
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
চীনা পন্যের আমদানী বাড়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে দেশটির বানিজ্য ঘাটতি দৈনিক ১০০ কোটি ইউরো ছাড়িয়েছে। এতে দুই পক্ষের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে উদ্বেক দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি চীনের বানিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাওর সঙ্গে বৈঠক করতে চীন সফরে যান ইইউর বানিজ্য বিষয়ক কমিশনার মারোস সেফকোভিচ। গত তিন মাস ধরে চলা দ্বিপাক্ষীয় আলোচনার অংশ হিসেবে এ সফর করেন তিনি। বানিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বিরল খনিজ রপ্তানিতে চীনের বিধিনিষেধ নিয়ে আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চীনের পন্য ইউরোপের বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারলেও চীনে ইউরোপীয় কম্পানিগুলোর ব্যবসা পরিচালনায় নানা বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া চীনের উপর ইউরোপের নির্ভরতা বাড়ায় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ
বৈদ্যুতিক গাড়ি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উন্নত প্রযুক্তি তৈরীতে ব্যবহৃত বিরল খনিজ রপ্তানিতে চীনের বিধিনিষেধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এসব খনিজের বিকল্প উৎস খুঁজছে ইউরোপীয় দেশগুলো। তবে চীনের উপর নির্ভরতা দ্রুত কমানো কঠিন।
বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রানালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য দূর করতে উন্মুক্ত সহযোগিতা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে সংলাপ জরুরি। তিনি বলেন, দুই পক্ষের উচিৎ আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক উদ্বেগগুলো নিশ্চিহ্ন করা এবং যেীথভাবে গ্রহনযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করা। চীন আশা করে , ইউরোপীয় ইউনিয়নও বিরোধ নিরসনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে। বেইজিংয়ের মতে, স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ও বানিজ্যিক সম্পর্ক বঝায় রাখা উভয় পক্ষের স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ন।
এদিকে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বানিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি বৃহত্তর কুটনৈতিক যোগাযোগও গুরুত্ব পাচ্ছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কুটনৈতিক উপদেষ্টা ইমানুয়েল বোন ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর চীন সফর করবেন। সফরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে কেীশলগত যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হবে। বিশ্ব অর্থনীতি, সর্বরাহব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের মতো বিষয়গুলো চীন-ইউরোপ সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে। এ পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে ফ্রান্সের এই আলোচনা বৃহত্তর কুটনৈতিক সমঝোতার সুযোগ তৈরী করতে পারে।
চীন ও ইইউর মধ্যে বর্তমান বিরোধের কেস্দ্রে রয়েছে বানিজ্য ঘাটতি, বাজারে প্রবেশের অসম সুযোগ এবং বিরল খনিজের সম্পর্ক। ইউরোপীয় দেশগুলোর অভিযোগ, চীনা পন্য ইউরোপীয় বাজারে ব্যাপকভাবে প্রবেশ করলেও চীনের বাজারে ইউরোপের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়। অন্যদিকে, বৈদ্যুতিক গাড়ি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উন্নত প্রযুক্তির শিল্পে ব্যবহৃত বিরল খনিজের সর্বরাহে চীনের উপর ইউরোপের নির্ভরতা রয়েছে। ফলে এসব খনিজ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি ইউরোপের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারন হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বানিজ্য ঘাটতি কমানো, উভয় পক্ষের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো এবং বিরল খনিজের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিৎ করার বিষয়ে সমঝোতা হলে চীন ও ইইউর অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থিতিশীল হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষকেই নিজেদের স্বার্থের পাশাপাশি অপর পক্ষের উদ্বেগের বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিতে হবে। ইউরোপ যেসন চীনের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে চায়, তেমনি চীনও ইউরোপের গুরুত্বপূর্ন বাজারে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে আগ্রহী।
আলোচনা ব্যর্থ হলে ইউরোপ চীনা পন্যের উপর আরও বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। পাশাপাশি বিকল্প দেশ থেকে বিরল খনিজ সংগ্রহ এবং নিজস্ব সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগও জোরদার হতে পারে। এতে দুই পক্ষের বানিজ্যিক সম্পর্কে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিতে পারে। তাই বর্তমান আলোচনার ফলাফল শুধু বানিজ্য ঘাটতি কমানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ভবিষ্যতে চীন ও ইউরোপের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও কেীশলগত সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, তা নির্ধারনেও গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে পারে।