
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
সম্পর্ক শেষ হলেও পৃথিবীর যে দুই দেশে ডিভোর্সের কোনো নিয়মই নেই
প্রেম-ভালোবাসা ফুরিয়ে গেলে, জোর করে এক ছাদের নিচে থাকাটা অসহ্য যন্ত্রণার মতো মনে হয়। যখন মন আর মেলে না, তখন অনেক দম্পতিই চান সুন্দরভাবে একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে। কিন্তু চাইলেই কি এত সহজে সম্পর্কের সুতো ছেঁড়া যায়?
অবাক করার মতো হলেও সত্যি, পৃথিবীর বুকে এমন দুটি দেশ আছে যেখানে আইনিভাবে ডিভোর্স বা বিবাহবিচ্ছেদের কোনো সুযোগই নেই! ভালোবাসার ইতি ঘটলেও, আইনের চোখে সারাজীবন স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই থেকে যেতে হয়। সম্পর্কের চড়াই-উতরাই আর অদ্ভুত সব আইনি নিয়মের এমন এক বাস্তব ঘটনাই ঘটছে এই দুই দেশে, যা শুনলে হয়তো অনেকেই চমকে উঠবেন।
প্রথমেই আসা যাক ফিলিপাইনের কথায়। দেশটিতে অধিকাংশ নাগরিকের জন্য সাধারণ বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থা নেই। তবে সম্পর্ক ভাঙলে দম্পতিরা আদালতের অনুমতি নিয়ে আলাদা থাকতে পারেন, কিন্তু বিয়ের বন্ধন টিকে থাকায় তারা নতুন করে কাউকে বিয়ে করতে পারেন না। আরেকটি পথ হলো বিয়ে বাতিল করা, যেখানে বিয়ের সময়ের কোনো আইনি ত্রুটি দেখিয়ে আদালত থেকে পুরো বিয়েটাই অবৈধ ঘোষণা করিয়ে নেওয়া যায়। অবশ্য দেশটির মুসলিম নাগরিকদের জন্য ব্যতিক্রম রয়েছে, তারা চাইলে নিজেদের ধর্মীয় আইন মেনে বিবাহবিচ্ছেদ করতে পারেন।
এবার আসা যাক ভ্যাটিকান সিটির কথায়। ক্যাথলিক চার্চের ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, বৈধ বিয়েকে অবিচ্ছেদ্য বন্ধন হিসেবে দেখা হয় বলে এখানে বিবাহবিচ্ছেদের কোনো সুযোগ নেই। তবে দম্পতিরা চাইলে চার্চের অনুমতি নিয়ে আলাদা থাকতে পারেন, যদিও তাতে আইনি বন্ধন শেষ হয় না। সম্পর্ক থেকে পুরোপুরি মুক্ত হওয়ার একমাত্র পথ হলো বিয়ে বাতিল করা; যার জন্য প্রমাণ করতে হয় যে, বিয়ের শুরুতেই কোনো ধর্মীয় বা আইনি ত্রুটি ছিল এবং বিয়েটি আদতেই বৈধ ছিল না।
এ কারণেই বিদেশে চলে যাওয়া কিংবা অন্য দেশের নাগরিকত্ব নেওয়াও আগের বিয়ের আইনি জটিলতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিটিয়ে দেয় না। অর্থাৎ, সম্পর্ক শেষ হলেও আইনের চোখে বিয়ে ভাঙা এক বিষয় নয়। এই অদ্ভুত পার্থক্যের কারণেই ফিলিপাইন ও ভ্যাটিকান সিটির বিয়ের আইন পুরো বিশ্বের চেয়ে আলাদা।