logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে: আব্বাস আরাঘচি - image

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে: আব্বাস আরাঘচি

05 মে 2026, বিকাল 3:48

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পরোক্ষ আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেন। তবে আলোচনার সমান্তরালে হরমুজ প্রণালিতে উদ্ভূত সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন যে, এই রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই।আরাঘচি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তৃতীয় কোনো পক্ষ যেন যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাতের নতুন কোনো ‘গোলকধাঁধায়’ টেনে নিতে না পারে, সে বিষয়ে তাদের সজাগ থাকতে হবে। একইসঙ্গে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও উস্কানিমূলক তৎপরতা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ নৌ-অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-কে একটি ‘অচলাবস্থা প্রকল্প’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, এর মাধ্যমে সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযানে শতাধিক বিমান ও ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যার উদ্দেশ্য বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এই অঞ্চলের নৌ-নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমেরিকার জন্য বর্তমান পরিস্থিতি ‘অসহনীয়’ হয়ে উঠবে।প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনার মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে, দুই দেশ একে অপরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার পাল্টাপাল্টি দাবি করছে। ইরান দাবি করেছে তারা মার্কিন ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে তারা ইরানের দ্রুতগামী নৌযানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। আইআরজিসি তাদের ক্ষয়ক্ষতির খবর অস্বীকার করলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন যে, মার্কিন জাহাজে কোনো ধরনের হামলা হলে ইরানকে ‘পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে’।সার্বিক পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যদিও শিপিং জায়ান্ট ‘মায়েরস্ক’ দাবি করেছে যে মার্কিন সুরক্ষায় তাদের একটি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, তবে আইআরজিসি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে গত রাতে কোনো বাণিজ্যিক বা তেলবাহী ট্যাংকার ওই পথ দিয়ে যায়নি। কূটনৈতিক আলোচনার আশার মাঝেও সামরিক এই সংঘাত পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।/টিএ

মে ০৫, ২০২৬

কবে কমবে জ্বালানির দাম, জানালেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের কারণে বর্তমানে জ্বালানির দাম বাড়লেও বছরের শেষের দিকে তা কমে আসবে বলে প্রত্যাশা করছি। রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের বিজনেস নেটওয়ার্কের ‘সানডে মর্নিং ফিউচারস’ অনুষ্ঠানে এই প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘‘এই সংঘাতের পরবর্তী পর্যায়ে তেলের দাম অনেক কম হতে যাচ্ছে।’’ সংঘাত অব্যাহত থাকায় বর্তমানে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি শান্ত হলে তা আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন বেসেন্ট।আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।এএএ বলছে, গত মঙ্গলবার খুচরা পর্যায়ে গ্যাসোলিনের গড় দাম ৭ সেন্ট বেড়ে প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে; যা এক মাসের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির রেকর্ড। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে এখন পর্যন্ত গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালনে ১ দশমিক ১৯ ডলার কিংবা ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জ্বালানি ব্যয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।এদিকে, এনার্জি সার্ভিস ফার্ম বেকার হিউজ গত শুক্রবার বলেছে, মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলো টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের খনন যন্ত্র সংখ্যা বাড়িয়েছে। গত মার্চের মাঝামাঝি সময়ের পর এই প্রথম টানা দুই সপ্তাহ যন্ত্র সংখ্যা বাড়ানো হয়। সূত্র: ফক্স নিউজ। 

