
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
চিরুনি হাতে নিলেই একগুচ্ছ চুল উঠে আসা, বালিশ বা গোসলের সময় বেশি চুল পড়ে থাকা—এমন ঘটনায় অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। চুল পড়া বন্ধ করতে তখন কেউ তেল, কেউ শ্যাম্পু আবার কেউ চুল গজানোর ওষুধের সন্ধান করেন। তবে সব সময় বড় কোনো রোগ বা বংশগত কারণেই চুল পড়ে না। দৈনন্দিন চুলের যত্নে কিছু সাধারণ ভুলও চুল দুর্বল ও ভঙ্গুর করে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব শক্ত করে চুল বাঁধা, অতিরিক্ত তাপ ব্যবহার, ভেজা চুলে জোরে আঁচড়ানো এবং তোয়ালে দিয়ে ঘষে চুল শুকানোর অভ্যাস চুলের ক্ষতি করতে পারে। নিয়মিত টান পড়লে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে সামনের অংশ পাতলা হতে পারে। একইভাবে হেয়ার ড্রায়ার,
বারবার চুলে রং করা, সোজা বা কোঁকড়া করার মতো রাসায়নিক প্রক্রিয়াও চুলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত চিরুনি ব্যবহার কিংবা শক্তভাবে চুল ধরে রাখে এমন প্রসাধনী ব্যবহারের কারণেও চুল ভেঙে যেতে পারে। বিশেষ করে ভেজা চুল তুলনামূলক দুর্বল থাকায় এ সময় জোরে আঁচড়ানো এড়িয়ে চলা উচিত। প্রয়োজনে চওড়া দাঁতের চিরুনি দিয়ে ধীরে ধীরে জট ছাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
চুলের স্বাস্থ্যের সঙ্গে খাবারেরও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। খাদ্যতালিকায় লৌহ, প্রোটিন, দস্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি হলে চুল পড়া বাড়তে পারে। আবার খুব কম ক্যালরি গ্রহণ বা দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টাতেও চুল পড়তে দেখা যায়। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, কিছু অসুস্থতা, হরমোনের পরিবর্তন ও ধূমপানও চুল পড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই মাছ, ডিম, ডাল, দুধ ও দুধজাত খাবার, শাকসবজি, ফল, বাদাম ও বীজসহ বৈচিত্র্যময় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি।
তবে প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া সাধারণত স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হয়। সমস্যা দেখা দিতে পারে যখন হঠাৎ চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে যায়, মাথার কোনো অংশ পাতলা বা ফাঁকা হয়ে যায় কিংবা চুল পড়া কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়তে থাকে। মাথার ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব, ব্যথা বা ক্ষতের সঙ্গে চুল পড়লে কিংবা গোলাকার ফাঁকা জায়গা তৈরি হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চুল পড়া কমাতে তাই শুধু দামি প্রসাধনীর ওপর নির্ভর না করে দৈনন্দিন অভ্যাস, পুষ্টিকর খাবার এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শের দিকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
সূত্র: সামা নিউজ
/টি