
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ভারতের নিষেধাজ্ঞার মুখ থুবড়ে পরলো বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি!
টেকসই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো নিরবচ্ছিন্ন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য। কিন্তু কখনো কখনো কূটনৈতিক টেবিলের ঠান্ডা লড়াই কিংবা নীতিমালার অদৃশ্য দেয়াল চেনা বাজারকেও করে তোলে সম্পূর্ণ অচেনা। নিকটতম প্রতিবেশীর বিশাল বাজারে প্রবেশাধিকার যখন সহজ হওয়ার কথা, ঠিক তখনই সেখানে তৈরি হয়েছে এক অলিখিত মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব। ফলে দুই ভূখণ্ডের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সমীকরণে এক বড় ধরনের রূপান্তর লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা ভাবিয়ে তুলেছে দেশের নীতিনির্ধারকদের।
বাংলাদেশি পণ্যের এক সময়ের সম্ভাবনাময় বাজার ভারতে বর্তমানে বইছে মন্দার হাওয়া। স্থলবন্দরের সুবিধা সংকুচিত করে দূরবর্তী সমুদ্রপথ ব্যবহারের নতুন নিয়মে পণ্যের লজিস্টিকস ও পরিবহন খরচ আকাশ ছুঁয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকতে না পেরে
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের সূত্রপাত মূলত আমদানি-রপ্তানি নীতির পাল্টাপাল্টি সিদ্ধান্তের কারণে। স্থলপথে কাঁচামাল আনার পথ বন্ধ করার প্রতিক্রিয়ায় প্রতিবেশীর তিন দফার কঠোর বিধিনিষেধ বর্তমানে দেশীয় মাঝারি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ভারতের বাজারের বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কূটনৈতিক শিথিলতার কারণে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সেই সুযোগ হারিয়েছে।
বিশ্ববাণিজ্যের মঞ্চে ভারতের অবস্থান যখন সুসংহত হচ্ছে, তখন ঢাকার এই রপ্তানি পতনকে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, এটি কোনো স্থায়ী বাণিজ্যিক সমস্যা নয়, বরং নীতিনির্ধারণী ও কৌশলগত বোঝাপড়ার ঘাটতি।
ব্যবসায়ী এবং অর্থনীতিবিদদের একক দাবি- ট্যারিফ কমিশনের আইনি মারপ্যাঁচ এড়াতে আমলাতান্ত্রিক চিঠ চালাচালি বন্ধ করতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে শীর্ষ রাজনৈতিক পর্যায় থেকে কার্যকর ও দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগই পারে প্রতিবেশীর বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সুদিন ফিরিয়ে আনতে।
এফ/এইচ