
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণ করবে মজুরি বোর্ড। নতুন বেতনকাঠামো ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার বিষয়ে সব পক্ষ একমত হয়েছে। ফলে নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন হলে জানুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গে বাড়তি টাকা পাবেন শ্রমিকরা। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী এসব তথ্য জানান।
এর আগে গত ১ নভেম্বর তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে ছয় সদস্যের নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। প্রথমে বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছিল শেখ আশফাকুর রহমানকে। তবে বুধবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) পদে বদলি করা হয়। একই আদেশে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে আগের চেয়ারম্যানকে সরানোর কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পরও পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন থামেনি। ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে বুধবারও সাভারের উলাইল ও হেমায়েতপুরে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন। সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন গণমাধ্যমকর্মীও শ্রমিকদের হামলার শিকার হয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকালে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়ে হাজিরা দেওয়ার পর বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে গত শনিবার আশুলিয়ার কাঠগড়া, আমতলা ও নয়াপাড়া এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষের সূত্রপাত হয়। পরে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মিরপুরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষে পুলিশ ও শ্রমিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন এবং সাতজনকে আটক করে শিল্প পুলিশ।
শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে পোশাক কারখানা বন্ধের সংখ্যাও বাড়ছে। গত সোমবার পর্যন্ত শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে ৭০০টি কারখানা বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার নতুন করে আরও ৬২টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একদিকে নতুন মজুরি নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, অন্যদিকে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বেতনকাঠামো চূড়ান্ত ও ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে জানুয়ারির বেতনের সঙ্গে বাড়তি অর্থ পাবেন পোশাকশ্রমিকরা।
টি/