
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
অ্যাজমায় আক্রান্ত অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, কিছু খাবার কি শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার অ্যাজমার সরাসরি কারণ নয়। তবে নির্দিষ্ট কিছু খাবার সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে উপসর্গ বাড়াতে পারে, আবার স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ফুসফুসের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। তাই কোন খাবার উপকারী এবং কোনটি এড়িয়ে চলা উচিত, সে বিষয়ে সচেতনতা অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অ্যাজমা একটি দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসনালীর রোগ, যেখানে শ্বাসনালীতে প্রদাহ ও সংকোচনের কারণে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। চিকিৎসকদের মতে, যাদের সালফাইটে সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের শুকনো ফল, ওয়াইন ও কিছু প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া হট ডগ, সসেজ, হ্যাম, পেপারোনি ও টিনজাত মাংসের
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজের অ্যাজমার ট্রিগারগুলো শনাক্ত করতে পারলে রোগ নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ হয়। দুধ, ডিম, চিনাবাদাম, শেলফিশ বা অন্য কোনো খাবারে অ্যালার্জি থাকলে সেগুলো থেকে দূরে থাকা উচিত। একই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে অ্যাজমার উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে।
খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব নিয়ে ২০২০ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, উদ্ভিদভিত্তিক স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শরীরের প্রদাহ ও জারণজনিত চাপ কমাতে এবং অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফল ও শাকসবজি খাওয়া, প্রাণিজ খাবার তুলনামূলক কম গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুসফুসের সুস্থতার জন্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজি, যেমন বেরি, কমলা, পালং শাক, ব্রোকলি ও গাজর নিয়মিত খাওয়া উপকারী। পাশাপাশি ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ স্যামন, সার্ডিন, আখরোট ও ফ্ল্যাক্স সিড, ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার, পূর্ণ শস্য, ডাল এবং ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ বিভিন্ন শাকসবজি ও কুমড়ার বীজও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে চিকিৎসকরা জোর দিয়ে বলছেন, খাদ্যাভ্যাস কখনোই অ্যাজমার চিকিৎসার বিকল্প নয়; নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই রোগ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
/টি