
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে এলো পবিত্র মাহে রমজান। এই মাস মুমিনের জীবনে এনে দেয় আত্মশুদ্ধির সুবর্ণ সুযোগ। সারাদিন রোজা রেখে আর রাতভর ইবাদতে মগ্ন থেকে একজন বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন। কিন্তু রমজান শুরু হতেই অনেকের মনে একটি প্রশ্ন জাগে—তারাবির নামাজ না পড়লে রোজা পালন হবে কিনা?
শরিয়তের দৃষ্টিতে রোজা এবং তারাবি দুটি পৃথক ইবাদত। রোজা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি এবং এটি প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মুসলমানের ওপর ফরজ। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও সকল ভঙ্গকারী কাজ থেকে বিরত থাকাই রোজার মূল শর্ত। পক্ষান্তরে, তারাবির নামাজ হলো সুন্নতে মুয়াক্কাদা—রাসুলুল্লাহ ﷺ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যা আদায় করেছেন এবং সাহাবায়ে
তবে রোজা ও তারাবির মধ্যে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক সম্পর্ক। ‘তারাবি’ শব্দের অর্থ বিশ্রাম বা প্রশান্তি। সারাদিনের সিয়াম সাধনার পর রাতের এই দীর্ঘ কিয়াম রোজাদারের অন্তরে আনে এক অনন্য প্রশান্তি। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ তাআলা রমজানের রোজাকে ফরজ করেছেন আর রাসুল ﷺ রাতের ইবাদতকে সুন্নাত করেছেন। অর্থাৎ রোজা আত্মসংযমের শিক্ষা দেয়, আর তারাবি সেই সংযমকে ইবাদতের সৌন্দর্যে পূর্ণতা দেয়।
এ কারণে তারাবি শর্ত না হলেও তা অবহেলা করার বিষয় নয়। ফুকাহায়ে কেরামের মতে, বিনা কারণে তারাবি ছেড়ে দেওয়া অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এটি রমজানের একটি বিশেষ শিআর বা প্রতীক। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সারাদিন ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করেন, তার জন্য রাতের কিছু সময় ইবাদতে ব্যয় করা খুবই স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত। অলসতা করে তারাবি বর্জন করা তাকওয়ার ঘাটতির পরিচায়ক হতে পারে।
হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে দাঁড়িয়ে ইবাদত করে, তার অতীতের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। তাই বলা যায়, তারাবি না পড়লেও রোজা হয়ে যাবে; কিন্তু রমজানের পূর্ণ বরকত, রহমত ও মাগফেরাত লাভ করতে চাইলে তারাবির গুরুত্ব অপরিসীম। অসুস্থতা বা সফরের মতো ওজর থাকলে আল্লাহ অবশ্যই বান্দার নিয়ত অনুযায়ী সওয়াব দান করেন। তবে সুস্থ ও সামর্থ্যবান হয়েও যদি আমরা এই মহান ইবাদত থেকে দূরে থাকি, তাহলে রমজানের অমূল্য সম্পদ থেকেই আমরা নিজেদের বঞ্চিত করব।
/টিএ