
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করাই নির্বাচন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। তবে নির্বাচন চলাকালে কোনো অনিয়ম, সহিংসতা বা স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র কিংবা পুরো আসনের ভোট বাতিল বা স্থগিত করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে।
নির্বাচন আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের সময় সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই বা স্বচ্ছতা নষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে কমিশন ভোট বাতিল করে পুনরায় ভোটের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। জাতীয় বা স্থানীয় যেকোনো নির্বাচনে একটি কেন্দ্রের ভোট বাতিল হওয়া
আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রিসাইডিং অফিসার তাৎক্ষণিকভাবে ভোট স্থগিত করতে পারেন। বিশেষ করে ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষ, ককটেল বা বোমা বিস্ফোরণ, গুলিবর্ষণ কিংবা গুরুতর বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে ভোটগ্রহণ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। পরবর্তী তদন্ত ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
ভোটের সরঞ্জাম নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়া, বুথ দখল করে জালভোট প্রদান, একজনের একাধিকবার ভোট দেওয়া কিংবা সংঘবদ্ধ কারচুপির মতো ঘটনা ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার’ নির্বাচনের পরিপন্থি। একইভাবে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো, কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি, হুমকি দেওয়া বা জোরপূর্বক ভোটের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করাও ভোট বাতিলের কারণ হতে পারে। এসব ঘটনা ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে।
এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তাদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ, নিয়ম লঙ্ঘন বা ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট বাতিল করা হয়। প্রযুক্তিগত সমস্যাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যালট পেপার ভুল ছাপা, সিল বা অন্যান্য সরঞ্জামের ত্রুটি, ইভিএম বিকল হওয়া কিংবা ডেটা গরমিলের কারণে অতীতেও ভোট স্থগিত বা বাতিলের নজির রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সিসিটিভি নজরদারি, পর্যবেক্ষক নিয়োগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইসি কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, সহিংসতা বা এমন কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যেখানে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ সম্ভব নয়, সেখানে ভোটের পবিত্রতা রক্ষায় কমিশন ভোট বন্ধ বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। কমিশনের লক্ষ্য, যেকোনো মূল্যে একটি স্বচ্ছ, নিরবচ্ছিন্ন ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করা।
/টিএ