
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো এবং মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। একাধিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের মূল্য বাড়িয়ে তুলতে এবং ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এ বার্তা দিয়েছে ইরান।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দেওয়ার পরপরই তেহরান কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে। এর অংশ হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করেন। তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে তাদের প্রভাব
এক জ্যেষ্ঠ আঞ্চলিক কূটনীতিকের ভাষ্য, আরাগচি আলোচনায় স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে ইরানও পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক সংঘাত এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন হামলা হলে শুধু তেল স্থাপনা নয়, শোধনাগার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, পানির অবকাঠামো, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং তেলক্ষেত্রও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
এদিকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রেখে সংলাপে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। একই সঙ্গে কাতার, ওমান ও সৌদি আরবও ওয়াশিংটনকে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
রাজকীয় দরবারের ঘনিষ্ঠ সৌদি বিশ্লেষক আলি শিহাবি বলেন, উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনের সম্ভাবনা খুবই কম। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে—একদিকে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলার ঝুঁকি, অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা। তবে আঞ্চলিক দেশগুলো এখনো কূটনৈতিক সমাধানকেই সবচেয়ে কার্যকর পথ হিসেবে বিবেচনা করছে।
/টি