মে ০৩, ২০২৬

ইরানে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ১৪, আহত ২

যুদ্ধের রেশ  কাটতে না কাটতেই ইরানে একটি বোমা বিস্ফোরিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আর এই ঘটনায় দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ১৪ জন সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২ জন। ইরানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জানজানে একটি অবিস্ফোরিত বোমা অপসারণের সময় হঠাৎ করেই বোমাটি বিস্ফোরিত হয়।  আইআরজিসির আনসার আল মাহদি ইউনিট এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, বিস্ফোরিত বোমাটি কী ধরনের— তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিহতরা সবাই সেই ইউনিটের সবচেয়ে অভিজ্ঞ এবং বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের সদস্য ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।জানজান শহরে যে এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটেছে— সেখানে বেশ কিছু ক্লাস্টার বোমা এবং এয়ার-ড্রপড মাইন রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ওই এলাকায় বেশ কিছু বোমা ফেলেছিল মার্কিন বিমানবাহিনী— যেগুলো অবিস্ফোরিত থেকে গেছে। টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। জানজান শহরের ঘটনাকে চলমান যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিতে আইআরজিসির সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোতে।যুদ্ধবিরতির পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে অবিস্ফোরিত বোমার অনুসন্ধান এবং সেগুলো নিষ্ক্রিয় করার কাজ শুরু করে রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সদস্যরা। আইআরজিসির তথ্য অনুসারে, এ পর্যন্ত ১৫ হাজারেরও বেশি অবিস্ফোরিত বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে বাহিনীর বোমা বিশেষজ্ঞ টিম। তবে এই বোমাটি নিষ্ক্রিয় করতে যে দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে ইরানের (আইআরজিসি) বাহিনী , সেটি আগে কখনো ঘটেনি। এ/ই 

মে ০২, ২০২৬

ইরানে হামলা ‘ভুল সিদ্ধান্ত’—মনে করেন অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ভুল মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষ। নতুন এক জনমত জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরাওয়াশিংটন পোস্ট-এবিসি-ইপসোস পরিচালিত সমীক্ষা অনুযায়ী, ৬১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। বিপরীতে মাত্র ৩৬ শতাংশ এটিকে সঠিক বলে মনে করেছেন।চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সহিংসতা বেড়েছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। জরিপে দেখা গেছে, ৪৪ শতাংশ মানুষ জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে গাড়ি চালানো কমিয়ে দিয়েছেন এবং ৪২ শতাংশ পারিবারিক খরচ কমিয়েছেন। নিম্ন আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি।এ পরিস্থিতির মধ্যে প্রেসিডেন্ট -এর জনপ্রিয়তাও কমে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই সামরিক পদক্ষেপ তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।এদিকে যুদ্ধটি কতটা সফল হয়েছে—এ প্রশ্নে ৩৯ শতাংশ উত্তরদাতা নেতিবাচক মত দিয়েছেন, আর ৪১ শতাংশ বলেছেন এখনই এ বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয়।তবে রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে এই হামলার প্রতি সমর্থন তুলনামূলক বেশি রয়েছে। প্রায় ৮০ শতাংশ রিপাবলিকান উত্তরদাতা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে সঠিক বলে মনে করেছেন।বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এমআর

মে ০২, ২০২৬

১১ দেশ নিয়ে সামরিক মহড়া করছে ভারত, নেই বাংলাদেশের নাম

প্রথমবারের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ ১১ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার আয়োজন করেছে ভারতের সামরিক বাহিনী। তবে এই ১১ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। ভারতীয় সেনাবাহিনীর জনতথ্য (আইএসপিআর) বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।পোস্টে বলা হয়েছে, এই মহড়া আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরবে।জানা গেছে, আগামী ১৮ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য মেঘালয়ে হবে ‘প্রগতি’ নামের বহুজাতিক এই সামরিক মহড়া। এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে লাওস, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, সেশেলস, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, নেপাল, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া এবং ভুটান— এই ১১টি দেশ।এক্সবার্তায় আরও বলা হয়েছে, আসন্ন এ মহড়ার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো বিদ্রোহ দমন ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযান। এ দুই ইস্যু মোকাবিলায় যৌথ প্রশিক্ষণ এবং প্রতিরক্ষা কূটনীতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।“এটি প্রতিবেশী ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সম্পৃক্ততার একটি অংশ, যার মূল লক্ষ্য হলো সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যৌথ অভিযানের সামর্থ্য গড়ে তোলা”, বলা হয়েছে সেনাবাহিনীর জনতথ্য বিভাগের এক্সবার্তায়।ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে ভারত যেখানে একটি-দু’টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বা ত্রিপাক্ষিক সামরিক মহড়া করত, সেখানে একসঙ্গে ১১ দেশের সঙ্গে সামরিক মহড়ার আয়োজনে বোঝা যাচ্ছে যে ভারতের সামরিক বাহিনী এশিয়ার বিভিন্ন সামরিক শক্তির সঙ্গে কনসোর্টিয়াম- ধরনের সংযুক্তি চাইছে।অর্থাৎ সংক্ষেপে বলতে, আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতেই ভারত এই প্রথম বহুপক্ষীয় সামরিক মহড়া আয়োজন করতে যাচ্ছে। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

