
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পরোক্ষ আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেন। তবে আলোচনার সমান্তরালে হরমুজ প্রণালিতে উদ্ভূত সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন যে, এই রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই।
আরাঘচি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তৃতীয় কোনো পক্ষ যেন যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাতের নতুন কোনো ‘গোলকধাঁধায়’ টেনে নিতে না পারে, সে বিষয়ে তাদের সজাগ থাকতে হবে। একইসঙ্গে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও উস্কানিমূলক তৎপরতা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ নৌ-অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-কে একটি ‘অচলাবস্থা প্রকল্প’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযানে শতাধিক বিমান ও ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যার উদ্দেশ্য বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এই অঞ্চলের নৌ-নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমেরিকার জন্য বর্তমান পরিস্থিতি ‘অসহনীয়’ হয়ে উঠবে।
প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনার মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে, দুই দেশ একে অপরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার পাল্টাপাল্টি দাবি করছে। ইরান দাবি করেছে তারা মার্কিন ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে তারা ইরানের দ্রুতগামী নৌযানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। আইআরজিসি তাদের ক্ষয়ক্ষতির খবর অস্বীকার করলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন যে, মার্কিন জাহাজে কোনো ধরনের হামলা হলে ইরানকে ‘পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে’।
সার্বিক পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যদিও শিপিং জায়ান্ট ‘মায়েরস্ক’ দাবি করেছে যে মার্কিন সুরক্ষায় তাদের একটি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, তবে আইআরজিসি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে গত রাতে কোনো বাণিজ্যিক বা তেলবাহী ট্যাংকার ওই পথ দিয়ে যায়নি। কূটনৈতিক আলোচনার আশার মাঝেও সামরিক এই সংঘাত পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
/টিএ