই তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল করছে। ইরান সেখানে রাডার, ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ও মাইন স্থাপনের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছিল বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প জানান, এসব তৎপরতা শনাক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর হামলা চালিয়েছে এবং ইরানের তৈরি করা প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে।প্রয়োজনে আবারও ইরানে হামলার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। পরে ইরানের গণমাধ্যম কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক, চাবাহার ও কোনারাকে বিস্ফোরণের খবর জানায়। আইআরজিসি দাবি করেছে, এর জবাবে কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।/টি

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬

ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ দফার হামলা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-সংশ্লিষ্ট একাধিক সামরিক স্থাপনায় এ হামলা চালানো হয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।সেন্টকমের দাবি, হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার স্থাপনা, সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতা ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো, সমুদ্রপথে মাইন পাতা-সংক্রান্ত ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন যোগাযোগকেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী বলছে, ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। তবে সেন্টকমের হামলার ঘোষণার পরও অঞ্চলটিতে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন হামলার জবাবে ইরান জর্ডান, ইরাক ও বাহরাইনে মার্কিন স্বার্থ ও সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। জর্ডান ও বাহরাইন জানিয়েছে, তারা কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে। এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ উঠেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌ চলাচল নিয়েও নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।/টি

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬

মোদি-পুতিনের বড় সমীকরণ, চীন-পাকিস্তানকে ঘিরে কঠিন সিদ্ধান্ত

কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের পরই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে জোরালো হচ্ছে মস্কো-নয়াদিল্লি আলোচনা। কয়েক দিনের মধ্যেই নয়াদিল্লিতে আবারও দুই নেতার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যেই ভারতকে রাশিয়ার অত্যাধুনিক এস-৫০০ প্রোমিথিউস আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং এসইউ-৫৭ ফেলন স্টেলথ যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব দিয়েছে মস্কো। একই সঙ্গে আরও পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন দেওয়ার প্রস্তাবও সামনে এসেছে।রাশিয়ার প্রস্তাবের কেন্দ্রে রয়েছে এস-৫০০। ইতোমধ্যে ভারতের হাতে রুশ নির্মিত এস-৪০০ থাকায় মস্কো নতুন ব্যবস্থাটিকে দুই দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ হিসেবে তুলে ধরছে। গত বছর ‘অপারেশন সিন্ধু’র সময় পাকিস্তানের দিক থেকে আসা বিমান হামলার হুমকি মোকাবিলায় এস-৪০০ ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকেও সামনে আনছে রাশিয়া। তবে এস-৫০০ কেনার সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য সহজ নয়। কারণ দেশটি একই সময়ে ‘প্রজেক্ট কুশা’র আওতায় নিজস্ব দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতাও বাড়াচ্ছে।অন্যদিকে ভারতের যুদ্ধবিমান বহর নিয়েও তৈরি হয়েছে বড় উদ্বেগ। দেশটির নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের এএমসিএ যুদ্ধবিমান হাতে পেতে আরও সময় লাগতে পারে। এই সুযোগেই এসইউ-৫৭ নিয়ে ভারতকে আগ্রহী করে তুলছে মস্কো। রাশিয়ার প্রস্তাবে প্রযুক্তি হস্তান্তর, ভারতে স্থানীয় উৎপাদন ও প্রয়োজনীয় উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির সুযোগের ইঙ্গিত রয়েছে। কিন্তু এসইউ-৫৭ কিনলে নতুন যুদ্ধবিমান বহরে যুক্ত করার পাশাপাশি আলাদা প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, অস্ত্র, খুচরা যন্ত্রাংশ ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে—যা দীর্ঘমেয়াদে বাড়াবে ব্যয় ও পরিচালন জটিলতা।ভারতের সিদ্ধান্তকে আরও কঠিন করে তুলছে চীন ও পাকিস্তানের স্টেলথ যুদ্ধবিমান সক্ষমতা। চীনের কাছে ইতোমধ্যেই ৫০০টির বেশি জে-২০ স্টেলথ যুদ্ধবিমান রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে পাকিস্তানও চীনের তৈরি জে-৩৫ যুদ্ধবিমান পাওয়ার পথে এগোচ্ছে। ফলে ভারত একদিকে এএমসিএর জন্য অপেক্ষা করে স্টেলথ যুদ্ধবিমানের ঘাটতি দীর্ঘায়িত করবে, নাকি অন্তর্বর্তী সমাধান হিসেবে এসইউ-৫৭ কিনবে—সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। এর সঙ্গে রয়েছে রাশিয়ার সঙ্গে পুরোনো এফজিএফএ প্রকল্পের ইতিহাস, যা একসময় রুশ পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানকে ভিত্তি করে ভারতীয় সংস্করণ তৈরির লক্ষ্য নিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।এস-৫০০ ও এসইউ-৫৭-এর বাইরেও ভারতের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে মস্কো। ভোরোনেঝ কৌশলগত আগাম সতর্কতা রাডারের ব্যবহার সম্প্রসারণ, এসইউ-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান আধুনিকায়ন এবং কিলো-শ্রেণির সাবমেরিনের উন্নয়ন নিয়েও সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ইসরায়েলের পাশাপাশি নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পেও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ফলে রাশিয়াকে পুরোনো সামরিক সম্পর্কের সুবিধা কাজে লাগিয়েই নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির জন্য প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। মোদি-পুতিনের আসন্ন বৈঠকে তাই শুধু অস্ত্র কেনাবেচা নয়, আগামী দুই দশকে ভারতের সামরিক সক্ষমতার গতিপথও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।/টি