মে ০১, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের নৌবাহিনী প্রধানের

ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি এক চাঞ্চল্যকর ঘোষণায় জানিয়েছেন যে, তার দেশ খুব শীঘ্রই এমন একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র উন্মোচন করতে যাচ্ছে যা দেখে শত্রু পক্ষ আক্ষরিক অর্থেই ‘হার্ট অ্যাটাক’ করবে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। কমান্ডার শাহরাম ইরানি দাবি করেন, শত্রুপক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে যে আগ্রাসনের পরিকল্পনা করেছিল তা এখন সামরিক একাডেমিগুলোতে হাস্যরসের বিষয়ে পরিণত হয়েছে, কারণ তাদের কোনো লক্ষ্যই পূরণ হয়নি।আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নৌবাহিনীর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’-এর ওপর অন্তত সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার ফলে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ওই রণতরী থেকে কোনো যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন বা আকাশ অভিযান পরিচালনা করা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত ১০০ বার সফল পাল্টা আঘাত হেনেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।কমান্ডার ইরানি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভিযানে নৌ-প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেও অচলাবস্থায় রয়েছে এবং তাদের অতিরিক্ত ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করতে হয়েছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি শত্রু ও তাদের মিত্রদের জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষের কঠোর অনুমতি প্রয়োজন হচ্ছে। এমনকি আরব সাগরের দিক থেকেও এই পথটি বর্তমানে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানি জাহাজ ও বন্দর অবরোধের তীব্র নিন্দা জানিয়ে রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি একে ‘জলদস্যুতা’ এবং ‘জিম্মি করা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি মার্কিন বাহিনীকে সোমালি জলদস্যুদের চেয়েও ভয়াবহ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, তারা কেবল জাহাজ জব্দই করছে না, বরং নাবিক ও তাদের পরিবারকেও জিম্মি করে নৃশংসতা চালাচ্ছে। মার্কিন বাহিনীর এই কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে তেহরান।পরিশেষে, দেশের শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী ‘শেষ বিন্দু’ পর্যন্ত লড়াই করতে শপথবদ্ধ বলে জানান কমান্ডার ইরানি। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, শত্রুপক্ষ যদি আর সামান্যতম কাছাকাছি আসার দুঃসাহস দেখায়, তবে কোনো বিলম্ব ছাড়াই চূড়ান্ত অপারেশনাল পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইরানের এই আসন্ন মারণাস্ত্র এবং কঠোর অবস্থান শত্রুপক্ষকে গভীর অনুশোচনায় ফেলবে বলেও তিনি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।/টিএ

এপ্রিল ৩০, ২০২৬

নিজেদের তৈরি ভয়ংকর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো পাকিস্তান

দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের সামরিক আধিপত্য আরও একধাপ এগিয়ে নিল পাকিস্তান। চিরশত্রু ভারতকে টেক্কা দিতে এবার সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি 'ফতেহ-২' ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ইসলামাবাদ। আর এতে রীতিমতো ঘুম হারাম হয়ে গেছে প্রতিবেশী দেশগুলোর।উন্নত অ্যাভিওনিক্স এবং আধুনিক নেভিগেশন সরঞ্জামযুক্ত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয় মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল । পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর-এর বরাত দিয়ে জিও নিউজ জানিয়েছে, মূলত সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তিগত প্যারামিটার যাচাইয়ের লক্ষ্যেই এই সফল উৎক্ষেপণ পরিচালনা করা হয়েছে। আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা। আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফতেহ সিরিজের এই দেশীয় উন্নয়ন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন মাইলফলক যোগ করল, যা যুদ্ধক্ষেত্রে টিকে থাকার সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল পরীক্ষায় উল্লাস প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তারা এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আসিম মুনির এই অসামান্য অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট কারিগরি দল ও বিজ্ঞানীদের নিষ্ঠা ও প্রতিশ্রুতির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই সাফল্য পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে জানানো হয়।/টিএ

