জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি সেমিনারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এ ঘটনায় অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।গুরুতর আহত ছয়জনকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তন, শহীদ মিনার এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল এলাকা।
ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মকবুল হোসেন গনমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার বেলা ১টার পর থেকেই সংঘর্ষে আহতদের হাসপাতালে আনা শুরু হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত অন্তত ৫০

জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ জন তখনও চিকিৎসাধীন ছিলেন। আহতদের বেশির ভাগের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত চার থেকে পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা সাংবাদিকদের জানান, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (৩আগষ্ট) বেলা ১১টার দিকে জকসুর নেতা–কর্মীদের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থী বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
প্ল্যাকার্ডগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত শেষ করা, অস্থায়ী হল নির্মাণ, মেডিকেল সেন্টারে পর্যাপ্ত ল্যাব–সুবিধা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও চিকিৎসক নিয়োগের দাবি তুলে ধরা হয়। এসব দাবি সেমিনারে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান মামুন আহমেদের দৃষ্টিগোচর করার চেষ্টা করেন তাঁরা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে জকসুর নেতাদের বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে জকসুর নেতারা মিলনায়তনের প্রবেশপথের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। ওই সময় সেখানে ইনকিলাব মঞ্চের কয়েকজন সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। অবস্থান কর্মসূচি ও সেমিনার শেষ হওয়ার পর শহীদ মিনারের সামনে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে জকসু ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীদের মধ্যে ফের সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি এবং পরবর্তী অবস্থান কর্মসূচির বিষয়টি তুলে ধরেন।
ঘটনার বিষয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাহিন মিয়া ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর ভাষ্য, সেমিনার শেষে শহীদ মিনারের সামনে পৌঁছানোর পর ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখসহ জকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএস মারধরের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইউজিসির চেয়ারম্যান মামুন আহমেদকে অপমান করার উদ্দেশ্যে ছাত্রশিবির ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তাঁদের সেখান থেকে সরে যেতে বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করা হলেও তাঁরা তা মানেননি। পরে তাঁরা সামনে এগিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছাত্রদলেরও অনেক নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে মঙ্গলবার বেলা ৩টা ও বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসাধীন জকসু ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের দাবি, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন।