
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে পালাবদলের হাওয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। সরকার গঠনের লক্ষ্যে টিভিকে-কে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কংগ্রেস। তবে এই সমর্থনের পেছনে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি (এআইসিসি) একটি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে। দলটির স্পষ্ট বার্তা—জোটের ভেতরে এমন কোনো ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’ রাখা যাবে না, যারা ভারতের সংবিধানের মূল আদর্শে বিশ্বাসী নয়।
কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিজয়ের দলের শক্তি এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়েছে। কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়কের সমর্থন পাওয়ায় টিভিকের মোট আসন সংখ্যা এখন ১১২। যদিও সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার ১১৮-তে পৌঁছাতে বিজয়ের আরও ৬ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে একক বৃহত্তম দল হিসেবে ১০৭টি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর এখন এআইএডিএমকে প্রধান এডাপ্পাডি কে পলানিস্বামীর সঙ্গে টিভিকের নেতাদের বৈঠকের দিকে। চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক বিজেপির মিত্র হিসেবে পরিচিত এআইএডিএমকে শিবিরে অস্বস্তি বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে কংগ্রেস জানিয়েছে, বিজয়ের সঙ্গে তাদের এই জোট কেবল সরকার গঠনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং লোকসভা ও রাজ্যসভা নির্বাচনেও এই সমঝোতা বজায় থাকবে।
রাহুল গান্ধী এবং বিজয়—উভয় নেতাই তামিলনাড়ুর জনগণের ঐতিহাসিক রায়কে সম্মান জানিয়ে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল সরকার গঠনের অঙ্গীকার করেছেন। বিশেষ করে রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান এবং প্রত্যাশা পূরণকে অগ্রাধিকার দিয়ে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে দুই দল। এই জোটের মাধ্যমে তামিলনাড়ুতে গত ৬২ বছরের ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২৩৪ আসনের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয় নিজেই দুটি আসন (ত্রিচি ইস্ট ও পেরাম্বুর) থেকে জয়লাভ করেছেন। তবে দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, তিনি সম্ভবত পেরাম্বুর আসনটি নিজের কাছে রেখে ত্রিচি ইস্ট ছেড়ে দেবেন। নির্বাচনে বিজয়ের দল ১০৮টি আসনে জয় পেয়ে ইতিহাস গড়েছে, যেখানে শাসক দল ডিএমকে পেয়েছে মাত্র ৫৯টি আসন এবং এআইএডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি আসন। বিজয়ের এই উত্থান দাক্ষিণাত্যের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করল।
/টিএ