logo
youtube logotwitter logofacebook logo

সরবরাহে

সিঙ্গাপুরে জঙ্গি অর্থায়নে চার বাংলাদেশী দোষী সাব্যস্ত - image

সিঙ্গাপুরে জঙ্গি অর্থায়নে চার বাংলাদেশী দোষী সাব্যস্ত

30 মে 2016, বিকাল 6:00

এটিএন বাংলা ডেস্ক: সিঙ্গাপুরে জঙ্গি অর্থায়নে অভিযুক্ত ছয় বাংলাদেশির মধ্যে চারজন অপরাধ স্বীকার করেছের সকালে সে দেশের একটি আদালতে তারা অপরাধ স্বীকার করে বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের দৈনিক স্ট্রেইট টাইমস। এই চার বাংলাদেশি হলেন- মিজানুর রহমান, রুবেল মিয়া, নুরুল ইসলাম সওদাগর ও ইসমাইল হাওলাদার সোহেল। দৌলতুজ্জামান ও লিয়াকত আলী মামুন নামের আরও দু’জনের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ আনা হলেও, তারা সেটি অস্বীকার করেছে। আদালত এই দুইজনের শুনানির জন্য ৯ জুন পরবর্তী দিন ঠিক করেছে। দৈনিক স্ট্রেইট টাইমস জানিয়েছে, অপরাধ স্বীকারকারী ৪ বাংলাদেশি নিজেদের ‘ইসলামিক স্টেট ইন বাংলাদেশ– আইএসবি’ নামে গোপন সংগঠনের সদস্য বলে দাবি করেছে। দেশে ফিরে সন্ত্রাসী হামলা চালানোরও পরিকল্পনা ছিলো বলে জানিয়েছে তারা। জঙ্গি কর্মকাণ্ডের জন্য ‘অর্থ সংগ্রহ ও সরবরাহের’ অভিযোগে চলতি মাসের শুরুতে সিঙ্গাপুর সরকার আট বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ করে।

মে ৩০, ২০১৬
বেলারুশকে পরমাণুবাহী ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে রাশিয়া - image

বেলারুশকে পরমাণুবাহী ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে রাশিয়া

25 জুন 2022, বিকাল 6:00

রাশিয়ার তার প্রতিবেশী মিত্র দেশ বেলারুশকে পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে। আগামী মাস অর্থাৎ জুলাই থেকে এ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ শুরু করবে রাশিয়া। বেলারুশ সীমান্তের কাছাকাছি পারমাণবিক অস্ত্রধারী ন্যাটো ফ্লাইট আসছে এমন অভিযোগের পর ভারী অস্ত্র সরবরাহের এ খবর এলো। শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেলারুশকে ‘ইস্কান্দার-এম’ পারমাণবিক সক্ষম স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া। গতকাল রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মস্কোতে বেলারুশ প্রধান আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সাথে এক সাক্ষাতে এ ঘোষণা দেন। এ বিষয়ে পুতিন বলেন, আগামী মাসগুলো আমরা বেলারুশের কাছে ইস্কান্দার-এম ট্যাক্টিক্যাল মিসাইল হস্তান্তর করব। যেন তারা অস্ত্রগুলো প্রচলিত ও পারমাণবিক সংস্করণে ব্যালিস্টিক বা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। গত মে মাসে রাশিয়া থেকে ইস্কান্দার পারমাণবিক সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ও এস-৪০০ বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কিনেছে বলে ঘোষণা দেন লুকাশেঙ্কো।

জুন ২৫, ২০২২
যে পাঁচ চ্যালেঞ্জের সামনে ন্যাটো - image

যে পাঁচ চ্যালেঞ্জের সামনে ন্যাটো

27 জুন 2022, বিকাল 6:00

গত ৭৩ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট ন্যাটো। ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনা অভিযান সংস্থাটিকে সার্বিক বিষয় নিতে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। ন্যাটোর মাদ্রিদ সম্মেলনে এসব নিয়েই আলোচনা হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে ন্যাটোর সামনে এখন বড় পাঁচটি চ্যালেঞ্জ। ১. ইউক্রেন যুদ্ধের বিস্তার এড়ানো ইউক্রেন যুদ্ধে ক্ষেত্রে ন্যাটোকে ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে হচ্ছে। ন্যাটো জোটে থাকা ৩০ দেশের মধ্যে তিনটি (ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য) সরাসরি রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে জড়াতে চায় না। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনও বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন তার হাতে প্রচুর পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, তাই খানিকটা সীমা অতিক্রম করলেই এই যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই ইউক্রেনকে ঘুরপথে সামরিক সহায়তা দিলেও ন্যাটোর পক্ষে সরাসরি রাশিয়ার বিপক্ষে যাওয়া অসম্ভব। তাই ন্যাটোভুক্ত দেশসমূহে সামরিক সহায়তা জোরদার করার বিষয়টিও সামনে আসছে। ২. ইউক্রেনের বিষয়ে ঐক্য ধরে রাখা ইউক্রেনে হামলা চালানোর ব্যাপারে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমারা কী ধরনের ব্যবস্থা নেবে বা নিষেধাজ্ঞার পরিধিই বা হবে কতোটা বিস্তৃত হবে, সে নিয়ে এরই মধ্যে নানা দেশের মধ্যে মত বিরোধ দেখা দিয়েছে। এরইমধ্যে জার্মানির বিপক্ষে প্রতিশ্রুত অস্ত্র না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, সাথে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে নারাজ হাঙ্গেরি। তাই ন্যাটোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ইউক্রেন ইস্যুতে একতা ধরে রাখা। কারণ অনেক ইউরোপীয় দেশই জ্বালানির জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। ৩. বাল্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাল্টিক অঞ্চল নিয়ে রাশিয়া ও ন্যাটোর মধ্যে বিবাদ চলছে বহুদিন। সম্প্রতি সেই বিবাদ আরও প্রকাশ্যে, বাল্টিক এলাকা হয়ে রাশিয়ার পণ্য সরবরাহে লিথুনিয়া বাধা দেওয়ার সেই সঙ্কট আরও প্রকট হয়েছে। এদিকে এস্তোনিয়ার দাবি, রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে ন্যাটোর প্রস্তুতি খুবই দুর্বল। ফলে এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুনিয়ার মতো নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকা দেশগুলোর আস্থা ফেরাতে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়টিও ন্যাটোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ৪. ফিনল্যান্ড ও সুইডেনকে সদস্য পদ দেওয়া ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটো যোগ দেওয়ার বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে রাশিয়া। দেশ দুটিকে এরইমধ্যে নানারকম হুমকিও দিয়ে রেখেছে মস্কো। কেবল রাশিয়া নয় এই দুই দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ এনে তুরস্কও তাদের ন্যাটো নেওয়ার ব্যাপারে আপত্তি তুলেছে। তবে কৌশলগত জায়গা থেকে রাশিয়াকে রুখতে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনকে সদস্য পদ দেওয়া ন্যাটোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই দেশকে ন্যাটোভুক্ত করলে বাল্টিক সাগরের পুরোটাই সংস্থাটির আওতায় চলে আসবে। তাই মাদ্রিদ সম্মেলনে এই দুই দেশকে সদস্য করাও ন্যাটোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ৫. জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে হবে ন্যাটোভুক্ত অনেক দেশগুলো এখন তাদের জিডিপির ২ শতাংশ সামরিক খাতে ব্যয় করে। বিপরীতে রাশিয়া তাদের জিডিপির ৪.১ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করে। তাই পশ্চিমা সামরিক প্রধান ও বিশ্লেষকরা রাশিয়াকে রুখতে ন্যাটোভুক্ত দেশসমূহের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর তাগাদা দিয়েছে। তাই প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোও ন্যাটোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সূত্র: বিবিসি

জুন ২৭, ২০২২
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় আফগানিস্তান থেকে কয়লা আমদানি করছে পাকিস্তান - image

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় আফগানিস্তান থেকে কয়লা আমদানি করছে পাকিস্তান

02 জুলাই 2022, বিকাল 6:00

ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটে পর্যুদস্ত পাকিস্তান। এবার বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা করতে আফগানিস্তান থেকে কয়লা আমদানি শুরু করেছে পাকিস্তান সরকার। দেশটির বিভিন্ন শহরে অবস্থিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্টে এসব কয়লা সরবরাহ করা হবে। পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম ডন। একজন সরকারি কর্মকর্তা (ডন যার নাম প্রকাশ করেনি) বলেছেন, ‘আফগানিস্তান থেকে কয়লা আসতে শুরু করেছে। এগুলো দ্রুত পরিবহনের জন্য পাকিস্তান রেলওয়েসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে খুলিশ কোট রেলস্টেশন থেকে প্রায় ৩ হাজার টন কয়লা আনা হচ্ছে।’ কয়লাগুলো প্রথমে ওয়েশ-চামন সীমান্তের মাধ্যমে পাকিস্তানের সিবি রেল স্টেশনে আনা হবে। এরপর মিয়ানওয়ালি জেলার কুন্দিয়ান রেল স্টেশনের মাধ্যমেও কয়লা আনা শুরু হবে। তখন কয়লা আমদানি ২০ হাজার টন স্পর্শ করবে বলে ধারণা করছেন সরকারি কর্মকর্তারা। এদিকে কয়লা আমদানির সিদ্ধান্তের পর কয়লার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে আফগানিস্তান। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান প্রতি টন কয়লার দাম ৯০ ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ২০০ ডলার করেছে। তবে পাকিস্তান সরকার কয়লার দাম রুপিতে পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে দামবৃদ্ধির প্রভাব খুব একটা পড়েব না বলে মনে করছে পাকিস্তান সরকার। আজ রোববার লাহোরে পাকিস্তান রেলওয়ের সদর দপ্তরে রেল ও বিমান চলাচলমন্ত্রী খাজা সাদ রফিকের নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে কয়লা আমদানি ও সরবরাহের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এর আগে গতকাল শনিবার এক বৈঠকে খাজা সাদ রফিক আফগানিস্তান থেকে কয়লা পরিবহনের জন্য ওয়াগনের ব্যবস্থা করতে পাকিস্তান রেলওয়ে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। গত ২৭ জুন এক বৈঠকে পেট্রোলিয়ামের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পাকিস্তান সরকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আফগানিস্তান থেকে কয়লা আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

জুলাই ০২, ২০২২
রাশিয়ার গ্যাস বন্ধ হলে ভয়াবহ সঙ্কটে পড়বে জার্মানি - image

রাশিয়ার গ্যাস বন্ধ হলে ভয়াবহ সঙ্কটে পড়বে জার্মানি

03 আগস্ট 2022, বিকাল 6:00

জার্মানি ‘অপ্রত্যাশিত পরিণতির শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া’ এর মুখোমুখি হবে যদি রাশিয়া সম্পূর্ণভাবে গ্যাস বন্ধ করে দেয়। দেশটির অন্যতম বড় ঋণদাতা কমার্জ ব্যাঙ্ক এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এদিকে, চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ বলেছেন যে, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে জ্বালানি প্রবাহ কমে গেছে বলে মস্কোর করা দাবী যুক্তিসঙ্গত নয়। কমার্জব্যাঙ্ক সতর্ক করেছে যে, গ্যাস প্রবাহ বন্ধ হলে রাসায়নিক সহ মৌলিক শিল্পগুলি ব্যাহত হতে পারে, যা অর্থনীতির বাকি অংশের জন্য অপ্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারে। মস্কো যদি সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করে, ‘জার্মান অর্থনীতি সম্ভবত ২০০৯ সালে আর্থিক সঙ্কটের পরে ঘটেছিল এমন একটি গুরুতর মন্দার মধ্যে নিমজ্জিত হবে,’ ঋণদাতা তার অর্ধ-বার্ষিক প্রতিবেদনে বলেছে। এমনকি গ্যাস প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ না হলেও সঙ্কট কাটবে না। ‘বর্তমানে উন্নত প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ আসন্ন শীতের জন্য এখনও অপর্যাপ্ত হতে পারে, ফলে প্রাসঙ্গিক শিল্পগুলোর জন্য প্রাকৃতিক গ্যাসের রেশনিং করা প্রয়োজন হতে পারে। এর ফলে উৎপাদন কমে যেতে পারে, যা অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে,’ ব্যাংক বলেছে। রাশিয়া নর্ড স্ট্রিম ১ সরবরাহকারী পাইপলাইনের মাধ্যমে জার্মানিকে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ক্রেমলিন ত্রুটিপূর্ণ অংশগুলিকে দোষারোপ করে জানিয়েছে, ২০ শতাংশ ক্ষমতায় প্রবাহ চলছে। মস্কো বলেছে যে, নিষেধাজ্ঞাগুলি সমস্যার সমাধান করতে বাধা দিয়েছে। এ বিষয়ে চ্যান্সেলর শলৎজ বুধবার বলেছিলেন যে, পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ সীমাবদ্ধ করার জন্য রাশিয়ার পক্ষে কোনও প্রযুক্তিগত কারণ নেই। গ্রীষ্মে সরবরাহের অভাব মানে জার্মানি শীতের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস মজুদ করতে লড়াই করবে যখন চাহিদা বেশি হবে। এটি শিল্পের ঘাটতি, চীনের লকডাউন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান সুদের হার সহ অন্যান্য বৈশ্বিক চাপের শীর্ষে আসে। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ।

আগস্ট ০৩, ২০২২
ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং, কষ্টে আছে মানুষ - image

ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং, কষ্টে আছে মানুষ

17 এপ্রিল 2023, বিকাল 6:00

বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ডের মধ্যেও দেশজুড়ে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে। অসহ্য গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। দিনে-রাতে সব সময়ই বিদ্যুৎ যাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে দিনে-রাতে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টারও বেশি লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। অনেক গ্রামে রাতে বিদ্যুৎ আসেই না। এ অবস্থায় ফুঁসে উঠেছে গ্রামের মানুষ। কোনো কোনো গ্রামে পল্লী বিদ্যুৎকেন্দ্রের অফিসেও হামলা হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শিল্পমালিকরা বলেছেন, একবার কারখানা বন্ধ হলে পুরো কাঁচামাল নষ্ট হয়ে যায়। নতুন করে ফ্যাক্টরি চালু করতে আরও ২/৩ ঘণ্টা সময় লাগে। এ অবস্থায় ঈদের আগে ব্যবসা-বাণিজ্য চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে ঢাকা, গাজীপুর, সাভার, কোনাবাড়ী, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ময়মনসিংহ এলাকার পোশাকসহ অন্যান্য কারখানায় উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিল্পমালিকরা জানিয়েছেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে দিনের অধিকাংশ সময় কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সময়মতো বিদেশে পণ্য পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রপ্তানি অর্ডার বাতিলের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, তাপমাত্রা না কমা পর্যন্ত ভোগান্তি কমবে না। জানা যায়, গ্রামে অর্থাৎ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতাভুক্ত এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে গড়ে দুই হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। লোডশেডিংয়ে বেশি নাজুক ৬৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। তবে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর পরিস্থিতি কিছুটা ভালো। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঢাকার শপিংমলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময়ও লোডশেডিং করা হচ্ছে না বলে জানায় বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো। গ্রাহকরা বলেছেন, ঢাকায় দিনে বিদ্যুৎ থাকলেও বিদ্যুৎ যাচ্ছে গভীর রাতে। বিশেষ করে রাত ১টার পর বিভিন্ন এলাকায় এক ঘণ্টার মতো লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। অনেকেই বলছেন, ঘুমের প্রস্তুতি নিয়ে বিছানায় যেতেই লোডশেডিং হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গরম বেড়ে যাওয়ায় এসি ও ফ্যান বেশি চলছে। পাশাপাশি রমজান ও সেচ মৌসুম চলার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা একলাফে অনেক বেড়েছে। উৎপাদনের চেয়ে চাহিদা বেশি হওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ঢাকার বাইরে রাতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি খুবই খারাপ। গরমে অতিষ্ঠ মানুষ রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। অনেকে অসহ্য হয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসছেন। ব্যাহত হচ্ছে সেচ কার্যক্রম। অনেক এলাকায় সেচ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে ধানের ফলনে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে রাজনীতি না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক বিরোধ যদি ক্রান্তিকালেও থাকে, তাহলে বুঝতে হবে উদ্দেশ্য ভালো না। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।’ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুজিবনগর দিবসের আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘গরম বেশি পড়লে বিদ্যুতের তার গরম হয়, তখন ঝুঁকিও বাড়ে।’ সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের জন্য এটাও কারণ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। উপদেষ্টা বলেন, ‘বিদ্যুতের অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে। কিছুদিন আগেও পরিস্থিতি ভালো ছিল না। জ্বালানি সংকটের মধ্যে এখন আর বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব না।’ তিনি বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশে এখন যে সংকট হচ্ছে, তা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফল। বর্তমানে যে পরিমাণ এলএনজি আমদানি হচ্ছে তাতে বিদ্যুতের ঘাটতি হওয়ার কথা না। শত প্রতিবন্ধকতা শর্তেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’ ১৩ এপ্রিল দেশের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের নতুন মাইলফলক অতিক্রম করে বাংলাদেশ। কিন্তু এরপরও গরমের কারণে বিদ্যুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি বছর যে পরিমাণ গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধির কথা পেট্রোবাংলাকে বলা হয়েছিল, ঠিক ওই পরিমাণ সরবরাহ পাচ্ছে না পেট্রোবাংলা। ফলে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ার এটাও একটা কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন সারা দেশে সরকারিভাবে ১০০০ মেগাওয়াটের মতো লোডশেডিংয়ের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা আরও বেশি। বিতরণ কোম্পানিগুলোর হিসাবে এই লোডশেডিং ১৫শ থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট। সর্বোচ্চ চাহিদার সময় এখন গড়ে ১৪ হাজার ৫০০ থেকে সাড়ে ১৫ হাজারের ওপরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। এবার গরমের কারণে অন্য বছরের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে সর্বোচ্চ ১১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্রগুলোর জন্য কিছুটা বিপাকে পড়েছে পিডিবি। না-হলে চলতি বছর আরও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হতো। ১৬ এপ্রিল উৎপাদন লক্ষ্য ধরা হয় ১৩ হাজার ৯৪৮ মেগাওয়াট। অবশ্য আগের দিন শনিবার নিট উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ৯৭৮ মেগাওয়াট। এরপরও পিডিবির হিসাবে সারা দেশে ৯৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। সব চেয়ে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে ময়মনসিংহ জোনে। এখানে দৈনিক ১৯৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান জানান, তাদের কোনো লোডশেডিং করতে হচ্ছে না। কিছু উপকেন্দ্রে সমস্যার কারণে কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ থাকে না। এটাকে লোডশেডিং বলা যাবে না। সোমবার সর্বোচ্চ ১৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে ডিপিডিসি এলাকায়। তবে পিডিবি বলছে, ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোয় সব মিলিয়ে ৬০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হচ্ছে। ঢাকায় সব মিলিয়ে চাহিদা ৫ হাজার ২২০ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হচ্ছে ৫ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট। বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমূল্যের কারণে গত বছর সরকার গ্যাস ও তেল আমদানি কমিয়ে দেয়। ফলে ঘোষণা দিয়ে লোডশেডিং করে সরকার। গত ফেব্রুয়ারি থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। ফলে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। এখন দিনে গড়ে ১০০ কোটি ঘনফুটের ওপর গ্যাস দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুতে। আগে এটা ছিল ৮০-৮৫ কোটি ঘনফুট। ফার্নেস অয়েলেরও দাম কমেছে। পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক নতুন কয়েকটি কেন্দ্র উৎপাদনে এসেছে। এতে চলতি মৌসুমের শুরু থেকে চাহিদার কাছাকাছি ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন। ফলে তেমন লোডশেডিং ছিল না। এক সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিং বাড়তে থাকে। ১৩ এপ্রিল রাত ৯টায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ১৫ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট। সেসময়ও ঢাকায় ৩০৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। ১৪ এপ্রিল লোডশেডিং ছিল সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৮০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২২ হাজার ৫৬৬ মেগাওয়াট। সোমবার বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার মেগাওয়াট। সর্বোচ্চ উৎপাদন ১৪ হাজার ১০৪ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ৮৯৬ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রকৃত লোডশেডিং আরও বেশি। সূত্রের তথ্যমতে, সোমবার বিদ্যুতের ঘাটতি দুই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। সক্ষমতা থাকলেও চাহিদা অনুসারে বিদ্যুৎ উৎপাদিত না হওয়ার জন্য জ্বালানি সংকট এবং কেন্দ্র মেরামত ও সংরক্ষণের জন্য বন্ধ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা। জানা যায়, গ্যাস ও জ্বালানি তেল সংকটে সোমবার ৪ হাজার ১৫৬ মেগাওয়াট এবং কেন্দ্র মেরামত ও সংরক্ষণের জন্য ২ হাজার ৬৪৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে দিনে কমপক্ষে ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু পেট্রোবাংলা সরবরাহ করছে গড়ে ১০০ কোটি ঘনফুট। এছাড়া বিতরণ ও সঞ্চালন লাইনের ত্রুটির কারণে প্রায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎবিভ্রাট হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) প্রধান প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় তারা লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন।রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীন নগরীর বর্ধিত অংশে দুদিন ধরে বিদ্যুৎ শুধু যাচ্ছে আর আসছে। রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি রেজাউল ইসলাম মিলন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আধা ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করায় ঈদের আগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্রেতার সংখ্যা অনেক কমে গেছে। রংপুর বিভাগের আট জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ৯০০ মেগাওয়াট। বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট। কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১৫-২০ মিনিট থেকে পুনরায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। একবার গেলে আর আসার নাম নেই। রোববার ভোর ৪টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টায় আটবার বিদ্যুৎবিভ্রাট হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে দৈনিক ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি দুই ঘণ্টা পর এক ঘণ্টা লোডশেডিং করছে। ঝিনাইদহের অধিকাংশ এলাকায় ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চার-পাঁচ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে হামলা : প্রচণ্ড গরমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ‘অতিষ্ঠ’ হয়ে ‘বিক্ষুব্ধ’ লোকজন ফেনীর ছাগলনাইয়ার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে ছাগলনাইয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. জানে আলম জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে বিক্ষুব্ধ দুই সহস্রাধিক জনতা বিদ্যুৎ অফিসে হামলা চালিয়ে অফিসের গেট, আসবাবপত্র, দরজা ও জানালার কাচ ভাঙচুর করেছে। এ সময় ভয়ে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।’ স্থানীয়রা বলেছেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে মানুষ। বাসাবাড়ি ও মসজিদে পানির জন্য হাহাকার পড়ে যায়। ইফতার, তারাবি, সেহেরি ও নামাজের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় রোজা রাখা এবং ইবাদত করতেও সমস্যা হচ্ছে মানুষের। এদিকে সিলেটে মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎবিভ্রাটের যন্ত্রণায় নগরীতে মধ্যরাতে সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। তবে সড়ক অবরোধের প্রায় ১৫ মিনিট পর বিদ্যুৎ চলে এলে তারা অবরোধ তুলে নেয়। গত রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর নয়াসড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় ইফতারের আগ থেকেই বিদ্যুৎ ছিল না। বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ইফতার ও তারাবির নামাজ পরে রাত ১১টার দিকে বাধ্য হয়ে তারা সড়ক অবরোধ করেন। তিন দিন ধরে সিলেটের সব এলাকায়ই চলছে চরম বিদ্যুৎবিভ্রাট। একদিকে রমজান, অন্যদিকে গরমের উত্তাপ। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকদিন ধরেই সিলেটে বিদ্যুৎ থাকছে না ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ইফতারের সময় যেমন বিদ্যুৎ চলে যায়, তেমনই রাতে সেহেরির সময়ও বিদ্যুৎ চলে যায়। দিন-রাত মিলিয়ে ৮-১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না সিলেটবাসী। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

এপ্রিল ১৭, ২০২৩
মুদ্রণ বন্ধ হচ্ছে ৩২০ বছরের পুরোনো উইনার জাইটুং পত্রিকার - image

মুদ্রণ বন্ধ হচ্ছে ৩২০ বছরের পুরোনো উইনার জাইটুং পত্রিকার

28 এপ্রিল 2023, বিকাল 6:00

প্রিন্ট সংস্করণ বন্ধ হচ্ছে ৩২০ বছরের পুরোনো সংবাদপত্র উইনার জাইটুং। পত্রিকাটি অস্ট্রিয়া থেকে প্রকাশিত হতো। এটি দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি পত্রিকা। তবে অনলাইন সংস্করণ প্রকাশ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির পার্লামেন্টে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১৭০৩ সালে প্রকাশিত পত্রিকাটির নামকরণ করা হয় উইনারিসেস ডায়ারিয়ামের নামানুসারে। পরে ১৭৮০ সালে উইনার জাইটুং নামকরণ করা হয়। ১৮৫৭ সালে তৎকালীন সম্রাট ফ্রানজ জোসেফের আমলে পত্রিকাটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হয়। এটিই ছিল অস্ট্রিয়ার প্রথম সরকারি পত্রিকা। পার্লামেন্টের তৃতীয় প্রেসিডেন্ট নরবার্ট হফার বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ১ জুলাই থেকে পত্রিকাটি প্রাথমিকভাবে অনলাইনে পাওয়া যাবে। এ জন্য নতুন একটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তহবিল পাওয়া সাপেক্ষে প্রতি বছর ন্যূনতম ১০ কপি পত্রিকা প্রকাশ করা হবে। ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব নিউজ পাবলিশার্স জানিয়েছে, দ্য উইনার জাইটুং পত্রিকাকে বিশ্বে মুদ্রিত প্রাচীন সংবাদপত্র হিসেবে ২০০৪ সালে অভিহিত করা হয়।পত্রিকাটি অনলাইনে সরকারি তথ্যকে কেন্দ্রীভূত করবে। পাশাপাশি উইনার জাইটুং পত্রিকা মিডিয়া কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করবে। এটি সংবাদ সংস্থা ও সাংবাদিকদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ব্যবস্থা করবে। পত্রিকাটি উপব্যবস্থাপনা সম্পাদক মাথিয়াস জিয়েগলার বলেন, অনেকেই ভয় পাচ্ছেন যে সরকার উইনার জাইটুংয়ের ৩২০ বছরের পুরোনো ইতিহাসকে ব্র্যান্ড হিসেবে রাখতে চায়। যদিও পত্রিকাটির ভবিষ্যতের প্রকাশনা কেমন হবে, তা কেউ জানে না। এমনকি পত্রিকাটিতে আদৌ প্রকৃত সাংবাদিকতা করা সম্ভব হবে কি না, সেটি নিয়েও আশঙ্কা রয়েছে। ট্রেড ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, পত্রিকাটিতে বর্তমানে ২০০–এর বেশি কর্মী আছেন। তাদের অর্ধেককে ছাঁটাই করা হবে। যাদের মধ্যে ৪০ জন সাংবাদিক। ইউরোপীয় কমিশনের (ইইউ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ভেরা জুরোভা অস্ট্রিয়ান নিউজ এজেন্সিকে (এপিএ) বলেন, বছরের পর বছর ধরে মানুষকে তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে উইনার জাইটুং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শতাব্দীর প্রাচীন এ পত্রিকার ছাপানো বন্ধে সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গেল মঙ্গলবার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার রাস্তায় শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেছেন।

এপ্রিল ২৮, ২০২৩
কয়লা সঙ্কটে ধুঁকছে পায়রা-রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তীব্র লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা - image

কয়লা সঙ্কটে ধুঁকছে পায়রা-রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তীব্র লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা

01 মে 2023, বিকাল 6:00

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা সঙ্কটের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ডলার সঙ্কটের কারণে কয়লা আমদানির বিল পরিশোধ করছে পারছে না বাংলাদেশ।এছাড়া গত ২৩ এপ্রিল থেকে রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে কয়লা সঙ্কটের কারণে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়লা সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে সামনের দিনগুলোতে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো অসম্ভব হয় পড়বে। সাধারণ মানুষ যেমন লোডশেডিংয়ের ভোগান্তিতে পড়বে এর পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কাজগুলোতেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কয়লা সঙ্কট কেন? পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা আমদানি করা হয় ইন্দোনেশিয়া থেকে। প্রতিদিন ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১১ থেকে ১২ হাজার টনের বেশি কয়লা প্রয়োজন হয় এই কেন্দ্রে।তবে বর্তমানে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লার মজুত রয়েছে ১৫ থেকে ১৬ দিনের মতো। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যহত হওয়ার একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএম খোরেশেদুল আলম বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, আমদানির বিল বকেয়ার কারণে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানি করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘সবসময় ছয় মাসের বাকিতে কেনার চুক্তি আমার হয়েছে। কিন্তু আমি ছয় মাস পরেও পেমেন্ট করতে পারছি না। যেমন জানুয়ারিতে যে কয়লার পেমেন্ট তারা করেছে সেটা জুলাইয়ে আমার পেমেন্ট করার কথা। কিন্তু সেটা করতে পারছি না। ফলে ছয়মাস পর আমার পেমেন্ট ওভারডিউ হয়ে গেল।’ খোরেশেদুল আলম বলেন, বকেয়া বিল পরিশোধ করা না গেলে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন বা সিএমসি আর টাকা দেবে না। আর সেটা না হলে কয়লা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও কয়লা সরবরাহ করবে না। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে যৌথ মালিকানায় রয়েছে, বাংলাদেশের নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সিএমসি।উল্লেখ্য, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ইন্দোনেশিয়ার যে কোম্পানি কয়লা সরবরাহ করে সেই কোম্পানির কয়লার দাম পরিশোধ করে সিএমসি।অর্থাৎ, সিএমসি কয়লা ক্রয়ের ছয় মাস পরে বাংলাদেশ অর্থ পরিশোধ করতে পারবে। এমন বিষয় চুক্তিতে উল্লেখ আছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ডলার সঙ্কটের কারণে ছয়মাস পরেও বাংলাদেশ সিএমসিকে অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না। খোরেশেদুল আলম, ‘ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সবসময় প্রোভাইড করে আসছে সিএমসি। ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হলো আমরা ইন্দোনেশিয়া থেকে যে কয়লা কিনছি সেই কয়লার ইনভয়েসের এগেইনস্টে তারা এলসি করে পেমেন্ট করছে।’ ‘ওদের পেমেন্টটা হলো ডেফার্ড পেমেন্ট, ছয় মাসের দেরিতে পরিশোধের পেমেন্ট। অর্থাৎ জানুয়ারিতে যে পেমেন্ট তারা করবে ওইটা আমরা জুলাইয়ে পরিশোধ করব। চুক্তিটা এরকম। সেক্ষেত্রে আমরা ছয়মাসেও তাদের পেমেন্টটা করতে পারছি না। ছয় মাসের ওপরে আরো পাঁচ মাস চলে গেছে, এখনো সেটা শোধ করতে পারছি না।’ তিনি বলেন, ‘ফরেন কারেন্সির যে ক্রাইসিস চলছে সেজন্য বকেয়া পরিশোধ অনেক দেরি হয়ে গেছে। ওভারডিউ পেমেন্ট না করলে তো তারা আর কয়লা দিবে না।’ কয়লা সঙ্কটের কারণে গত ২৩ এপ্রিল থেকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রামপালে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দু’টি ইউনিটের মধ্যে একটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছিল। তবে ডলার সঙ্কটের মধ্যে কয়লা আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে উৎপাদন শুরুর ২৭ দিনের মাথায় পর্যাপ্ত কয়লা না থাকায় গত ১৪ জানুয়ারি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় এক মাসের মাথায় আবার উৎপাদনে ফিরে কেন্দ্রটি তারপরও সংশয় ছিল কয়লা আমদানি অব্যাহত থাকবে কিনা। প্রতিদিন কেন্দ্রটির একটি ইউনিট চালু রাখতে প্রয়োজন পাঁচ হাজার টন কয়লা।এপ্রিল মাসে আবারো কয়লা সঙ্কটের কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রের জন্যও কয়লা আমদানি করা হয় ইন্দোনেশিয়া থেকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহেও। ডলার সঙ্কটের কারণে ঋণপত্র খুলতে না পারার কারণেই যে কয়লার মজুদ একদম কমে গেছে সে কথাই বারবার বলছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রয়োজন ডলারের কয়লার সঙ্কটে বারবার বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া ‘সাঙ্ঘাতিক সিরিয়াস ইস্যু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পরিকল্পনাই ছিল এই বছরটায় কয়লার ওপর নির্ভরশীল হবো। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি করবো কয়লা দিয়ে।’কয়লা আমদানি যদি না করা যায় তাহলে গত বছরের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন ইজাজ হোসেন।এ বছর বিদ্যুতের চাহিদা গত বছরের তুলনায় বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন ‘কয়লা সঙ্কটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হলে এ বছর বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে’। ‘ঠিকমতো যেন কয়লার যোগান দেয়া যায় সেদিকে সরকারকে ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে। ডলার সঙ্কটের কারণে হলেও এদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। যেটাই আমরা কিনি আমরা যদি এলএনজি কিনি, তেল কিনি বা কয়লা কিনি সবই তো ডলার লাগবে। তাহলে কেন এখানে ডলার সঙ্কট ইস্যু হবে?’সবচেয়ে সাশ্রয়ী জ্বালানি ক্রয়ের দিকে জোর দেয়া উচিত বলে মনে করছেন ইজাজ হোসেন। বিদ্যুৎ উৎপাদন যদি ব্যাহতও হয় তাহলে তার প্রভাব যেন রফতানিমুখী শিল্পে না পড়ে সেদিকে নজর রাখা উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ডলারের ঘাটতি বাংলাদেশের জন্য একটি 'উভয় সঙ্কট' তৈরি করেছে। ডলার সাশ্রয় করতে গিয়ে কয়লা আমদানি কম হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যহত হবে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শিল্প খাতে। রফতানিমুখি শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে ডলারের যোগানও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ‘আমাদের বেশিরভাগ ইন্ডাস্ট্রি এক্সপোর্টের জন্যই চলে। আমাদের এক্সপোর্টটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে ডলার বাঁচালাম ওদিকে ডলার কমে গেল তাহলে তো লাভ হলো না -এটা মনে রাখতে হবে,” বলছিলেন ইজাজ হোসেন। সরকার কী বলছে? বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হাবিবুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, এই সমস্যার দ্রুত সমাধানে তারা তৎপর আছেন। বিদ্যুৎ উৎপাদন যেন ব্যাহত না হয় সেজন্য যে উদ্যোগ নেয়া দরকার তা নেয়া হচ্ছে। ‘কয়লার সরবরাহ নিশ্চিত হবে সেজন্য কাজ করছি। রামপালের কাজ শুরু হবে। একটা পাওয়ার প্ল্যান্টে শুরুর দিকে সমস্যা থাকে। কয়লার ব্যবস্থাও হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে, বলেন হাবিবুর রহমান।পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যে কয়লার মজুত আছে তা থাকতে থাকতেই যেন কেন্দ্রে কয়লা আমদানি শুরু হয় তা নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম এমন ১৫৪টি কেন্দ্র রয়েছে। যার মধ্যে বেশিরভাগই ভাড়ায় চালিত ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।তবে গত বছর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও ডলারের বিনিময় মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য ডিজেল চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে গত বছর গরমের সময়েও ব্যাপক হারে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তির মধ্যে পড়েছিল বাংলাদেশের মানুষ। এমনকি শীতকালেও লোডশেডিং হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। বিশেষেজ্ঞরা মতে, এ বছর গরম আসতে না আসতেই যে কয়লা সঙ্কটের মুখে পড়েছে দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র তাতে সামনে বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাপক ঘাটতি তৈরি হতে পারে। ডলারের যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে সেটি সহসা সমাধানের আশাও দেখা যাচ্ছে। এই সঙ্কটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ খাতের উপর। কারণ কয়লা হোক আর তেল হোক- বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাঁচামাল জোগাতে প্রয়োজন ডলার। বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএম খোরশেদুল আলম বলছেন, কয়লা সমস্যার সমাধানের চেষ্টা নিশ্চয়ই করছে সরকার।

মে ০১, ২০২৩
গ্রিড বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় নিঝুম দ্বীপ - image

গ্রিড বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় নিঝুম দ্বীপ

05 মে 2023, বিকাল 6:00

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রথমবারের মতো গ্রিড বিদ্যুতের আওতায় এসেছে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার দুর্গম এলাকা নিঝুম দ্বীপ। আজ শনিবার সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছানোর ফলে সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে খুশির জোয়ার বয়ে যায়। এ বিদ্যুতের মাধ্যমে ওই এলাকার আর্থ-সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলে আশা করছেন দুর্গম এই দ্বীপের বাসিন্দারা। পিডিবির একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, হাতিয়ায় স্থাপিত একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দুপুর ১টার দিকে নিঝুম দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সাগরের তলদেশে হাতিয়া থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ১১ কেভি সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনা করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রত্যন্ত এই এলাকার বাসিন্দারা সরকারের শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধাভোগীর আওতায় আসলেন। তিনি জানান, আপাতত সেখানে বিদ্যুতের কোনো গ্রাহক নেই। তবে বিদ্যুৎ পৌছানোর কারণে তারা বিদ্যুৎ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কিছুদিনের মধ্যেই নিঝুম দ্বীপে বসবাসরত অন্তত ৫ হাজার পরিবারের ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ দিনাজ উদ্দীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের যে স্বপ্ন ছিল তা পূরণ হলো। মানুষ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পাবে। শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুর প্রসার ঘটবে। এখানকার বেশির ভাগ মানুষই জেলে। গ্রিড বিদ্যুৎ সংযোগের ফলে এখানকার মানুষের কর্মসংস্থান আরও বাড়বে। পর্যটকেরা স্বাচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারবে। এতে পর্যটক খাতেরও উন্নয়ন হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে এখানকার মানুষেরা রাতে কুপি জ্বালিয়ে তাদের দৈনন্দিন কাজ করেন। কিছু বাড়িতে নিজস্ব ব্যবস্থায় সৌর বিদুৎ ব্যবহার করছেন। এর বাইরে জেনারেটরের মাধ্যমেও বাণিজ্যিকভাবে অনেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। কিন্তু তা দিয়ে শুধুমাত্র বাতি জ্বালানো যায়। প্রতিটি বাতি জ্বালাতে ২০ থেকে ২৫ টাকা ব্যয় হয় প্রতিদিন। এগুলোর ভোল্টেজও কম। দেশব্যাপী শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনতে ২০২০ সালে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে 'হাতিয়া দ্বীপ, নিঝুম দ্বীপ ও কুতুবদিয়া দ্বীপ শতভাগ নির্ভরযোগ্য ও টেকসই বিদ্যুতায়ন' প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ওই প্রকল্পের আওতায় গত ১৩ এপ্রিল রাত সোয়া ৯টার দিকে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এবং গত বছরের নভেম্বর মাসে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপের বাসিন্দারা বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছেন। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এসব দ্বীপে স্বাভাবিক লাইন নির্মাণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনো সুযোগ না থাকায় সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ব্যয়বহুল হওয়া সত্ত্বেও শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনতে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।

মে ০৫, ২০২৩
ঘূর্ণিঝড় মোখা : বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শঙ্কা - image

ঘূর্ণিঝড় মোখা : বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শঙ্কা

12 মে 2023, বিকাল 6:00

ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বলছে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সব গ্রাহকের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র কারণে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে আগামী রোববার বাংলাদেশের কক্সবাজার ও অন্যান্য স্থানে আঘাত হানতে পারে। এ সময় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে আপনাদের সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, স্পষ্টতই দুর্যোগকালীন বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থা নানাভাবে ব্যাহত হয়। ইতোমধ্যে ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গতকাল শুক্রবার রাত ১১টায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা অঞ্চলে শনিবার গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটবে। এ সময় চট্টগ্রাম, মেঘনাঘাট, হরিপুর এবং সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় গ্যাস চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ বা আংশিক চালু থাকবে। তবে পরবর্তীতে ঝড়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। এ ছাড়া বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার দরুনও প্রায়ই বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। বৈদ্যুতিক লাইনে ডালপালাসহ গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটে। এতে বৈদ্যুতিক লাইন ও পোল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটে যান্ত্রিক ত্রুটি। সুতরাং এরূপ বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে গাছ সড়ানোসহ যান্ত্রিক ক্রটি সারাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়। এমতাবস্থায়ও বৈদ্যুতিক সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সব কারিগরি কর্মীরা সদা তৎপর আছেন। তথাপি এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটজনিত অসুবিধা হলে এজন্য সম্মানিত গ্রাহকদের কাছে আমরা আগাম দুঃখপ্রকাশ করছি। উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ প্রাণঘাতী। তাই বৈদ্যুতিক ছেঁড়া তারের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার জন্য সবাইকে বিশেষভাবে সতর্ক করা যাচ্ছে। ঝড় থেমে গেলেও আপনারা কোনোভাবেই ছেঁড়া তার সড়াবেন না। বিদ্যুৎ কর্মীরাই ছেঁড়া তারের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি আপনাদের বৈদ্যুতিক ছেঁড়া তার দেখা মাত্র নিকটস্থ বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষ অনুরোধ করা হলো।

মে ১২, ২০২৩
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo