
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে টানা ২৬৬ দিন অভিযানে থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। এর মধ্যে ২০০ দিনেরও বেশি সময় সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান করেছে রণতরিটি। এতে থাকা প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিনের মধ্যে ক্লান্তি, মনোবল কমে যাওয়া এবং মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হাং কাও জানিয়েছেন, পরিকল্পিত পালাবদলের অংশ হিসেবেই শিগগির রণতরিটি দেশে ফিরবে।
দীর্ঘ সময় মোতায়েনের কারণে নাবিকদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাং কাও। তাঁর ভাষ্য, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে টানা দায়িত্ব পালনকে আরও কঠিন করে তুলেছে খাদ্য সরবরাহের সীমাবদ্ধতা, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে বাড়িতে ফোন করার ওপর
এদিকে নাবিকদের পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ ও অনিশ্চিত মোতায়েনের কারণে কয়েকজন নাবিকের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি এবং আত্মহত্যার ঝুঁকি নিয়ে পরিবারগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি সান ডিয়েগোতে এক টাউন হল সভায় নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সামনে ক্ষোভ জানান পরিবারের সদস্যরা। নৌবাহিনী জানিয়েছে, রণতরিটিতে চ্যাপলিন, পরামর্শক, চিকিৎসক ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞসহ মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের অভিযান ছিল ব্যাপক মাত্রার। হাং কাও জানান, মোতায়েনের সময় রণতরিটি ১০ হাজারের বেশি উড্ডয়ন অভিযান পরিচালনা করেছে এবং প্রায় ১৫ লাখ পাউন্ডের গোলাবারুদ নিক্ষেপ করেছে। গত মাসে রণতরিটি থেকে এক নাবিক পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়লেও দ্রুত তাকে উদ্ধার করা হয়। হাং কাও স্বীকার করেন, দীর্ঘ সময়ের যুদ্ধ অভিযান সামরিক সদস্যদের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করে এবং সামরিক নেতৃত্বকে অভিযানের প্রয়োজনের সঙ্গে সেনাসদস্যদের কল্যাণের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়।
বর্তমানে রণতরিটির নাবিকদের বড় একটি অংশ দ্রুত দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টার পাশাপাশি খাদ্য ও পানির সংকট এবং চিঠি বা ডাক যোগাযোগে বিঘ্ন তাদের পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। হাং কাও বলেছেন, নাবিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাই নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাঁর মতে, দেশে ফেরার পর এসব নাবিককে বীরোচিত অভ্যর্থনা জানানো উচিত। তবে নাবিকদের প্রত্যাশা এখন একটাই—দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত বাড়ি ফেরার একটি নির্দিষ্ট তারিখ।
/টি