
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের জোরালো ইঙ্গিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ইরান ঘোষণা করেছে যে, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সকল বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তেহরানের এই নাটকীয় ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পায়, যা সাম্প্রতিক সময়ে তেলের বাজারে অন্যতম বড় পতন।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ খুলে দেওয়ার খবরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২.৮৭ ডলার বা প্রায় ১২.৯৫ শতাংশ কমে ৮৬.৫২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১৩.৫০ ডলার বা ১৪.২৬ শতাংশ কমে ৮১.১৯ ডলারে নেমে আসে। উভয় সূচকই গত ১০ মার্চের
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, লেবাননকে কেন্দ্র করে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবেই এই প্রণালি উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্ব তেলের বাণিজ্যের এই প্রধান রুটটি সচল হওয়ায় বাজারে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ফিরেছে। ইউবিএস-এর বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো মন্তব্য করেছেন, যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হলে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে, তবে প্রণালি দিয়ে ট্যাংকার চলাচলের প্রকৃত হারই বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে।
এদিকে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান ভবিষ্যতে আর কখনো এই প্রণালি বন্ধ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সীমাবদ্ধতার প্রস্তাব দিয়েছে। এর পাশাপাশি লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়তি আশাবাদ তৈরি করেছে।
তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, প্রণালি খুলে দেওয়া একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও ইউরোপীয় বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল পৌঁছাতে সাধারণত তিন সপ্তাহ সময় লাগে এবং ইরানের ওপর বিদ্যমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এক ধরনের অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। চূড়ান্ত রাজনৈতিক সমাধান না আসা পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি যেকোনো সময় মোড় নিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
/টিএ