
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
কুমিল্লায় আলোচিত স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। অটোরিকশাচালক সুমনই তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।
তিনি জানান, কিশোরী স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন গত ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টায় কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরো তিশা কাউন্টারে নামে। পরে নগরের রেইসকোর্স এলাকায় নিজ ভাড়া বাসায় যাওয়ার জন্য ৩০০ টাকায় অটোরিকশা ভাড়া করেন। পরবর্তীতে সিএনজিতে উঠে টাকা দিয়ে চালক সুমনকে দিয়ে কলা রুটি কেনেন।
পঙ্কজ বড়ুয়া আরো জানান, ওই কিশোরীকে দ্রুত বাসায় পৌঁছে দেওয়ার
এসময় কিশোরী জান্নাতুল তাজমিন জিজ্ঞেস করেন এটা কোন এলাকা। উত্তরে চালক সুমন বলেন, এটা রেসকোর্স না, অন্য এলাকা। এতে ওই কিশোরী ভয় পেয়ে অটোরিকশা থেকে নেমে প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করেন। তখন সুমন তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তার সঙ্গে থাকা গামছা দিয়ে গলা পেচিয়ে ধরে।
এতে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কিশোরী দুর্বল হয়ে পড়ে।
পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, সুমন মিয়া জান্নাতুল তাজমিন ধর্ষণ করে ধান ক্ষেতে নিয়ে মাটিতে উপর করে রেখে তার মাথা তার পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এর পরে ভিকটিমের ব্যবহৃত হ্যান্ড ব্যাগ থেকে আইফোনটি নিয়ে নেয় এবং ব্যাগটি ধান ক্ষেতে ফেলে দেয়। একপর্যায়ে আসামি সুমন মিয়া ঘটনাস্থলে তার সিএনজিটি রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনে এসে পুকুরে গোসল করে এবং একটি ভাড়ায় চালিত সিএনজিতে করে বাখরাবাদ যায়। সেই এলাকায় একটি পুকুর পাড়ের জঙ্গলে স্কুলছাত্রীর আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রাম চলে যায়। শুক্রবার পুলিশ অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে আসামি সুমনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে বাখরাবাদ এলাকার পুকুরের পাড়ের জঙ্গল থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে ৮ অক্টোবর কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রী তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের অন্তত চার থেকে পাঁচটি ধানক্ষেতে এলোমেলো হয়ে আছে ধানগাছ। পাশে পড়ে ছিল একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা। স্থানীয়দের ধারণা, প্রাণ বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা করেছিল জান্নাতুল তাজমিন।
এ ঘটনার পর ওইদিন জান্নাতুল তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
সূত্র: কালের কন্ঠ
টি/