উন্নত জীবন যাপনের আশায় প্রতিবছর প্রবাস জীবন বেছে নেন বহু মানুষ। স্বপ্ন দেখেন, উন্নত এসব দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ভালো আয় করে পরিবারকে সুখে রাখার। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সেখানে গিয়েই স্বপ্ন ভঙ্গ হয় বহু প্রবাসীর। বিদেশে গিয়ে শুধু সামাজিক নয়, বরং অর্থনৈতিক বৈষম্যেও পড়তে হয় অভিবাসীদের, বিশেষ করে আয় সংক্রান্ত ক্ষেত্রে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার-এ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদন থেকে উঠে এসেছে এই বাস্তবতা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানিতে অভিবাসীরা স্থানীয় জার্মানদের তুলনায় গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ কম বেতন পান। শুধু প্রথম প্রজন্ম নয়, দ্বিতীয় প্রজন্মের অভিবাসীরাও আয়ের ক্ষেত্রে এমন বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। গবেষণায় জার্মানি ছাড়াও কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফ্রান্স,

স্পেন ও নেদারল্যান্ডসসহ আটটি পশ্চিমা দেশের অভিবাসী জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অবস্থা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
সব দেশেই কমবেশি আয়বৈষম্য রয়েছে। তবে সুইডেন ও কানাডা কিছুটা সফল হয়েছে এই ব্যবধান কমাতে। বিশেষত, দ্বিতীয় প্রজন্মের মধ্যে এ বৈষম্য প্রায় নেই বললেই চলে। তবে জার্মানিতে দ্বিতীয় প্রজন্মের অভিবাসীদের আয়বৈষম্য এখনো গড়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, যা আন্তর্জাতিক গড়ের চেয়েও বেশি। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত অভিবাসীরা এমনকি তাদের উত্তরসূরিরাও এখনো অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি আয়ের বৈষম্য দেখা গেছে স্পেনে যা গড়ে ২৯.৩ শতাংশ। এরপর রয়েছে কানাডা, নরওয়ে , জার্মানি এবং ফ্রান্স। তবে অভিবাসীদের অর্থনৈতিক সমতা নিশ্চিত করতে হলে শুধু চাকরির সুযোগ নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি বৈষম্য হ্রাস এবং পরিকল্পিত নীতিমালা। বিশেষ করে দ্বিতীয় প্রজন্মের শিক্ষার মান উন্নয়ন, ভাষা শেখার সুযোগ এবং শ্রমবাজারে প্রবেশের বাধা দূর করার দিকে জোর দিতে হবে বলে মনে করেন গবেষকরা।
এমি/এটিএন বাংলা