
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
শহুরে ব্যস্ততায় এখন দিনের বড় একটা অংশ কাটে চার দেয়ালের অফিসে। সকালের ডেডলাইন সামলানো থেকে শুরু করে বিকেলের কফি বিরতি—এই দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটাতে গিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে এক অদৃশ্য সেতুবন্ধন। পেশাদার আলাপ ছাপিয়ে কখন যে একে অপরের প্রতি যত্ন বা ভালো লাগা তৈরি হয়, তা অনেকেই শুরুতে টের পান না। এভাবেই বর্তমান সময়ে কর্মক্ষেত্র হয়ে উঠছে সম্পর্কের নতুন ঠিকানা।
সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। ফোর্বস ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশেরও বেশি কর্মজীবী মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সহকর্মীর প্রেমে পড়েছেন। এর মধ্যে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, এই সম্পর্কগুলোর প্রায় ৪৩ শতাংশই শেষ পর্যন্ত বিয়ে বা
তবে অফিসের এই রোমান্স সবসময় সহজ হয় না। সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৫৭ শতাংশ কর্মী মনে করেন অফিসের সম্পর্কের প্রভাব সরাসরি কাজের পারফরম্যান্সে পড়ে। কারো জন্য এটি অনুপ্রেরণা হলেও অনেকের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত টানাপোড়েন কর্মপরিবেশকে অস্বস্তিকর করে তোলে। এছাড়া সহকর্মীদের কানাঘুষা, ঈর্ষা বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের ভয়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ তাদের সম্পর্কের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের কাছে গোপন রাখতে পছন্দ করেন।
পেশাদারিত্বের এই চড়াই-উতরাইয়ের মাঝেও সফল গল্পের অভাব নেই। যেমন শাহরিয়ার নীরব, যিনি তার সহকর্মীকে বিয়ে করে সুখে সংসার করছেন। তার মতে, অফিসের কাজের চাপের মাঝেও প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য ক্লান্তি দূর করে দেয়। অন্যদিকে সাদমিনার মতো অনেকেই আছেন যারা এখনো অব্যক্ত ভালো লাগা নিয়ে প্রতিদিন অফিসে যান, যাদের কাছে দুপুরের লাঞ্চ বা চায়ের আড্ডাই হয়ে ওঠে দিন শেষের পরম প্রাপ্তি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক হওয়াটা মানবিক ও স্বাভাবিক বিষয়। তবে এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পেশাদারিত্ব এবং ব্যক্তিগত সীমারেখার ভারসাম্য। একটি সুন্দর সম্পর্কের কারণে যেন অফিসের সুস্থ পরিবেশ বা অন্য সহকর্মীদের কাজের ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। দিনশেষে অফিসের প্রেম শুধু দুজন মানুষের গল্প নয়, এটি একটি পুরো কর্মপরিবেশের ভারসাম্যের ওপরও প্রভাব ফেলে।
/টিএ