
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ভয়াবহ হামলায় বিধ্বস্ত সৌদি, ফের নিশানায় বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা!
আরামকো তেল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পুরো সৌদি আরব জুড়েই নতুন মহাবিপর্যয়ের হুমকি দিল ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীরা। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে সৌদির জ্বালানি খাত, কোনো কিছুই তাদের নিশানা থেকে বাদ যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তারা। একের পর এক ড্রোন আর ক্ষেপণাস্ত্রের এই নতুন হুঁশিয়ারি কি তবে মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিচ্ছে?
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরান। এখানেই অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি কোম্পানি সৌদি আরামকোর গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়। মঙ্গলবার, এই ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে কয়েকটি তলায়। রয়টার্সের একাধিক সূত্র বলছে, ভবনটির বেশ কিছু অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ আগুনের ঘটনাকে সীমিত বলে জানিয়েছে। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।
এরপর বুধবার নতুন করে হুঁশিয়ারি দেয় মিত্র গোষ্ঠীরা। তাদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখা হবে। এসব স্থাপনাকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু বলেও দাবি করে গোষ্ঠীটি। এদিকে বুধবার রিয়াদের আকাশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায়, রাজধানীমুখী একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ইরান সমর্থিত মিত্র গোষ্ঠীর দাবি, তাদের অভিযানের লক্ষ্য ছিল আরামকোর স্থাপনা, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও একটি তেল শোধনাগার।
এর আগে ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর জানানো হয়। পরপর হামলার ঘটনায় বিমান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা সৌদিগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
সংঘাতের প্রভাব পড়ছে ইয়েমেনেও। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশটিতে আট লাখ মানুষের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না। শুধু তাইজ শহরেই খাদ্য সহায়তা থেকে বিচ্ছিন্ন ছয় লাখের বেশি মানুষ। এভাবে একদিকে সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি, অন্যদিকে ইয়েমেনে খাদ্য ও চিকিৎসাসংকট, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।