
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
শতবর্ষে পা দিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তম কুমার। আজ ৩ সেপ্টেম্বর তার ১০০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯২৬ সালের এই দিনে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়, চলচ্চিত্রজগতে যিনি পরবর্তীতে উত্তম কুমার নামে খ্যাতি অর্জন করেন। তার বাবা সাতকড়ি চট্টোপাধ্যায় এবং মা চপলা দেবী। অভিনয়জীবনের শুরু ১৯৪৮ সালে ‘দৃষ্টিদান’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। তবে নায়ক হিসেবে তার প্রথম সিনেমা ছিল ‘মায়াডোর’।
‘বসু পরিবার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবার দর্শকের ব্যাপক নজর কাড়েন উত্তম কুমার। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এই কিংবদন্তি। রোমান্টিক নায়ক থেকে শুরু করে বৈচিত্র্যময় চরিত্র—প্রতিটি ভূমিকাতেই নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে
উত্তম কুমারের নাম উচ্চারণের সঙ্গে অবধারিতভাবেই আসে সুচিত্রা সেনের নাম। সুচিত্রা সেন-এর সঙ্গে তার জুটি বাংলা চলচ্চিত্রে রোমান্টিকতার এক অনন্য অধ্যায় তৈরি করে। ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ সিনেমায় প্রথমবার সুচিত্রা সেনের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। এরপর ‘হারানো সুর’, ‘পথে হল দেরী’, ‘চাওয়া পাওয়া’, ‘বিপাশা’, ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘সাগরিকা’ ও ‘সপ্তপদী’র মতো চলচ্চিত্রে এই জুটি দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেয়। তবে শুধু রোমান্টিক চরিত্রেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না উত্তম কুমার; সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’-এর মতো চলচ্চিত্রে তার অভিনয় আজও দর্শক ও চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের কাছে সমানভাবে আলোচিত।
অভিনয়ের স্বীকৃতিও এসেছে একাধিকবার। ১৯৫৭ সালে অজয় কর পরিচালিত ‘হারানো সুর’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য রাষ্ট্রপতির সার্টিফিকেট অব মেরিট লাভ করেন উত্তম কুমার। পরে ১৯৬৭ সালে ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ ও ‘চিড়িয়াখানা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। সেই সময় জাতীয় পুরস্কার ‘ভরত’ নামে পরিচিত ছিল। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছে আগ্রহের বিষয় হয়ে আছে। সিনেমা সংশ্লিষ্টদের মতে, শতবর্ষে এসেও উত্তম কুমার প্রাসঙ্গিক—কারণ তার অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও পর্দার উপস্থিতি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন মহানায়ক উত্তম কুমার। তার চলে যাওয়ার পর পেরিয়ে গেছে কয়েক দশক, কিন্তু বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি তার উপস্থিতি। আজও তার সিনেমা, সংলাপ, অভিনয় ও সুচিত্রা সেনের সঙ্গে জুটি দর্শকের মনে তৈরি করে নস্টালজিয়া। বাংলা সিনেমা ও বাঙালির আবেগ—এই দুটি শব্দ যেখানে এসে একবিন্দুতে মেলে, সেখানে উত্তম কুমারের নামটি অনিবার্য। শতবর্ষেও তাই তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন; তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের এক চিরন্তন অধ্যায়।
/টি