
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, আগাম ধান কাটার পরামর্শ
বঙ্গোপসাগরের বুকে ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করছে একটি নতুন লঘুচাপ, যা আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রূপ নিতে পারে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে। যদিও এই দানবীয় সিস্টেমটির সরাসরি বাংলাদেশে আছড়ে পড়ার ঝুঁকি কিছুটা কম এবং এর মূল লক্ষ্য ভারতের পূর্ব উপকূল, তবুও এর পরোক্ষ থাবায় লণ্ডভণ্ড হতে পারে দেশের কৃষি খাত। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বিডব্লিউওটি-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে এক অভূতপূর্ব শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় সক্রিয় হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাগুলো এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ধান চাষি ও সাধারণ মানুষ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।
আকাশের মুখ ভার হওয়ার আগেই মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে এক অন্যরকম যুদ্ধ। আবহাওয়া অফিসের কড়া হুঁশিয়ারি—আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে মাঠের অন্তত ৮০ শতাংশ পাকা ধান কেটে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে হবে। কারণ, আর মাত্র কয়েকটা দিনের দেরি মানেই বুকভাঙা কান্না। ভারী বৃষ্টিতে পাকা ধান তলিয়ে গেলে তা পচে যাওয়া, জমিতেই বীজ গজানো কিংবা ধান গাছ মাটিতে হেলে পড়ে সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির বড় প্রভাব পড়তে পারে খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় জেলাগুলোতে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় মোংলা, পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের জেলেদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব কৃষক শীতকালীন নতুন সবজি চাষ বা বীজতলা তৈরির কথা ভাবছেন, তাদেরকে বৃষ্টি কেটে না যাওয়া পর্যন্ত কিছুদিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রকৃতির এই আসন্ন তাণ্ডবের সামনে মানুষের প্রস্তুতি কতটা টিকবে, তা সময়ই বলবে। তবে বুক ভরা আশা আর কপালে চিন্তার ভাঁজ নিয়ে বাংলার কৃষকেরা এখন লড়ছেন সময়ের বিরুদ্ধে। প্রকৃতির রুদ্ররূপের কাছে হেরে না গিয়ে, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপই এখন কোটি কৃষকের একমাত্র সম্বল।