
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ছাত্রীদের দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব ও অশালীন কথাবার্তায় উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছে এক দর্জির বিরুদ্ধে। তার এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় মো. ইউসুফ আলী খান (৬০) নামে এক সাবেক সেনাসদস্যকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের রাজাপুর ক্যালিকো কটন মিলের সামনে ডা. ইয়াজ উদ্দিন খাঁ সুপার মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ইউসুফ আলী খান রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় তিনি পাবনা সদর থানায় মো. সেলিম হোসেন ওরফে ‘দর্জি সেলিম’ (৫৫)-এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে ইউসুফ আলী খান উল্লেখ করেন, রাজাপুর ক্যালিকো
অভিযোগকারীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সেলিম ওই ছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব ও অশালীন কথা বলে উত্ত্যক্ত করতেন। এমনকি তাদের উদ্দেশে অশালীন অঙ্গভঙ্গিও করতেন। তার এসব আচরণে ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অস্বস্তি তৈরি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন ছাত্রী ওই মেস ছেড়ে অন্যত্র চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি জানতে পেরে ইউসুফ আলী খান উক্ত দর্জি সেলিমকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সেলিম তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন ইউসুফ আলী খান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মঙ্গলবার বিকেলে সেলিম ইউসুফ আলী খানের দোকানের সামনে এসে তাকে গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে সেলিম তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে ইউসুফ আলীর মাথায় আঘাত করেন। এতে মাথার বাম পাশে ফেটে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, তিনি মাটিতে পড়ে গেলে সেলিম রড দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার মাথা, হাত, পিঠ, বুক, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
এ সময় ইউসুফ আলী খানের চিৎকার শুনে মো. ইয়াকুব আলী খান, আরিফুল ইসলাম সৈকত, মো. নজরুল ইসলামসহ স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সেলিম তাকে আরও ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে খুন-জখম এবং দোকানের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে সেলিম ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে অভিযোগকারীর দাবি।
পরে স্থানীয়রা আহত ইউসুফ আলী খানকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, ওই মেসে থাকা পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দর্জি সেলিম তাদের বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় তিনি তাদের ডাক দিয়ে অশালীন ভাষায় কথা বলতেন, কুপ্রস্তাব দিতেন এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি করতেন বলে তাদের অভিযোগ। তার এসব আচরণে তারা আতঙ্ক ও অস্বস্তির মধ্যে চলাফেরা করতেন। এ কারণে কয়েকজন ছাত্রী মেস ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলেও জানান তারা।
ছাত্রীরা বলেন, এ ধরনের হয়রানির সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সেলিম হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
/টি