
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনে চিকিৎসা ও খাদ্য সংকটে যখন প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিচ্ছে শত শত মানুষ, ঠিক তখনই মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশভিত্তিক সরকার-নিবন্ধিত সংস্থা হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ।
গত ১ আগস্ট থেকে ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডের চারটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা, খাদ্য ও পানির সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি। এর আগে, ৩১ জুলাই ফিলিস্তিন সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত একটি অনুমতিপত্র দিয়ে সংস্থাটিকে সেখানে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়।
সহায়তা প্রদানকারী হাসপাতালগুলো হলো—
পশ্চিম গাজার মুজাম্মাউশ শিফা আত-তিব্বি (শারে আল-ওয়াহদাহ)
উত্তর গাজার
মধ্য গাজার আল-আকসা হাসপাতাল (ডেয়ার আল-বালাহ)
দক্ষিণ গাজার ইউরোপিয়ান গাজা হাসপাতাল (খান ইউনুস)
এই কার্যক্রমের আওতায় হাফেজ্জী চ্যারিটেবলের স্বেচ্ছাসেবকরা যুদ্ধবিধ্বস্ত হাসপাতালের বারান্দা থেকে শুরু করে আশ্রয় শিবির পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছেন ওষুধ, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা।
এছাড়া রাফাহ সীমান্ত হয়ে গাজায় প্রবেশ করা তিন শতাধিক শিশুর জন্য একটি স্কুল পরিচালনার উদ্যোগও গ্রহণ করেছে সংস্থাটি। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুরা ‘বাংলাদেশ’ নামটি উচ্চারণ করছে কৃতজ্ঞতা ও আশার প্রতীক হিসেবে।
সংস্থার সহ-সভাপতি মাওলানা মুহসিন বিন মুঈন জানান, হাফেজ্জী চ্যারিটেবলের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ব্যবস্থার আওতায় মিশরে গিয়ে ফিলিস্তিনি দায়িত্বপ্রাপ্তদের হাতে নগদ অর্থ হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে এই অর্থ ব্যাংক অব ফিলিস্তিন-এর মাধ্যমে গাজায় পৌঁছে দেওয়া হয়। কোনো সময় প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকলে, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিশ্বস্ত ছাত্রদের মাধ্যমেও এই সহায়তা পৌঁছানো হয়।
সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইবরাহিম মিয়া বলেন,
“মানবতার পক্ষে দাঁড়ানো কোনো অপরাধ নয়। যুদ্ধ থামাতে পারেনি আমাদের মনুষ্যত্ববোধ। আমরা পাশে দাঁড়িয়েছি সেই নিষ্পাপ শিশুদের, যাদের শৈশব কেঁদে মুছে গেছে ধ্বংসস্তূপে। ইতিহাসই প্রমাণ রাখবে—মানবিকতার পক্ষে সাহসিকতাই শ্রেষ্ঠ।”
ফিলিস্তিনে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সহানুভূতি এবং একান্ত মানবিক দায়িত্ব পালনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এম আর/ এটিএন বাংলা