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬

২০২৭ সালের রমজান শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

 পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখের হিসাব প্রকাশ করেছে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থাগুলো। হিসাব অনুযায়ী, আগামী বছর ৮ ফেব্রুয়ারি, সোমবার থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে। তবে চাঁদ দেখার ওপর রমজানের সূচনা নির্ভর করায় এ তারিখে পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, হিজরি বর্ষপঞ্জি চন্দ্রভিত্তিক হওয়ায় প্রতিবছর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে রমজান প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে আসে। সেই হিসাবে ২০২৭ সালের রমজান চলতি বছরের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন আগে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রমজানের নতুন চাঁদ দেখা যেতে পারে।নতুন চাঁদ ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় দেখা গেলে সেদিন রাত থেকেই রমজানের প্রথম তারাবির নামাজ আদায় শুরু হতে পারে। পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মুসলমানরা প্রথম রোজা রাখবেন। সাধারণত রমজান মাস ২৯ অথবা ৩০ দিনের হয়ে থাকে। মাসের শেষও নতুন চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে শুরু হবে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ঈদুল ফিতর ১০ মার্চ, বুধবার হতে পারে।ইসলামি বর্ষপঞ্জির নবম মাস রমজান মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এ মাসেই মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল শুরু হয়। রমজানে মুসলমানরা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা পালন করেন। পাশাপাশি নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা, আত্মসংযম এবং পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।২০২৭ সালের রমজান সামনে রেখে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে প্রস্তুতি শুরু হতে পারে। মসজিদ ও জনসেবামূলক কার্যক্রমের প্রস্তুতির পাশাপাশি রমজানের চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও ঘোষণা করা হবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব থেকে সম্ভাব্য তারিখ আগে জানা গেলেও রমজানের আনুষ্ঠানিক সূচনা ও ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের চাঁদ দেখার সিদ্ধান্ত।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইরানি দ্বীপ লারাকে মার্কিন বাহিনীর হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত মার্কিন নৌযান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোরে ইরানের বিভিন্ন এলাকা থেকে আঞ্চলিক একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সময় এ হামলা চালানো হয়। ইরানের অভিজাত প্রতিরক্ষা বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে পাল্টা হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।ইরানের প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত মার্কিন নৌযানগুলো লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সিরিকে বিস্ফোরণের খবর প্রচার করা হয়েছে। এসব বিস্ফোরণ হরমুজ প্রণালিতে চালানো হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমান ঘাঁটিতেও ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। ইরানের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম আজিজি যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের সংকল্প আবার পরীক্ষা করা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বড় মূল্য দিতে হবে। কোনো অপরাধই জবাবহীন থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী হরমুজ প্রণালি অঞ্চলের ইরানি দ্বীপ লারাকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। অভিযোগ করা হয়, ওই ব্যবস্থা থেকে হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র-মাইন বহনকারী রকেট ছোড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। আইআরজিসি জানিয়েছে, ওই হামলায় কয়েকজন যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাটি ড্রোনের মাধ্যমে চালানো হয়ে থাকতে পারে।চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে দুই দেশের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। জুনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় একটি কাঠামোগত চুক্তি হলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল নিয়ে বিরোধের জেরে জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের বোমা হামলা চালানোর পাশাপাশি পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপ করে। সর্বশেষ লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলা ও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় দুই দেশের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।/টি

আগস্ট ৩১, ২০২৬

মুসলিমদের বিভেদই শত্রুর প্রধান লক্ষ্য: খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘প্রকৃত শত্রুর’ মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়েছেন। মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করাই শত্রুপক্ষের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ইঙ্গিত করে খামেনি বলেন, মুসলিম দেশগুলোর জাতিগত, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক পার্থক্যকে কাজে লাগিয়ে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। তার দাবি, মুসলিম বিশ্বের বিভক্তি ও দুর্বলতার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে এসব শক্তি, যাতে উপযুক্ত সময়ে মুসলিম দেশগুলোর ওপর নিজেদের প্রভাব ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে।মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে পারে—এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান খামেনি। তিনি প্রশ্ন করেন, মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ফিলিস্তিনিরা এতটা অসহায় হয়ে দখলদারদের নির্যাতন ও অপরাধের শিকার হতো কি না। তার মতে, মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ফিলিস্তিনসহ বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রসঙ্গ টেনে খামেনি বলেন, মুসলিম দেশগুলো ইসলামি ঐক্যের ছাতার নিচে একজোট হলে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের কোনো শক্তির পক্ষে এসব দেশের ভূমি ও সম্পদের দিকে লোলুপ দৃষ্টি দেওয়ার সাহস হতো না। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের নিজেদের মধ্যে বিভেদ এড়িয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।খামেনি মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের উদ্দেশে বলেন, তাদের প্রকৃত শত্রুকে চিহ্নিত করতে হবে, শত্রুর পরিকল্পনা বুঝতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব এবং ইসরাইলকে মুসলিম ঐক্য ও বন্ধুত্বের ‘চিরশত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এসব শক্তি শুধু ইরান, ইরানের জনগণ বা ইসলামি প্রতিরোধের বিরোধী নয়; পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকাসহ পুরো মুসলিম বিশ্বের জনগণের প্রতিও তাদের বৈরিতা রয়েছে।/টিএ

আগস্ট ৩০, ২০২৬

হামলা-পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত ইউক্রেন-রাশিয়া, কিয়েভে নিহত ২৭

