logo
youtube logotwitter logofacebook logo

মৃত্যুঝুঁকি

সারাদেশে চেম্বারে রোগী দেখা ও অস্ত্রোপচার বন্ধ - image

সারাদেশে চেম্বারে রোগী দেখা ও অস্ত্রোপচার বন্ধ

16 জুলাই 2023, বিকাল 6:00

ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালের দুই চিকিৎসককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সারাদেশের গাইনি চিকিৎসকরা দুদিন ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখা ও অস্ত্রোপচার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছে চিকিৎসকদের অন্যান্য সংগঠন। ফলে এ সময় কার্যত দেশের বেশির ভাগ মানুষ চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসাসেবা পাবেন না। সোমবার (১৭ জুলাই) ও মঙ্গলবার সারাদেশের গাইনি চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে থাকবেন। তবে, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকরা সেবা দেবেন বলে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর আগে, শনিবার (১৫ জুলাই) সেন্ট্রাল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানা ও ডা. মুনা সাহাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গাইনি ও প্রসূতিবিদ চিকিৎসকদের সংগঠন অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনিকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ এ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এ বিষয়ে সোসাইটি অব সার্জন, বাংলাদেশের সভাপতি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, সোমবার ও মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে আমরা ওজিএসবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছি। এ সময় ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখা বন্ধ রাখব। পাশাপাশি সেখানে কোনো ধরনের অস্ত্রোপচারও হবে না। এটা শুধু চেম্বারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা চালু থাকবে, অস্ত্রোপচারও হবে। বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেছেন, সোসাইটির সদস্যরা ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখা বন্ধ রাখবেন। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী ফেরানো হবে না। আমরা কর্মসূচি পালন করব। এখন পর্যন্ত সোসাইটি অব সার্জনস, বাংলাদেশ; বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন, বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতি; মেডিকেল অনকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ; বাংলাদেশ সোসাইটি অব অ্যানেস্থিসিওলজিস্টস ক্রিটিক্যাল কেয়ার অ্যান্ড পেইন ফিজিশিয়ান্স; অ্যাসোসিয়েশন ফর দি স্টাডি অব লিভার ডিজিজেস বাংলাদেশ; বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি; সোসাইটি অব অটোলারিঙ্গোলজিস্ট অ্যান্ড হেড নেক সার্জনস অব বাংলাদেশ, সোসাইটি ফর মেডিকেল ভাইরোলজিস্টস, বাংলাদেশ; বাংলাদেশ একাডেমি অব প্যাথলজি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হেপাটোলজি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন একাত্মতা জানিয়েছে ওজিএসবির কর্মসূচির সঙ্গে। এর আগে, প্রসব ব্যথা ওঠায় গত ৯ জুন রাত ১২টা ৫০ মিনিটে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ডা. সংযুক্তা সাহার অধীনে ভর্তি করা হয় মাহবুবা রহমান আঁখিকে। কিন্তু ডা. সংযুক্তা সাহার বদলে ওই নারীর ডেলিভারি করতে যান ডা. মিলি। এ সময় ডা. মিলি ওই প্রসূতির পেট কাটতে গিয়ে মূত্রনালি ও মলদ্বার কেটে ফেলেন। সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়ে রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অজ্ঞান অবস্থায় সিজার করে বাচ্চা বের করা হয়। এতে বাচ্চার হার্টবিট কমে গেলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নবজাতককে মৃত ঘোষণা করে। এ অব্স্থায় স্বামী ইয়াকুব আলী সেন্ট্রাল হাসপাতালের কোনো সহযোগিতা না পেয়ে পরে তার স্ত্রীকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করান। এরপর রোববার (১৮ জুন) দুপুরে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাহবুবা রহমান আঁখি। এ ঘটনায় বুধবার (১৪ জুন) ধানমন্ডি থানায় ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’র একটি মামলা দায়ের করেন ইয়াকুব আলী। মামলায় ডা. শাহজাদী, ডা. মুনা, ডা. মিলি, সহকারী জমির, এহসান ও হাসপাতালের ম্যানেজার পারভেজকে আসামি করা হয়। এ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়। পরে ১৫ জুন ডা. শাহজাদী ও ডা. মুনাকে গ্রেপ্তার করে ধানমন্ডি থানা পুলিশ। পরে তারা ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু এবং মায়ের মৃত্যুঝুঁকির জন্য নিজেদের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জুলাই ১৬, ২০২৩
শর্ত পূরণ হলে ইউক্রেনের সাথে চুক্তিতে ফিরবে রাশিয়া - image

শর্ত পূরণ হলে ইউক্রেনের সাথে চুক্তিতে ফিরবে রাশিয়া

22 জুলাই 2023, বিকাল 6:00

ইউক্রেনের সাথে বন্ধ হয়ে যাওয়া শস্য চুক্তিতে ফিরতে বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে রাশিয়া। এদিকে, এ চুক্তি কার্যকর না হলে মৃত্যুঝুঁকিতে পড়বে বিশ্বের বহু মানুষ- শঙ্কা জাতিসংঘের। শনিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে শস্য চুক্তি নিয়ে হওয়া বিতর্কে নিজেদের দাবি তুলে ধরে মস্কো। সংস্থায় নিযুক্ত রুশ প্রতিনিধি দিমিত্রি পোলিয়ানস্কি জানান, শর্ত পূরণ হলেই চুক্তিতে ফিরবে রাশিয়া। আর এজন্য রাশিয়ার সার-কৃষি-খাদ্যপণ্য ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে আহ্বান জানান তিনি। সেই সাথে আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেন ব্যবস্থা সুইফটে মস্কোকে আবারও যুক্ত করার পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে থাকার রাশিয়ার অর্থ ছাড়েরও দাবি জানান পোলিয়ানস্কি। এর আগে একদফায় শস্য চুক্তির মেয়াদ বাড়ালেও প্রতিশ্রুত নিষেধাজ্ঞা না তোলায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় মস্কো। এসময় জাতিসংঘের মানবাধিকার সহায়তা বিভাগের নির্বাহী মার্টিন গ্রিফিথ জানান, গেল বছর চুক্তির পর খাদ্য শস্যের দাম ২৩ শতাংশ কমলেও চুক্তি পুনরায় কার্যকর না হলে খাদ্যঝুঁকিতে পড়বে চরম দারিদ্রের মধ্যে বাস করা ৬৯ দেশের ৩৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ।

জুলাই ২২, ২০২৩
ঝুঁকিপূর্ণ গুলশান শপিং সেন্টার ভেঙে ফেলার নির্দেশ - image

ঝুঁকিপূর্ণ গুলশান শপিং সেন্টার ভেঙে ফেলার নির্দেশ

21 জানুয়ারি 2024, বিকাল 6:00

রাজধানীর গুলশান-১ এ অবস্থিত ঝুঁকিপূর্ণ ‘গুলশান শপিং সেন্টার’ ভেঙে ফেলতে হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। সোমবার (২২ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। গত ১২ ডিসেম্বর বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ ৩০ দিনের মধ্যে গুলশান শপিং সেন্টার ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ডিএনসিসি, রাজউকসহ সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গত ২৩ জুলাই রাজধানীর গুলশান-১ এ অবস্থিত গুলশান শপিং সেন্টারটি সিলগালা করে দেয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। পরে বানী চিত্র ও চলচ্চিত্র নামে দুটি কোম্পানি গুলশান শপিং সেন্টার ভেঙে ফেলার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্ট রিট করে। রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন। গুলশান শপিং সেন্টারের হোটেল, দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সিলগালা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুলকার নায়ন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান।এর আগে জরাজীর্ণ ভবন ও অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা না থাকার কারণে ২০২১ সালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর গুলশান শপিং সেন্টারকে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ডিএনসিসিকে জরুরি ভিত্তিতে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চিঠি দেয়। অঞ্চল-৩ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুলকার নায়ন বলেন, শপিং সেন্টারটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যেকোনো ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে দোকান মালিকদের ভবন খালি করে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হলেও মালিকেরা সেটি করেনি। ঝুঁকিপূর্ণ, পরিত্যক্ত এই ভবন ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। মৃত্যুঝুঁকি রয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্য। জুলকার নায়ন আরও বলেন, বারবার সতর্ক করা হলেও পরিত্যক্ত ভবনটি খালি করছে না ব্যবসায়ীরা। খালি করার জন্য একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ব্যবসা পরিচালনা করে চলেছে তারা। জানমালের নিরাপত্তার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সুপারিশ বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯, তৃতীয় তফসিল-১৭, ইমারত নিয়ন্ত্রণ ইমারত সম্পর্কিত প্রবিধানের ১৭(১) ও ১৭(২) অনুযায়ী জনস্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটটি সিলগালা করা হয়েছে। তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ও নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৫ প্লাটুন পুলিশ, ১ প্লাটুন এপিবিএন ও অন্যান্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসহ উপস্থিত হয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মার্কেটটির গেটসমূহ তালাবদ্ধ ও সিলগালা করা হয়। এ সময় মাইকিংও করা হয় এবং মালামাল সরানের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। এছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য সেবা সংস্থার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে এগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

জানুয়ারি ২১, ২০২৪
স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আনসার সদস্যদের ভূমিকা পালনের আহ্বান - image

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আনসার সদস্যদের ভূমিকা পালনের আহ্বান

11 ফেব্রুয়ারি 2024, বিকাল 6:00

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ‘বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৪তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে এ আহ্বান জানান। সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৪তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৪ অনুষ্ঠিত হচ্ছে জেনে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষ্যে এ বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে এ বাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এ বাহিনীর সদস্যরা মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভে আনসার সদস্যরা নিজেদের অস্ত্রাগারে রক্ষিত ৪০ হাজার থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তুলে দেন। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ১২ জন বীর আনসার সদস্য মুজিবনগরের আম্রকাননে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকারকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে, যা এ বাহিনীকে করেছে গৌরবান্বিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সাফল্যের অন্যতম অংশীদার। জনসম্পৃক্ত সুশৃঙ্খল এ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিবার পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য, দুর্যোগ মোকাবিলা, পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণ, নারী ও শিশুপাচার রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে অনবদ্য অবদান রাখছে। নারীর ক্ষমতায়ন, জনকল্যাণ ও উন্নত জাতি গঠনে প্রায় ৬১ লাখ সদস্যের এ বাহিনীর বহুমুখী উন্নয়নমূলক কর্মতৎপরতা সত্যিই প্রশংসনীয়। এছাড়াও খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে এ বাহিনীর সদস্যরা অসামান্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার এ বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাহিনীর সদস্যদের জন্য নতুন পোশাক প্রবর্তন, পারিবারিক রেশন প্রদান, সাধারণ আনসারের রেশন সামগ্রীর পরিমাণ বৃদ্ধি, সাহসিকতা ও সেবামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রীয় পদক প্রবর্তন, কর্মকর্তাদের জন্য বিভিন্ন গ্রেডে নতুন পদ সৃজন, টিআইদের পদোন্নতি এবং কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ব্যাটালিয়ন সদস্যদের বৈদেশিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও একটি বিশেষায়িত গার্ড ব্যাটালিয়নসহ নতুন আনসার ব্যাটালিয়ন গঠন, ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যদের স্থায়ীকরণের মেয়াদ হ্রাস এবং আনসার ব্যাটালিয়নের তিনটি পদবির বেতন গ্রেডের ধাপ উন্নীত করা হয়েছে। বাহিনীর অবকাঠামোসহ সর্বক্ষেত্রে আধুনিকায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে রেঞ্জ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ভবন নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন, বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো প্রয়োজনে এ বাহিনীর সদস্যরা আত্মনিবেদিত ও সদা তৎপর। ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে দায়িত্ব পালনকারী এ বাহিনীর সব সদস্যকে আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি’। শেখ হাসিনা বলেন, একক বাহিনী হিসেবে সর্বোচ্চ সংখ্যক ৫ লাখ ১৭ হাজার ১৪৩ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য নির্বাচনে মোতায়েন করা হয়েছিল। বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংক্রমণের শুরুতে মৃত্যুঝুঁকি উপেক্ষা করে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম, মাস্ক ও লিফলেট বিতরণ, শ্রমিক সংকটকালে কৃষকের ফসল ঘরে তোলা, ত্রাণ বিতরণ এবং হাসপাতালে আগত রোগীদের সহায়তা প্রদান সহ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে নিবন্ধন কার্যক্রমে সহযোগিতা ও কোভিড-১৯ বিশেষায়িত হাসপাতালে দায়িত্ব পালনে এ বাহিনীর সদস্যদের সাহসী উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতিটি সদস্য দেশ প্রেম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বাহিনীর সুনাম, ঐতিহ্য ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে দেশ ও জাতির শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে আরও অবদান রেখে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ তথা স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। তিনি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৪তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৪ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৪
ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ঘন কুয়াশায় একসঙ্গে ৬ গাড়ির সংঘর্ষ, আহত ২৫ - image

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে ঘন কুয়াশায় একসঙ্গে ৬ গাড়ির সংঘর্ষ, আহত ২৫

31 জানুয়ারি 2025, বিকাল 6:00

রংপুরে ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একই স্থানে একে একে ছয়টি পরিবহন দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এতে প্রাণহানির কোনো ঘটনা না ঘটলেও অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মিঠাপুকুরের রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে গড়ের মাথা মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনাকবলিত পরিবহনগুলোর মধ্যে তিনটি যাত্রীবাহী বাসসহ ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ড ভ্যান রয়েছে। গাড়িগুলো ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে বড় দরগাহ হাইওয়ে পুলিশ। হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা এসব পরিবহন রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের মিঠাপুকুর গড়ের মাথা মোড়ে কুয়াশার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় চতুর্মুখী সড়কের এই মোড়ে তিনটি বাস, একটি ট্রাক ও পিকআপ এবং কাভার্ড ভ্যান একে অপরকে ধাক্কা দেয়। এতে কয়েকটি পরিবহনের সামনের গ্লাস ভেঙে গেছে এবং কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় ২০-২৫ আহত হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর জখম হওয়ায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর শুনে বড়দরগা হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। সেই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পরিবহনগুলো সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে। বর্তমানে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে জানিয়ে বড়দরগা হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত পরিবহনগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। খুব বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। আহত কয়েকজন যাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই মহাসড়কে প্রতিদিন বালু ও মাটিবাহী ট্রাক চলাচল করে। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা মাটি ঘন কুয়াশার কারণে পিচ্ছিল হয়েছিল। সঙ্গে ঘন কুয়াশায় দৃষ্টিসীমা কমে আসায় হয়তো চালকেরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একে একে ধাক্কা লাগে।’ হাইওয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ঘন কুয়াশা থাকায় রংপুর অঞ্চলের মহাসড়কে বেশ কিছু ছোট ছোট দুর্ঘটনা ঘটছে। কুয়াশার কারণে অনেক জায়গায় দৃষ্টিসীমা কমে যাচ্ছে। গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়ে চালক ও যাত্রীসাধারণকে ধীরে এবং সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পীরগঞ্জসহ জেলার কয়েকটি স্থানে পৃথক পাঁচটি দুর্ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান তিনি। হাইওয়ে পুলিশ রংপুর অঞ্চলের সুপার মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, গত বছর (২০২৪ সাল) রংপুরে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে ১৯৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ১২০, নারী ২২ ও শিশু ছিল চারজন। এসব দুর্ঘটনায় মামলা হয়েছিল ১৫২টি। শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশায় সড়ক ও মহাসড়কে মৃত্যুঝুঁকিসহ দুর্ঘটনা এড়াতে চলাচলের সময় গতি নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। এদিকে রংপুরে আজও হিমেল হাওয়ার বেড়েছে শীতের দাপট, সঙ্গে বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা। শীতের কারণে মানুষ কাবু হয়ে পড়েছে। রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৬টায় রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। রংপুরের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সূর্যের আলো না থাকায় এবং হিমেল হাওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের আবহাওয়া আরও কয়েক দিন থাকবে।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৫
বাংলাদেশে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের শঙ্কা: নিশ্চিত মৃত্যুঝুঁকিতে ৪ লাখ মানুষ! - image

বাংলাদেশে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের শঙ্কা: নিশ্চিত মৃত্যুঝুঁকিতে ৪ লাখ মানুষ!

26 জুন 2026, বিকাল 4:36

বাংলাদেশে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের শঙ্কা: নিশ্চিত মৃত্যুঝুঁকিতে ৪ লাখ মানুষ!যেকোনো মুহূর্তে আঘাত হানতে পারে প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প। বাংলাদেশ ও এর আশপাশের ভূতাত্ত্বিক অবস্থান এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, বড় ধরনের একটি ভূকম্পন কোটি মানুষের এই ঢাকাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের বরাতে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র—ঢাকায় সাত মাত্রার একটি ভূমিকম্প হলেই মুহূর্তের মধ্যে প্রাণ হারাতে পারেন ৩ থেকে ৪ লাখ মানুষ।প্রকৃতির এই আসন্ন বিপদের বড় সংকেত মিলছে সাম্প্রতিক সময়ে। সামান্য ব্যবধানে পরপর দুদিন ঢাকায় মৃদু ও কাঁপুনি দিয়ে ভূমিকম্প জানান দিয়ে গেল যে, সামনে হয়তো আরও খারাপ কিছু আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। শুধু ঢাকা নয়, চলতি মাসেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কয়েকবার মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। ঘন ঘন এই কাঁপুনি এখন সাধারণ মানুষের মনে একটি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্পের চরম আতঙ্ক ও আশঙ্কা তৈরি করেছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা ও এর চারপাশের ফল্ট লাইনগুলো দীর্ঘ সময় ধরে বড় ধরনের শক্তি জমিয়ে রেখেছে। ১৫০-২০০ বছরের চক্র অনুযায়ী, বাংলাদেশে একটি ৭ মাত্রার ভূমিকম্প এখন যে কোনো সময় ঘটতে পারে। যদি টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্টে এই তীব্রতার ভূমিকম্প হয়, তবে রাজধানী এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হবে। শুধু রাতের বেলা আঘাত হানলে হতাহতের সংখ্যা এক ধাক্কায় ৫ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। রাজউকের এক জরিপ বলছে, এই মাঝারি তীব্রতার কম্পনেই ঢাকার প্রায় ৭২ হাজার বহুতল ভবন তাসের ঘরের মতো সম্পূর্ণ ধসে পড়বে।এই চরম বিপর্যয়ের মূল কারণ আমাদের নিজেদের তৈরি। ঢাকার ৪১ শতাংশ ভবনই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং অর্ধেকের বেশি কংক্রিটের কাঠামো তৈরি হয়েছে কোনো জাতীয় বিল্ডিং কোড না মেনে। জলাশয় আর নিচু জমি ভরাট করে তৈরি হওয়া নতুন আবাসন এলাকাগুলো রয়েছে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হলো, কম্পনের পরপরই ভূগর্ভস্থ গ্যাস ও বিদ্যুৎ লাইন থেকে পুরো শহরে অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়বে। পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার মাত্র তিন-চার ফুটের সরু গলির কারণে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী গাড়ি ঢোকার কোনো সুযোগই থাকবে না।এই মহাবিপর্যয় থেকে বাঁচতে হলে সরকারকে নিতে হবে কঠোর পদক্ষেপ । ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে শক্তিশালী করতে হবে এবং নতুন ভবন তৈরিতে শতভাগ আইন মানতে হবে। প্রকৃতির এই অমোঘ আঘাত আসার আগেই যদি সতর্ক না হওয়া যায়, তবে এই কোটি মানুষের নগরী একদিন শুধুই ধ্বংসস্তূপের ইতিহাস হয়ে থাকবে।এফ/এইচ

জুন ২৬, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo