
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন ‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬’ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ৩ সেপ্টেম্বর ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরের পর বিধিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। নতুন বিধিমালায় নির্বাচনি প্রচারণায় পোস্টার, মিছিল ও শোডাউন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি হেলিকপ্টার ব্যবহার এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
নতুন আচরণবিধিতে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের প্রচারণার ধরন, নির্বাচনি ব্যয় এবং প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের প্রচারণা শুরুর আগে কোন কোন মাধ্যমে প্রচার চালানো হবে, সে তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ব্যয় নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ বা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনি পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—এমন কনটেন্ট প্রচারের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাবার, পানীয় বা উপহার দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে প্রচারণা চালানো যাবে না। ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির ব্যবহার, কুৎসা বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক প্রচারণাও নিষিদ্ধ থাকবে। একইভাবে সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বা অন্য কোনো সরকারি সম্পদ নির্বাচনি কাজে ব্যবহার করা যাবে না এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণের ওপর বিধিনিষেধ থাকবে।
বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারবে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, নতুন আচরণবিধির লক্ষ্য উপজেলা নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে পোস্টার, মিছিল-শোডাউন নিষিদ্ধ এবং এআই-নির্ভর অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বিধান এবারের নির্বাচনি প্রচারণায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
/টি