এপ্রিল ২৯, ২০২৬

পারমাণবিক ইস্যুতে অনড় ওয়াশিংটন: ইরানের শান্তি প্রস্তাব ফেরালেন ট্রাম্প

ইরানের পক্ষ থেকে পেশ করা যুদ্ধবিরতির সর্বশেষ প্রস্তাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, গতকাল সোমবার উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নেন। তেহরানের প্রস্তাবে পারমাণবিক ইস্যু বাদ রেখে আগে যুদ্ধ থামানো এবং পারস্য উপসাগরে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করার কথা বলা হলেও, ওয়াশিংটন তাদের 'আগে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ' নীতিতেই অটল রয়েছে।এই প্রত্যাখানের ফলে গত দুই মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটার সম্ভাবনা আবারও ফিকে হয়ে পড়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যে সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল, তা এখন আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে কোনো প্রকার দর-কষাকষিতে যাবে না যুক্তরাষ্ট্র; বরং তাদের পূর্বনির্ধারিত শর্ত মেনেই ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসতে হবে।শান্তি আলোচনার এই অচলাবস্থার প্রভাব সরাসরি আছড়ে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। আজ মঙ্গলবার সকালেও এশীয় বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী লক্ষ্য করা গেছে। বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা জানিয়েছেন, বর্তমানে কথার চেয়ে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে তেলের বাস্তব প্রবাহ ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের আগে এই পথে দৈনিক ১৪০টির মতো জাহাজ চললেও গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র সাতটি জাহাজ যাতায়াত করেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।কূটনৈতিক ফ্রন্টেও টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করেছে। ট্রাম্প তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তান সফর বাতিল করায় আলোচনার পথ অনেকটাই রুদ্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাশিয়া সফর করে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রকাশ্য সমর্থন লাভ করেছেন। আরাগচি অভিযোগ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে এখন চোরাগোপ্তা আলোচনার পথ খুঁজছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অসম্ভব।বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন দেশে ও বিদেশে দ্বিমুখী চাপের মুখে রয়েছে। একদিকে মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে পারস্য উপসাগরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যাকে ইরান 'সমুদ্রের জলদস্যুতা' বলে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে, নিজ দেশে যুদ্ধের যৌক্তিকতা প্রমাণে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাম্প। ইরানের প্রস্তাবে ধাপে ধাপে সংকট সমাধানের কথা বলা হলেও, দুই দেশের অনমনীয় মনোভাব বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।/টিএ

