
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
লাতিন আমেরিকায় বিশ্বশক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা লাতিনোবারোমেত্রোর এক জরিপে দেখা গেছে, অঞ্চলটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রভাবকে এখন মানুষ অনেক বেশি ইতিবাচক চোখে দেখছেন। ১৯৯৫ সালে বার্ষিক এই জরিপ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম প্রভাব ফেলার বিচারে চীন পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে অতিক্রম করতে সক্ষম হলো।
শুক্রবারে প্রকাশিত ২০২৬ সালের এই লাতিনোবারোমেত্রো জরিপে লাতিন আমেরিকার ১৭টি দেশের প্রায় ১৯,২০০ জন মানুষের মুখোমুখি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, উত্তরদাতাদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ মানুষ অঞ্চলটিতে চীনের প্রভাবকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন, যা ২০২০ সালেও ছিল মাত্র ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে ইতিবাচক ভাবছেন
গবেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অনুপস্থিতি এবং চীনের বাণিজ্য নীতিই এই নতুন সমীকরণের মূল কারণ। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ-পরবর্তী দুই দশকে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের দৃশ্যমান মনোযোগ কম থাকায় চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপানের মতো শক্তিগুলো এখানে শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে। লাতিনোবারোমেত্রোর পরিচালক মার্তা লাগোসের ভাষায়, সুলভ মূল্যে পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে চীন মূলত সাধারণ মানুষের পকেটের শূন্যতা পূরণ করে তাদের কাছে দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।
তবে ক্ষমতার সার্বিক প্রভাবে চীন এগিয়ে থাকলেও দেশ হিসেবে মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কিছুটা জনপ্রিয়। জরিপে ৬৩ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে দেশ হিসেবে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, যেখানে চীনের পক্ষে এই হার ৫৮ শতাংশ। তা সত্ত্বেও, ২০২৪ সালে জো বাইডেনের মেয়াদের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক জনপ্রিয়তা ৭৩ শতাংশ থেকে বেশ খানিকটা হ্রাস পেয়েছে, যা অঞ্চলটিতে মার্কিন ভাবমূর্তি শিথিল হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির কারণে দুই শতাব্দী পুরোনো মনরো ডকট্রিনের নতুন রূপ ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে জানুয়ারিতে মার্কিন অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল, তা জরিপে উঠে এসেছে। আর্জেন্টিনার মতো কিছু দেশ ব্যাতিরেকে অধিকাংশ অঞ্চলের মানুষ মাদুরোকে আটকের বিষয়টিকে সমর্থন করলেও, মাত্র ৩৫ শতাংশ বিশ্বাস করেন যে এই পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার জন্য প্রকৃতপক্ষে সুফল বয়ে এনেছে।