
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
যাত্রীদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিলেন সৌদি বিমানবন্দর কর্মী
চারিদিক জুড়ে তখন ধোয়া আর অগুনের লেলিহান শিখা। সেদিন মুহূর্তেই বদলে যায় বিমানবন্দরের পরিস্থিতি। ঠিক তখনই একজন কর্মী নিজের জীবনের কথা না ভেবে ছুটে যান অন্যদের বাঁচাতে। কিন্তু আগুন নেভানোর এক অদম্য লড়াইয়ের পর যাত্রীদের বাঁচাতে পারলেও শেষ পর্যন্ত আর নিজের জীবন নিয়ে ফেরা হলো না সৌদি বিমানবন্দরের কর্মী সুলতান আল-কাহতানির।
গত ২১ অক্টোবর সৌদি আরবের দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পরই প্রস্থান গেটের কাছে আগুন জ্বলে ওঠে। মুহূর্তেই তৈরি হয় আতঙ্ক। মানুষ ছোটাছুটি করছে জীবন বাঁচাতে, আর এদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা। এমন পরিস্থিতিতেও নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে সহকর্মীদের সঙ্গে ছুটে যান আগুন নেভাতে। হাতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, সামনে দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন। লক্ষ্য একটাই, আগুন যেন অন্য বিমানে ছড়িয়ে না পড়ে, কোনো যাত্রীর প্রাণ যেন বিপন্ন না হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি।
কিন্তু সেই চেষ্টা করতে গিয়েই অতিরিক্ত ধোঁয়ায় শ্বাস নিতে কষ্ট শুরু হয় সুলতানের। বুকে দেখা দেয় তীব্র ব্যথা। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। যে মানুষটি অন্যদের নিরাপদ রাখতে নিজের জীবন বাজি রেখেছিলেন, তিনিই আর ফিরে এলেন না নিজের পরিবারের কাছে।
শহীদ সুলতানের রয়েছে ছয়টি সন্তান। তার বাবা ছেলের এই বীরত্ব স্মরণ করে বলেন, দেশ ও মানুষের সেবা করতেই তার ছেলে শহীদ হয়েছে। চরম বিপদের মুখে নিজের জীবনের পরোয়া না করে অন্যদের প্রাণ বাঁচাতে সুলতানের এই অসাধারণ সাহসিকতা এখন পুরো দেশজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।