মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী ছিল বিশ্বের তিন প্রভাবশালী দেশ—রাশিয়া, চীন ও তুরস্ক। তবে নিজের কূটনৈতিক দূরদর্শিতা এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি এসব দেশকে সংঘাত থেকে দূরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের ভাষায়, এই তিন দেশের নিরপেক্ষ অবস্থান বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য।
বুধবার (২৪ জুন) ওয়াশিংটনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের সময় বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইরান সংকটের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে রাশিয়া, চীন ও তুরস্ক সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। এসব

দেশের সংযত অবস্থান বিশ্বকে একটি বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, এরদোয়ান ইরানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন। কারণ তিনি ইসরায়েলের নীতির সমালোচক হিসেবে পরিচিত। ট্রাম্প জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এরদোয়ানকে সংঘাতে জড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছিলেন এবং তুর্কি নেতা সেই অনুরোধকে সম্মান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এরদোয়ানকে শক্তিশালী ও সামরিক দূরদর্শিতাসম্পন্ন নেতা হিসেবেও অভিহিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
চীন ও রাশিয়ার ভূমিকাও প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চাইলে অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে ইরানের পাশে দাঁড়াতে পারতেন, কারণ চীনের জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। তবে তিনি সংঘাত থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একইভাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সামরিকভাবে এই সংঘাতে অংশ নেননি বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তার মতে, তিন দেশেরই যুদ্ধ থেকে বাইরে থাকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি বিস্ময়কর সাফল্যের উদাহরণ।
/টি