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে বুচা এলাকায় একটি বাণিজ্যিক গুদামে রাশিয়ার শক্তিশালী ড্রোন হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) মধ্যরাতে চালানো এই হামলায় গুদামটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায় এবং একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জীবন বাঁচাতে ওই এলাকার প্রায় ৪০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।আঞ্চলিক গভর্নর তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, হামলায় চার শিশুসহ আরও ৪২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণ ও আগুনে গুদামটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হতাহতদের উদ্ধার ও আহতদের চিকিৎসায় স্থানীয় জরুরি সেবা সংস্থাগুলো কাজ করছে।রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, দূরপাল্লার ড্রোন তৈরির যন্ত্রাংশ ও গোলাবারুদ সংরক্ষণের একটি গোপন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে জনবসতির এত কাছে কীভাবে ওই গোলাবারুদ মজুদ করা হয়েছিল এবং এর পেছনে কারও অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত শুরু করেছে ইউক্রেন সরকার।একই রাতে কিয়েভসহ ওডেসা, সুমি ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ড্রোন হামলা চালায় রুশ বাহিনী। এসব হামলায় এক কিশোরসহ আরও বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর আকাশে অভিযান চালিয়ে তারা রাশিয়ার ২৩৩টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে।এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভূখণ্ডের সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোতে হামলা জোরদার করেছে। রাশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় দুজন নিহত ও ২১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একটি বড় অনলাইন কেনাকাটা প্রতিষ্ঠানের গুদামও ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলমান হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে কিয়েভ বিশ্বনেতাদের কাছে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ এবং রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে।/টি

আগস্ট ২৯, ২০২৬

এবার বিশ্বের সব দেশকে সতর্ক করল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার জেরে বিশ্বের সব দেশকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে কোনো দেশ সহায়তা করলে তাদেরও যুক্তরাষ্ট্র্রেরই সমতুল্য অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক সতর্কবার্তায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো রাষ্ট্র যদি যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে, তবে তারা অন্যের অবৈধ ইচ্ছা জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার সহযোগী বলে বিবেচিত হবে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় ইরানি মন্ত্রণালয় মার্কিন এই পদক্ষেপকে 'বেআইনি, নিন্দনীয়, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ' হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির দাবি, এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও স্বাস্থ্যসেবা চরম ঝুঁকিতে পড়বে।আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আইনের শাসন রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন অর্থনৈতিক ও সামরিক আগ্রাসন থেকে নিজেদের সুরক্ষায় সব ধরনের সক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে।এর আগে গত সপ্তাহে ইরানের ওপর ইতিহাসের অন্যতম কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেসময় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সূত্র: রয়টার্স

আগস্ট ২৮, ২০২৬

নেপালে বন্যায় মরদেহ ভেসে গেছে অনেক দূরে, মর্গগুলোতেও আর জায়গা নেই

নেপালের ভোটেকোশী নদীতে সংঘটিত ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তীব্র স্রোতের কারণে বহু মরদেহ ভেসে দূরদূরান্তের জেলাগুলোতে চলে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ও মর্গ ব্যবস্থাপনায় তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।গত বুধবার নেপালের ভোটেকোশি জেলা এই আকস্মিক ও শক্তিশালী বন্যাকবলিত হয়। দেশটির পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ৫৪৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নদীর পানির প্রচণ্ড বেগের কারণে মরদেহগুলো ভাটির দিকে বহু দূরে চলে গেছে। রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার মানুষের মরদেহ চিতওয়ান, তানাহুন ও নাওয়ালপারাসির মতো দূরবর্তী এলাকা থেকেও উদ্ধার করা হচ্ছে।এদিকে অতিরিক্ত মরদেহ আসার ফলে নুয়াকোট, ধাদিং ও নাওয়ালপারাসি জেলার মর্গগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। চাপ সামলাতে কিছু মরদেহ পাশের জেলার মর্গে পাঠানো হয়েছে। চিতওয়ান ও পোখরা হাসপাতালের মর্গগুলোতেও ধারণক্ষমতা শেষ হয়ে যাওয়ায় চিতওয়ানে একটি অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চিতওয়ানের ত্রিশূলি ও নারায়ণী নদীর তীরবর্তী অঞ্চল থেকে ১৩৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং সেখানে উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। চিতওয়ান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মূল মর্গের ধারণক্ষমতা মাত্র ৩০ থেকে ৫০টি হলেও নতুন অস্থায়ী মর্গে প্রায় ২৫০টি মরদেহ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।সবচেয়ে বেশি মরদেহ চিতওয়ানে থাকায় নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ এই হাসপাতালেই ভিড় করছেন। 

আগস্ট ২৮, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo