logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/আন্তর্জাতিক
ফের বন্ধ করে দেওয়া হলো হরমুজ পথ - image

ফের বন্ধ করে দেওয়া হলো হরমুজ পথ

18 এপ্রিল 2026, বিকাল 4:00

খুলে দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। আজ শনিবার দুপুরে ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড এক জরুরি বিবৃতিতে এই অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো প্রণালির ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণ এখন থেকে আবারও সরাসরি সামরিক বাহিনীর হাতে ন্যস্ত থাকবে।গতকাল শুক্রবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে ইরান ঘোষণা করেছিল যে, বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য এই পথটি খুলে দেওয়া হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, যুদ্ধবিরতি চলাকালে নির্দিষ্ট কিছু রুট অনুসরণ করে জাহাজগুলো যাতায়াত করতে পারবে। এই ঘোষণাটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও তা স্থায়ী হতে পারল না মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি বার্তার কারণে।আরাগচির ঘোষণার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এক কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ইরান প্রণালি খুলে দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো চূড়ান্ত ও সফল চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে। ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান তেহরানকে নতুন করে ভাবিয়ে তোলে।মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বার্তার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ পাল্টাহুঁশিয়ারি দেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রাখে, তবে ইরানও হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় উন্মুক্ত রাখবে না। ঘালিবাফের এই বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ইরানি সামরিক কমান্ড প্রণালিটি পুনরায় বন্ধ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তজনা সৃষ্টি করেছে।বিশ্বের মোট খনিজ তেলের বড় একটি অংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে ইরানের এই আকস্মিক পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কূটনীতিকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই 'ইঁদুর-বেড়াল' লড়াই এবং পাল্টাপাল্টি অবরোধের কারণে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আবারও খাদের কিনারায় গিয়ে পৌঁছেছে।/টিএ

এপ্রিল ১৮, ২০২৬

ভোররাতে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ৫ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় বলে জানায় পাকিস্তানের জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্র। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৫।ভূমিকম্পের সময় অনেক মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল থেকে বাইরে বের হয়ে আসেন।কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতমালা এলাকায় এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ১৯৯ কিলোমিটার। গভীর ভূমিকম্প সাধারণত বিস্তৃত অঞ্চলে অনুভূত হয় বলে একাধিক শহরে কম্পন ছড়িয়ে পড়ে।রাজধানী ইসলামাবাদ ছাড়াও খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ার, সোয়াত, চিত্রাল, লোয়ার দির, মালাকান্দ, খাইবার ও চারসাদ্দাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভূকম্পন অনুভূত হয়। এছাড়া বুনের, বাট্টাগ্রাম, আপার দির, হারিপুর, ঘিজার, শাংলা, মানসেহরা ও তোরঘরসহ আরও কয়েকটি অঞ্চলেও কম্পন টের পাওয়া যায়।প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য না মিললেও কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।/টিএ

এপ্রিল ১৮, ২০২৬

দিল্লি বিমানবন্দরে দুই বিমানের সংঘর্ষ, অল্পের জন্য রক্ষা শতাধিক যাত্রী

ভারতের রাজধানী দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেল। স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিট নাগাদ ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (IGI) টার্মিনালে ব্যস্ততার মধ্যেই মুখোমুখি হয় দুটি যাত্রীবাহী বিমান। রানওয়েতে চলাচলের সময় ‘আকাশ এয়ার’ (Akasa Air) ও ‘স্পাইসজেট’ (SpiceJet)-এর বিমানের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা গেছে, লেহ থেকে আসা স্পাইসজেটের একটি বিমান (VT-SLB) নিরাপদে অবতরণের পর গেটের দিকে এগোচ্ছিল। ঠিক সেই সময় আকাশ এয়ারের হায়দরাবাদগামী একটি বিমান (VT-YBA) পুশ-ব্যাক করছিল। এই অবস্থায় দুটি বিমানের মধ্যে হালকা ধাক্কা লাগে। প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, স্পাইসজেটের বিমানের ডানার অংশ আকাশ এয়ারের বিমানের উইংয়ে আঘাত করে।তবে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও স্বস্তির বিষয়, এই ঘটনায় কোনও যাত্রী বা বিমানকর্মী আহত হননি। নিয়ম অনুযায়ী সঙ্গে সঙ্গে দুটি বিমানই পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সরিয়ে নেওয়া হয় এবং যান্ত্রিক ত্রুটি আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিমানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে দেখা গেছে, স্পাইসজেট বিমানের ডানার একটি অংশ ভেঙে গিয়ে আকাশ এয়ারের বিমানের পিছনের ফ্ল্যাপে আটকে রয়েছে। ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে ইতিমধ্যেই ভারতের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA) তদন্ত শুরু করেছে।এই ঘটনার প্রভাব সাময়িকভাবে সংশ্লিষ্ট রুটের উড়ান পরিষেবায় পড়েছে। তবে দিল্লি বিমানবন্দরের সামগ্রিক ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পেছনে যান্ত্রিক ত্রুটি, নাকি গ্রাউন্ড স্টাফদের গাফিলতি— তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।/টিএ

এপ্রিল ১৬, ২০২৬

আব্বাস আরাঘচিকে যে বার্তা দিলেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সাথে এক ফোনালাপে তিনি বর্তমান সময়কে অত্যন্ত সংকটময় হিসেবে অভিহিত করেন। ওয়াং ই জানান, মধ্যপ্রাচ্য এখন কার্যত "যুদ্ধ ও শান্তির মাঝামাঝি এক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে" দাঁড়িয়ে আছে।ফোনালাপের সময় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, যদিও উত্তেজনা চরমে, তবুও এখনো সংঘাত প্রশমনের একটি সুযোগ অবশিষ্ট রয়েছে। তিনি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। যেকোনো মূল্যে বড় ধরনের যুদ্ধ এড়ানোর জন্য তিনি সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান।শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ওয়াং ই বলেন, চীন সব সময়ই যুদ্ধবিরতি এবং সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা নিরসনে বেইজিংয়ের অবস্থান পুনরায় স্পষ্ট করেন।আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে ওয়াং ই বিশেষভাবে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি উপকূলবর্তী দেশ হিসেবে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও অধিকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মান জানানো উচিত। একইসঙ্গে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা ও অবাধ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান, যা বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অপরিহার্য।পরিশেষে ওয়াং ই জানান, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নীতির আলোকে বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যে একটি গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত। চীনের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। সংকট নিরসনে বেইজিং ভবিষ্যতেও তেহরানসহ অন্যান্য অংশীদারদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

এপ্রিল ১৬, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়াতে চায় না ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান অস্থিরতা নিরসনে এবার কোনো সাময়িক সমাধান নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গত ৮ এপ্রিল স্বাক্ষরিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ তিনি আর বাড়াতে আগ্রহী নন। এর বদলে একটি বড় ধরনের সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে দুদেশের মধ্যকার যাবতীয় সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে চায় ওয়াশিংটন।প্রেসিডেন্টের সুরেই সুর মিলিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র কেবল সীমিত পরিসরের কোনো চুক্তিতে আটকে থাকতে চায় না। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির আঞ্চলিক ভূমিকার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে একটি বিস্তৃত ও শক্ত সমাধান চায় হোয়াইট হাউস। তবে ভান্স স্বীকার করেছেন যে, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সঞ্চিত অবিশ্বাসের পাহাড় ডিঙিয়ে এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছানো বেশ সময়সাপেক্ষ কাজ।চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই গত ১২ এপ্রিল পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়। আলোচনার টেবিলে কোনো সমঝোতা না আসায় ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর নৌ অবরোধ আরোপ করে। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং সংঘাতের আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে অবশ্য আলোচনায় বসার কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে বিদ্যমান সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ কতটুকু প্রশমিত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং ইরানের পাল্টা কৌশলের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ এখন অত্যন্ত জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে।বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যদি বড় কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি না ঘটে, তবে অঞ্চলটি আবারও বড় ধরনের সশস্ত্র সংঘাতের মুখে পড়তে পারে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে, কারণ এই চুক্তির ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা।/টিএ

এপ্রিল ১৫, ২০২৬

তেহরানের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক বৈঠকটি সফল না হলেও, পুনরায় আলোচনায় বসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা নিরসনে আবারও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এবারের আলোচনার টেবিল প্রস্তুত করার আগে তেহরানের সামনে দুটি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইসরায়েলি এক গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে এবং বেশ কিছু পক্ষ একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছাতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটন এই আলোচনাকে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।মার্কিন প্রশাসনের দেওয়া প্রথম শর্তটি মূলত কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আলোচনা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র চায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেন সব ধরনের জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণভাবে ও বাধাহীনভাবে নিশ্চিত করা হয়। ওয়াশিংটন ‘পারস্পরিকতা’ নীতির কথা উল্লেখ করে সতর্ক করেছে যে, ইরান যদি এই জলপথে জাহাজ চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটায়, তবে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।দ্বিতীয় শর্তটি আলোচনার স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে যে, আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধি দলের অবশ্যই ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর পূর্ণ অনুমোদন থাকতে হবে। মূলত যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তি যেন দ্রুত এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত করা যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই শর্তারোপ করা হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শর্তের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলেও এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তেহরান এই শর্ত মেনে আলোচনায় বসবে নাকি নিজস্ব কোনো পাল্টা দাবি উত্থাপন করবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা চলছে। সামনের কয়েক দিন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির মোড় পরিবর্তনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এপ্রিল ১৫, ২০২৬

ইরানের বন্দর ঘিরে মার্কিন অবরোধ, বাড়ছে উত্তেজনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত সময় অনুযায়ী ইরানের সব বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকর হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই অবরোধের আওতাভুক্ত জলসীমায় প্রবেশকারী যেকোনো জাহাজকে থামানো, পথ পরিবর্তনে বাধ্য করা কিংবা প্রয়োজনে জব্দ করা হতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) থেকে এই অবরোধ কার্যকর হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, অবরোধ শুরুর আগেই নাবিক এবং যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থাকে সতর্ক করা হয়েছিল। সতর্কবার্তায় বলা হয়, পতাকা নির্বিশেষে সব ধরনের জাহাজ চলাচলের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে।তবে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের বাইরে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণ ট্রানজিট প্যাসেজ সরাসরি বাধাগ্রস্ত হওয়ার কথা নয়। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, ওই অঞ্চলে প্রবেশকারী জাহাজগুলো সামরিক উপস্থিতির কারণে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরান আলোচনায় ফিরুক বা না ফিরুক, এতে তাঁর কোনো সমস্যা নেই। ফ্লোরিডা থেকে ফেরার পর মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরান আলোচনায় না ফিরলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না।এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকটি ছিল এক দশকেরও বেশি সময় পর প্রথম সরাসরি আলোচনা এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের সংলাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেন, দুই দেশ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয়নি। সূত্র: আল–জাজিরা/টিএ

এপ্রিল ১৩, ২০২৬

ইরানে ফের বিমান হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প

ইরানে আবারও বিমান হামলা চালানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মূলত পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনায় যুদ্ধের কোনো স্থায়ী সমাধান না আসায় যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক শক্তির পথে হাঁটার এই পরিকল্পনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কেবল বিমান হামলা নয়, বরং আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপের ছক কষছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ‘হরমুজ প্রণালী’ সম্পূর্ণ অবরোধ করা। উল্লেখ্য, গত রবিবারই ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে এই অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন।এই সংঘাতময় পরিস্থিতির বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলে জানানো হয়, ইরানের ক্ষেত্রে সব ধরনের বিকল্পই এখন পর্যন্ত খোলা রাখা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন এই মুহূর্তে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত না বললেও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না, যা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতাকে আরও উসকে দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন, যার মূল লক্ষ্য ইরানের তথাকথিত ‘চাঁদাবাজি’ বন্ধ করা। একই সঙ্গে তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে অন্যান্য সব অতিরিক্ত বিকল্পের পথও খোলা রেখেছেন।” তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করছে।গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যগুলোকে কিছুটা ‘অনুমান’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ওয়েলস আরও যোগ করেন, “কে কী বলছে বা সংবাদমাধ্যমকে কে কী তথ্য দিচ্ছে, এগুলো কেবলই ধারণা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরবর্তীতে আসলে কী পদক্ষেপ নেবেন, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে কারও পক্ষেই জানা সম্ভব নয়।” ফলে বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন হোয়াইট হাউসের পরবর্তী দাপ্তরিক আদেশের দিকে।/টিএ

এপ্রিল ১৩, ২০২৬

নাইজেরিয়ায় বাজারে ভয়াবহ বিমান হামলা, ২০০ জনের বেশি নিহতের শঙ্কা

নাইজেরিয়ার বোর্নো রাজ্যের সীমান্তবর্তী ইয়োবোর একটি বাজারে বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির বিমানবাহিনী। এতে ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।সোমবার (১৩ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শনিবার রাতে জিল্লি নামে ওই গ্রাম্য বাজারে দেশটির বিমান হামলা চালায়। এতে প্রায় দুইশ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও এক কাউন্সিলর।প্রতিবেদনে নাইজেরিয়ার বিমানবাহিনীর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, তারা জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের যোদ্ধাদের টার্গেট করেছে। তবে বাজারে হামলার বিষয়টি বিমানবাহিনী উল্লেখ করেনি।যেখানে বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে সেখানে মিলিশিয়াদের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। এতে সেখানে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ওই অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।বোর্নোর সীমান্তবর্তী ইয়োবোর গেইদাম বিভাগের ফুচিমেরাম প্রধান ও কাউন্সিলর লাওয়ান জান্না নুর বলেছেন, ‘আহতদের ইয়োবো ও বোর্নোতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, ‘জিল্লি বাজারে একটি খুবই বিপর্যয়কর একটি ঘটনা। বাজারে বিমান হামলায় ২০০ জনের বেশি মানুষ তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।’/টিএ 

এপ্রিল ১৩, ২০২৬

আলোচনা ব্যর্থ, আবারো কি যুদ্ধ শুরু করবেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস বৈঠকের পর কোনো পক্ষই সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে কোনো চুক্তি ছাড়াই ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এই ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে দুই দেশের বৈরী সম্পর্ক এক নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন মাত্র তিনটি পথ খোলা আছে। প্রথমত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি দরকষাকষি চালিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, স্থগিত হওয়া যুদ্ধ পুনরায় শুরু করা—যা ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। আর তৃতীয় পথটি হলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়া।আলোচনা শেষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের 'রেডলাইন' বা চূড়ান্ত সীমার বিষয়ে অনড় ছিল। তিনি বলেন, "আমরা স্পষ্ট করেছি কোন কোন জায়গায় আমরা ছাড় দেব, কিন্তু ইরান আমাদের শর্ত মানতে রাজি হয়নি।" অন্যদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফ্লোরিডা থেকে ঘোষণা দেবেন। তবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মতে, ইরানের উচিত ছিল সহজভাবে আত্মসমর্পণ করা, যা তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে।এই সংকটের মূলে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ। ইরান এনপিটি (NPT) চুক্তির দোহাই দিয়ে নিজেদের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে অধিকার হিসেবে দাবি করছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই সুযোগ বজায় রেখে ইরান আসলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খোলা রাখতে চায়। গত ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ দুই পক্ষের এই অবস্থানকে নমনীয় করার পরিবর্তে আরও কঠোর ও জেদি করে তুলেছে।আগামী ২১ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলায় বিশ্ববাজারে এখন চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, তাই যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে অধিকার থেকে বিচ্যুত করা যাবে না। বর্তমানে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এক ভয়াবহ মোড়ের দিকে এগোচ্ছে।/টিএ

এপ্রিল ১২, ২০২৬

শেষ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের প্রথম দফার আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা শেষ হয়েছে। আড়াই ঘণ্টার এই আলোচনায় পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরাও উপস্থিত ছিলেন। আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই আলোচনা শুরু হয়।পাকিস্তানের দুজন সরকারি কর্মকর্তা বিবিসি উর্দুকে নিশ্চিত করেছেন, আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন দুই দেশের প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের আমন্ত্রণে নৈশভোজে অংশ নেবেন।একটি সূত্র অনুযায়ী, একটি সংক্ষিপ্ত বিরতির পর ত্রিপক্ষীয় আলোচনা রোববার পাকিস্তানের স্থানীয় সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে পুনরায় শুরু হবে।আল–জাজিরা বলছে, রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে। ধীরে ধীরে তথ্য আসছে কিন্তু তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা খুব কঠিন। আরও অপেক্ষা করতে হবে কী ঘটে। সরাসরি আলোচনা প্রায় দুই ঘণ্টা চলে। এরপর নৈশভোজের বিরতি দেওয়া হয়েছে। আবার এই আলোচনা শুরু হবে। তবে ঠিক কখন তা শুরু হবে তা নিশ্চিত করতে পারেননি আল-জাজিরার প্রতিনিধি।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৮ এপ্রিল ঘোষণা দেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে তার কথোপকথনের ভিত্তিতে তিনি ইরানের ওপর বোমা হামলা ও আক্রমণ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করছেন।এ প্রেক্ষাপটে শাহবাজ শরিফ এক বার্তায় লেখেন, গভীর বিনয়ের সঙ্গে আমি আনন্দের সংবাদ জানাচ্ছি যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।আলোচনার জন্য ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এ প্রস্তাবের বিষয়গুলো নিয়েই প্রাথমিক আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।/টিএ

এপ্রিল ১১, ২০২৬

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা শুরু

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি।প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪০ দিনের যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সামরিক উত্তেজনার পর যুদ্ধবিরতির সময় এই আলোচনা শুরু করা হয়। ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক পরামর্শ ও সমন্বয়ের ফলে আলোচনার পথ সুগম হয়েছে।তাসনিমের ইসলামাবাদ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আলোচনার অগ্রগতির অংশ হিসেবে-লেবানন থেকে দক্ষিণ লেবানন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলা কিছুটা কমেছে যা যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে আরও প্রযুক্তিগত ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনা প্রয়োজন।ইরান বলেছে-লেবাননে যুদ্ধবিরতি এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি, চুক্তি মানতে ইসরায়েলকে বাধ্য করতে হবে মার্কিন প্রশাসনের।পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই বিষয়টি জোরালোভাবে তোলা হয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর সন্দেহ বজায় রেখেই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে তেহরান।/টিএ  

এপ্রিল ১১, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo