
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন জুমাবার উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য অফুরন্ত বরকত ও কল্যাণের দিন। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দিনের মর্যাদা সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন, ‘সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাকে সেখান থেকে বের করা হয়েছে।’ (মুসলিম ৮৫৪) তবে জুমার মর্যাদা কেবল দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর প্রস্তুতি, আগেভাগে মসজিদে গমন এবং খুতবা শোনার প্রতিটি স্তরে রয়েছে বিশেষ ও অফুরন্ত সওয়াব। বর্তমান ব্যস্ততা বা অলসতার কারণে অনেকেই জুমার নামাজে দেরি করে মসজিদে পৌঁছান। অথচ এতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত ও সওয়াব
আল্লাহ তাআলা মুমিনদের জুমার দিনের গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত মসজিদে আসার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন— يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ۚ ذَلِكُمْ لَكُم إنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।’ (সুরা আল-জুমা: আয়াত ৯) এখানে ‘ধাবিত হওয়া’ বলতে শুধু দ্রুত দৌড়ে যাওয়া বোঝানো হয়নি; বরং এর মূল তাৎপর্য হলো আল্লাহর স্মরণের প্রতি গভীর আগ্রহ ও গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া এবং পার্থিব সকল ব্যস্ততা বর্জন করা।
জুমার দিন যত আগে মসজিদে যাওয়া যায়, সওয়াবের সুযোগ ততই বেশি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ ثُمَّ رَاحَ، فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَدَنَةً... ‘জুমার দিন মসজিদের প্রতিটি দরজায় ফেরেশতারা দাঁড়িয়ে থাকে এবং যে আগে আসে তার নাম লিখতে থাকে। যে সবার আগে আসে, তার জন্য যেন একটি উট কুরবানি করার সওয়াব লেখা হয়। এরপর যে আসে, তার জন্য যেন একটি গরু কুরবানি করার সওয়াব লেখা হয়। অতঃপর মেষ কুরবানি করার ন্যায়। এরপর আগমনকারী ব্যক্তি মুরগি দানকারীর ন্যায়। তারপর আগমনকারী ব্যক্তি একটি ডিম দানকারীর ন্যায়। অতঃপর ইমাম যখন খুতবা দিতে বের হন, তখন ফেরেশতারা তাদের খাতা গুটিয়ে ফেলেন এবং খুতবা শুনতে বসেন।’ (বুখারি ৮৮১) এ ছাড়া পায়ে হেঁটে আগেভাগে মসজিদে যাওয়ারও রয়েছে বিশেষ প্রতিদান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— مَنْ غَسَّلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاغْتَسَلَ ثُمَّ بَكَّرَ وَابْتَكَرَ وَمَشَى وَلَمْ يَرْكَبْ... ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, আগেভাগে মসজিদে যায়, হেঁটে যায়, বাহনে চড়ে না, ইমামের কাছাকাছি বসে, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে এবং কোনো অনর্থক কাজে লিপ্ত হয় না, তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছরের রোজা ও রাতের নামাজের সওয়াব লেখা হয়।’ (আবু দাউদ ৩৪৫)
দেরিতে মসজিদে পৌঁছালে প্রথম কাতারের ফজিলত থেকেও বঞ্চিত হতে হয়। প্রথম কাতারের ফজিলত সম্পর্কে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ যদি আজান ও প্রথম কাতারে কী ফজিলত রয়েছে তা জানত, এরপর তা পাওয়ার জন্য লটারির ব্যবস্থা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকত না, তাহলে তারা অবশ্যই লটারি করত।’ (বুখারি ৬১৫) আবার দেরিতে এসে সামনের দিকে যাওয়ার জন্য মুসল্লিদের কাঁধ ডিঙিয়ে যাওয়ার মতো অনুচিত কাজও ঘটতে পারে। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘বসে পড়ো। তুমি কষ্ট দিয়েছ এবং দেরি করে এসেছ।’ (আবু দাউদ ১১১৮) একইভাবে খুতবার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে শোনারও রয়েছে বিশেষ বরকত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ أَتَى الْجُمُعَةَ فَأَنصَتَ وَأَسْمَعَ، غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ وَزِيَادَةُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ ‘যে ব্যক্তি উত্তমভাবে অজু করে জুমায় আসে, খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং নীরব থাকে, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত এবং আরও তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (মুসলিম ৮৫৭)
জুমার দিনে দোয়া কবুলের একটি বিশেষ মুহূর্তও রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— فِيهِ سَاعَةٌ لَا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللَّهَ شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ ‘জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, কোনো মুসলিম বান্দা নামাজরত অবস্থায় সেই সময় আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন।’ (বুখারি ৯৩৫) তবে দেরিতে মসজিদে পৌঁছালে জুমার ফরজ নামাজ বাতিল হয়ে যায়—বিষয়টি এমন নয়। ইমামের সঙ্গে রুকু বা জামাত পেলে জুমা আদায় হয়ে যায়। তবে জুমার দিনের উদ্দেশ্য শুধু দায়সারাভাবে ফরজ নামাজ আদায় করা নয়; বরং প্রস্তুতি নিয়ে আগেভাগে মসজিদে গিয়ে সর্বোচ্চ সওয়াব ও ফজিলত অর্জনের চেষ্টা করা। তাই আলস্য ও অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা ত্যাগ করে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে মসজিদের পথে বের হওয়া এবং জুমার দিনের সুন্নত ও ফজিলতগুলো যথাসম্ভব পূর্ণভাবে পালনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
/টি