
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
হামদ, নাত, তাকবির, দরুদ শরিফ ও জিকিরে মুখর হয়ে ওঠে চট্টগ্রাম নগরী। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ৫৫তম জশনে জুলুস। গত বছরের মর্মান্তিক পদদলিত হওয়ার ঘটনার পর এবার কঠোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থার মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে আয়োজনটি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা-সংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া থেকে জুলুসের কার্যক্রম শুরু হয়। নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিভিন্ন বয়সী লাখো মানুষ এতে অংশ নেন।
১৯৭৪ সাল থেকে প্রতি বছর ১২ রবিউল আউয়াল আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামে এ জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আয়োজকদের
এবারের জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দেন সৈয়দ মুহাম্মদ সাবের শাহ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ। ভোর থেকেই নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ষোলশহর এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। কেউ হেঁটে, আবার কেউ ট্রাক ও পিকআপে করে জুলুসে অংশ নিতে আসেন। জুলুসের পুরো এলাকায় কোরআন তিলাওয়াত, হামদ, নাত ও দরুদ শরিফের সুরে ধর্মীয় আবহ তৈরি হয়।
জুলুস উপলক্ষে মুরাদপুর থেকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা পর্যন্ত বসে ভাসমান মেলা। বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি, শরবত ও খাবার বিতরণ করা হয়। নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়ক বিভাজক সাজানো হয় তোরণ, পতাকা, ফেস্টুন ও ব্যানারে।
শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনজুমান ট্রাস্টের প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন। মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় স্থাপন করা হয় অস্থায়ী শৌচাগার। নির্ধারিত রুট অনুযায়ী, ষোলশহর থেকে জুলুসটি বিবিরহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগারপাস হয়ে পুনরায় নির্ধারিত পথে ফিরে জুলুস ময়দানে গিয়ে শেষ হয়।
জশনে জুলুসকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও জুলুসের পথে গোয়েন্দা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণেও নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা।
উল্লেখ্য, গত বছরের জশনে জুলুস চলাকালে পদদলিত হয়ে দুজনের মৃত্যু এবং অন্তত ছয়জন আহত হওয়ার ঘটনায় এবার শুরু থেকেই জনসমাগম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এবার অবশ্য বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের মধ্যেও কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জশনে জুলুস সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
এমআর//