এপ্রিল ২৮, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তাকারী দেশগুলোকে সতর্ক করল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতির মাঝে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী যদি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইরানের কোনো স্থাপনায় হামলা চালায়, তবে ওয়াশিংটনের মিত্র হিসেবে পরিচিত উপসাগরীয় দেশগুলোতে এর চারগুণ শক্তিশালী প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হবে। রোববার (২৬ এপ্রিল) ইরানের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ইসমাঈল সাঘাব এস্ফাহানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই কড়া বার্তা প্রদান করেন।ভাইস-প্রেসিডেন্ট এস্ফাহানি তাঁর বার্তায় স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের তেলকূপ বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো আক্রান্ত হলে তেহরান হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। তিনি বলেন, “যুদ্ধসংক্রান্ত যে কোনো ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় আমরা যতদ্রুত সম্ভব সাড়া দেবো।” বিশেষ করে যেসব দেশ আগ্রাসনকারীদের (যুক্তরাষ্ট্র) ঘাঁটি বা সহযোগিতা প্রদান করবে, তাদের লক্ষ্য করেই এই ‘চতুর্গুণ’ হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন।ইরানের পক্ষ থেকে এই হুঁশিয়ারিতে এক অভিনব গাণিতিক সমীকরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ভাইস-প্রেসিডেন্টের ভাষায়, “আমরা ভিন্ন ধারার অঙ্ক চর্চা করি। এই অঙ্কে ইরানের একটি তেলকূপ মার্কিন মিত্রদের চারটি কূপের সমান।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের সম্পদের ওপর সামান্যতম আঘাত আসলে তার বিনিময়ে মিত্র দেশগুলোর বিপুল ক্ষয়ক্ষতির দায়ভার নিতে হবে ওয়াশিংটনকে।এর আগে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে ফেলেছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি ও আরব সাগরে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে ইরানের তেলবাণিজ্য মুখ থুবড়ে পড়েছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, অর্থাভাবে ইরানের সামরিক ও পুলিশ বাহিনী বেতন পাচ্ছে না এবং দেশটি প্রতিদিন ৫০ কোটি ডলার লোকসান গুনছে।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন দাবি ও তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া পোস্টের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরান এই পাল্টাহুঁশিয়ারি দিল। মূলত উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করার মাধ্যমে ইরান এই বার্তাই দিতে চেয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পদক্ষেপের সহযোগী হলে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। তেহরানের এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।/টিএ

এপ্রিল ২৭, ২০২৬

ফের শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল জাপান

জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপ হোক্কাইডোতে সোমবার ভোরে ৬ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২৩ মিনিটে সংঘটিত এই কম্পনটির গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৮৩ কিলোমিটার। দেশটির আবহাওয়া দফতর (জেএমএ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল হোক্কাইডোর প্রধান শহর সাপ্পোরো থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পূর্বে।বিপজ্জনক এই কম্পনের এক ঘণ্টা আগে একই অঞ্চলের দক্ষিণাংশে ৫ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। জাপানের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের ফলে সমুদ্রের পানি বাড়ার বা সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই। তবে শক্তিশালী ঝাঁকুনির কারণে পাহাড়ি এলাকায় বড় পাথর পতন এবং ভূমিধসের তীব্র ঝুঁকির বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে।সাম্প্রতিক সময়ে হোক্কাইডো অঞ্চলে ঘন ঘন ভূমিকম্পের ঘটনা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে গত সোমবার দ্বীপটির আইওয়াত জেলায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল, যার কম্পন শত শত মাইল দূরে রাজধানী টোকিওতেও অনুভূত হয়। গত সপ্তাহের সেই ঘটনায় অন্তত ৬ জন আহত হয়েছিলেন। জেএমএ সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেও এই অঞ্চলে সমপর্যায়ের শক্তিশালী ভূমিকম্প আবারও আঘাত হানার উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে।ভৌগোলিক গঠনের কারণে জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। প্রশান্ত মহাসাগরের ‘আগ্নেয় মেখলা’ বা 'রিং অব ফায়ার' অঞ্চলের ওপর অবস্থানের ফলে দেশটিতে ভূমিকম্প একটি নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ১২ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশটিতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রতি বছর গড়ে ১ হাজার ৫০০টি কম্পন রেকর্ড করা হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর মোট যে পরিমাণ ভূমিকম্প হয়, তার ১৮ শতাংশই জাপানে ঘটে থাকে।প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ মোকাবিলায় জাপানের অবকাঠামো ও প্রস্তুতি অত্যন্ত উন্নত হলেও পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে ভূমিধসের আশঙ্কায় পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন এবং পরবর্তী সম্ভাব্য আফটারশক মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এপ্রিল ২৭, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা: পাঁচ কঠিন শর্তে ঘোর অনিশ্চয়তা

দীর্ঘ দুই মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনার টেবিলে বসলেও শান্তি প্রক্রিয়া এখন খাদের কিনারায়। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পাঁচটি মৌলিক বিষয়ে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দেওয়ায় একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পাঁচটি প্রধান শর্তই এখন দুই দেশের মধ্যে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।প্রথমত, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষ সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করুক। তবে তেহরান এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, কোনো বিধিনিষেধই স্থায়ী হবে না এবং এটি কেবল নির্দিষ্ট কিছু বছরের জন্য কার্যকর হতে পারে। এই মতভেদ আলোচনার শুরুতেই বড় ধরণের ধাক্কা দিয়েছে।দ্বিতীয়ত, ইরানের হাতে থাকা ৪০০ কেজি উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি তুলেছেন যে, এই বিশাল মজুত নিরাপত্তার স্বার্থে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রাখতে হবে। ইরান এই দাবিকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে এবং আলোচনার শুরুতেই এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে।তৃতীয়ত, অবরোধ প্রত্যাহার ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উভয় দেশ অনড় অবস্থানে রয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ না তোলা পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ জারি রাখবে। বিপরীতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কোনোভাবেই কোনো অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়া হবে না।চতুর্থত, অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে ইরান বিদেশে আটকে থাকা তাদের প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার ফেরত পাওয়ার শর্ত জুড়ে দিয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির অংশ হিসেবে তেহরান কেবল এই অর্থই নয়, বরং দেশের ওপর থাকা সব ধরনের আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা একযোগে প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানিয়েছে, যা ওয়াশিংটনের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।সর্বশেষ এবং সবচেয়ে আলোচিত বিষয়টি হলো ইরানের বিশাল অংকের ক্ষতিপূরণের দাবি। তেহরান দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাদের দেশের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তার বিনিময়ে দেশ দুটিকে সম্মিলিতভাবে ২৭ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কঠিন শর্তগুলোর মারপ্যাঁচে শান্তি আলোচনা এখন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে।/টিএ

এপ্রিল ২৬, ২০২৬

অবৈধ হজযাত্রীদের আশ্রয় দিলে ৩২ লাখ টাকা জরিমানা

সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালন নিয়ে নতুন ও কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এবারের হজ মৌসুমে ভিজিট ভিসাধারী বা অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের হজের নিয়ম লঙ্ঘন করে আশ্রয় দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১ লাখ সৌদি রিয়াল বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩২ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। মূলত হজের আনুষ্ঠানিকতাকে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যারা ভিজিট ভিসায় সৌদি আরবে অবস্থান করছেন, তাদের হজের নিয়ম ভেঙে কোনোভাবে হজের জন্য আশ্রয় দেওয়া বা থাকার ব্যবস্থা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোনো ব্যক্তি যদি তার হোটেল, অ্যাপার্টমেন্ট, ব্যক্তিগত বাড়ি কিংবা অন্য কোনো গোপন স্থানে নিয়মবহির্ভূতভাবে কাউকে থাকতে দেন, তবে তাকে এই বড় অংকের জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, শাস্তি কেবল আশ্রয় দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। অবৈধভাবে মক্কা বা পবিত্র স্থানগুলোতে কাউকে অবস্থান করতে সাহায্য করা, কাউকে লুকিয়ে রাখা কিংবা যাতায়াতে সহায়তা করাও গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। নিয়ম লঙ্ঘনের সঙ্গে যদি একাধিক ব্যক্তি বা কোনো প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকে, তবে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তির পরিমাণ বা জরিমানার অংক আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।পুরো হজ মৌসুমজুড়েই এই বিশেষ নিরাপত্তা ও আইনি বিধিনিষেধ কঠোরভাবে কার্যকর থাকবে। হজযাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হজ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবাসীদের প্রতি যথাযথ নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্ত্রণালয় থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে সৌদির বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য বিশেষ জরুরি নম্বর চালু করেছে সরকার। কোনো ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা নজরে এলে নাগরিক ও প্রবাসীদের নির্ধারিত নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের এই সচেতনতামূলক পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো একটি নির্বিঘ্ন ও পবিত্র হজ উদযাপন নিশ্চিত করা।/টিএ

এপ্রিল ২৫, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo