
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
অক্সফাম ইন বাংলাদেশ ও মিশন গ্রিন বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ অডিটরিয়ামে “Enabling Technology Transfer Negotiations for a Just Transition: Fair Climate Finance and Future Pathways” শীর্ষক একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় দেশের শীর্ষস্থানীয় জলবায়ু বিজ্ঞানী, পরিবেশ অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক এবং দেশের ৮টি বিভাগ থেকে আগত যুব প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা একটি ন্যায়সঙ্গত জ্বালানি রূপান্তর (জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন) নিশ্চিত করতে জলবায়ু অর্থায়নে ঋণের বোঝা বন্ধ করে অনুদান নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় যুবদের কৌশলগত অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন।
প্রধান বক্তা হিসেবে দেশের প্রথিতযশা জলবায়ু বিজ্ঞানী এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বৈশ্বিক জলবায়ু দায়বদ্ধতা

ইউল্যাব-এর স্কুল অব বিজনেস-এর ডিন অধ্যাপক সারওয়ার উদ্দিন আহমেদ জলবায়ু অর্থায়নের বৈষম্য ও ঋণ-ফাঁদ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “জলবায়ু অর্থায়নকে ঐতিহাসিকভাবে দাতব্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, এটি আমাদের অধিকার। বর্তমানে প্রচলিত আন্তর্জাতিক ঋণগুলো কার্যকর তো হচ্ছেই না, উল্টো তা অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ডলারের ঋণের ফাঁদে ফেলছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণে এর সঠিক ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের সমস্যা আমাদেরই সমাধান করতে হবে। আন্তর্জাতিক ফোরামে জোরালো দরকষাকষির জন্য ক্ষতি ও ক্ষতিপূরণ (Loss and Damage), আইনি দায়বদ্ধতা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের মতো স্তম্ভগুলোর ওপর আমাদের জোর দিতে হবে।”
জলবায়ু কূটনীতি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর আলোকপাত করে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর)-এর ডেপুটি ডিরেক্টর রউফা খানম যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “প্রযুক্তি হস্তান্তর মানে কেবল যন্ত্রপাতির আদান-প্রদান নয়, এটি হলো প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও টেকসই পদ্ধতির ভাগাভাগি। জলবায়ু কূটনীতি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যেখানে সফল হতে হলে আমাদের তরুণদের আন্তর্জাতিক পরিভাষা এবং আইনি কাঠামো সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে হবে। তরুণদের কেবল সামাজিক আন্দোলন করলেই হবে না, বরং নীতিনির্ধারকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে আইপিসিসি (IPCC) রিপোর্টের মতো বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে সরাসরি নীতি-নির্ধারণে প্রবেশ করতে হবে।”
স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার সেশনের গভীর বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন, “মাঠপর্যায়ের পরিবেশগত সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকৃত প্রভাবগুলোকে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরার জন্য আমাদের তরুণদের নিখুঁত ডেটা মডেলিং এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ ব্যবহার করতে হবে।”
এর আগে কর্মশালার শুরুতে অক্সফাম ইন বাংলাদেশ-এর জলবায়ু নীতি বিশেষজ্ঞ এস. এম. সাইফী ইকবাল বৈশ্বিক জলবায়ু নীতি কাঠামো, প্যারিস চুক্তির কার্যকারিতা এবং বাংলাদেশের জাতীয় জলবায়ু কর্মপরিকল্পনার একটি সামষ্টিক চিত্র তুলে ধরেন। কর্মশালার সমাপনী বক্তব্যে অক্সফাম ইন বাংলাদেশ-এর ইনফ্লুয়েন্সিং, কমিউনিকেশনস, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড মিডিয়া (ICAM) প্রধান মো. শরিফুল ইসলাম কর্মশালার মূল শিক্ষণসমূহ সারসংক্ষেপ করেন এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় যুবকদের দাবি আদায়ের একটি রূপরেখা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী যুব প্রতিনিধিদের মাঝে বিশেষ উপহার হিসেবে টবসহ গাছ বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন মিশন গ্রিন বাংলাদেশ (এমজিবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ও অক্সফামের এই প্রজেক্টের লিড ইয়ুথ কনসালটেন্ট আহসান রনিসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও যুব প্রতিনিধিবৃন্দ।