আজ আবারও বায়ুদূষণে শীর্ষে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকা। টানা কয়েক দিন অপেক্ষাকৃত সহনীয় থাকার পর রাজধানীর বায়ুমানে ফের অবনতি ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ-এয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুমান ছিল ১৮৬, যা বিশ্বের শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ।
গত কয়েক দিনের তুলনায় আজকের অবস্থান অনেক খারাপ। গতকাল বুধবার AQI ছিল ১২৯ এবং শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল ১০ নম্বরে। তার আগের দিন মঙ্গলবার ঢাকার AQI ছিল ১১৫ এবং অবস্থান ছিল ২০তম।
আজকের তালিকায় ঢাকার পর বায়ুদূষণে শীর্ষে রয়েছে সেনেগালের ডাকার (১৭৪), নেপালের কাঠমান্ডু (১৭০), ভিয়েতনামের হ্যানয় (১৫৭) ও চীনের বেইজিং (১৫৩)।
আইকিউ-এয়ার জানায়, ঢাকার বায়ুদূষণের মূল কারণ

হলো বাতাসে অতিক্ষুদ্র ধূলিকণা বা পার্টিকুলেট ম্যাটার। এই ধরনের দূষণ শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতা, হৃদ্রোগ এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
বায়ুর মান নির্ধারণে আন্তর্জাতিক সূচক অনুযায়ী, একিউআই স্কোর ৫০-এর নিচে থাকলে তা বিশুদ্ধ, ৫১-১০০ সহনীয়, ১০১-১৫০ সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিকর, ১৫১-২০০ সকলের জন্য অস্বাস্থ্যকর, ২০১-৩০০ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০০’র বেশি হলে পরিবেশকে বিপজ্জনক হিসেবে ধরা হয়।
ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের ২০২৩ সালের একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে, শুধু জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উৎপন্ন বায়ুদূষণের কারণেই প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে ৫২ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, গৃহস্থালি ও বাইরের বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাবে প্রতিবছর প্রায় ৬৭ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে।
এই পরিস্থিতিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় নাগরিকদের বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া দূষণ কমাতে কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে—যেমন, ইটভাটা ও কারখানাগুলোর বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ রাখা, নির্মাণস্থলে ছাউনি ও ঘের দেওয়া, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, পরিবহন চলাচলের সময় ঢেকে নেওয়া, আশপাশে নিয়মিত পানি ছিটানো এবং ধোঁয়া সৃষ্টিকারী পুরোনো যানবাহন রাস্তায় না নামানো।