
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ইরানের সঙ্গে চলমান অস্থিরতা নিরসনে এবার কোনো সাময়িক সমাধান নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গত ৮ এপ্রিল স্বাক্ষরিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ তিনি আর বাড়াতে আগ্রহী নন। এর বদলে একটি বড় ধরনের সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে দুদেশের মধ্যকার যাবতীয় সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে চায় ওয়াশিংটন।
প্রেসিডেন্টের সুরেই সুর মিলিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র কেবল সীমিত পরিসরের কোনো চুক্তিতে আটকে থাকতে চায় না। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির আঞ্চলিক ভূমিকার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে একটি বিস্তৃত ও শক্ত সমাধান চায় হোয়াইট হাউস। তবে ভান্স
চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই গত ১২ এপ্রিল পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়। আলোচনার টেবিলে কোনো সমঝোতা না আসায় ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর নৌ অবরোধ আরোপ করে। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং সংঘাতের আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে অবশ্য আলোচনায় বসার কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে বিদ্যমান সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ কতটুকু প্রশমিত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং ইরানের পাল্টা কৌশলের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ এখন অত্যন্ত জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যদি বড় কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি না ঘটে, তবে অঞ্চলটি আবারও বড় ধরনের সশস্ত্র সংঘাতের মুখে পড়তে পারে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে, কারণ এই চুক্তির ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা।
/টিএ