
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
গিটারের তারে আজও অনুরণিত হয় তাঁর সুর, গানে গানে ফিরে আসে চেনা সেই কণ্ঠ। সময়ের নিয়মে আট বছর আগে থেমে গেছে তাঁর জীবন, কিন্তু থামেনি সংগীতের পথচলা। বাংলা ব্যান্ডসংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৮ অক্টোবর। ২০১৮ সালের এই দিনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। তবে অসংখ্য কালজয়ী গান ও গিটারের অনন্য জাদুতে আজও সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে বেঁচে আছেন এই রক কিংবদন্তি।
চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া আইয়ুব বাচ্চুর সংগীতের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয় ছোটবেলা থেকেই। কিশোর বয়সে বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তোলেন ‘গোল্ডেন বয়েজ’ নামের একটি ব্যান্ড, যা পরে ‘আগলি বয়েজ’ নামে পরিচিতি পায়। এই ব্যান্ডে গিটার বাজাতেন তিনি, আর কণ্ঠশিল্পী ছিলেন কুমার বিশ্বজিৎ। পরবর্তী সময়ে ‘সোলস’ ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সংগীতজগতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন আইয়ুব বাচ্চু। এরপর ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘লাভ রান্স ব্লাইন্ড’ বা ‘এলআরবি’। এই ব্যান্ডের মাধ্যমে বাংলা রকসংগীতে তৈরি করেন স্বতন্ত্র ধারা। গায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি গিটারবাদক হিসেবেও অর্জন করেন বিশেষ খ্যাতি।
দীর্ঘ সংগীতজীবনে আইয়ুব বাচ্চু উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান ও অ্যালবাম। তাঁর একক অ্যালবামের মধ্যে রয়েছে ‘রক্ত গোলাপ’, ‘ময়না’, ‘কষ্ট’, ‘সময়’, ‘প্রেম তুমি কী’, ‘পথের গান’, ‘জীবন’ ও ‘জীবনের গল্প’। অন্যদিকে, এলআরবির সঙ্গে তাঁর উল্লেখযোগ্য অ্যালবামগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সুখ’, ‘তবুও’, ‘ঘুমন্ত শহরে’, ‘স্বপ্ন’, ‘আমাদের বিস্ময়’, ‘অচেনা জীবন’ ও ‘স্পর্শ’। ‘সেই তুমি’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘মেয়ে’, ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’ এবং ‘এক আকাশের তারা’র মতো গান আজও শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে। প্রেম, বিরহ, একাকিত্ব ও জীবনের নানা অনুভূতি তাঁর গানে গভীরভাবে ফুটে উঠেছে।
কণ্ঠের পাশাপাশি গিটার বাজানোর অসাধারণ দক্ষতা দিয়েও বাংলা ব্যান্ডসংগীতকে সমৃদ্ধ করেছেন আইয়ুব বাচ্চু। রক ও ব্লুজ সংগীতে তাঁর পারদর্শিতা, দীর্ঘ গিটার সোলো এবং মঞ্চে প্রাণবন্ত পরিবেশনা তাঁকে আলাদা পরিচিতি দেয়। গিটার হাতে মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি ছিল দর্শক-শ্রোতাদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। মৃত্যুর আট বছর পরও রেডিও, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংগীত আয়োজনে নিয়মিত বাজে তাঁর গান। নতুন প্রজন্মের শ্রোতারাও তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে আবিষ্কার করছে বাংলা রকসংগীতের সমৃদ্ধ ইতিহাস। সময় বদলালেও তাঁর গানের আবেদন ও জনপ্রিয়তা রয়ে গেছে অটুট।
রুপালি গিটার হাতে সেই মানুষটি আর কখনো মঞ্চে ফিরবেন না, নতুন কোনো গান নিয়ে মাতাবেন না শ্রোতাদের। তবু তাঁর সুর থেমে নেই, থেমে নেই গিটারের অনুরণন। কখনো পুরোনো দিনের স্মৃতি, কখনো মনের গোপন কষ্ট, আবার কখনো নতুন করে বাঁচার প্রেরণা হয়ে ফিরে আসে তাঁর গান। বাংলা ব্যান্ডসংগীতের বিকাশে অসামান্য অবদান রাখা আইয়ুব বাচ্চু তাঁর সৃষ্টি ও সংগীতপ্রেমীদের ভালোবাসায় আজও স্মরণীয়। শারীরিকভাবে বিদায় নিলেও সংগীতের ভুবনে তিনি চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন।
টি/