
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
বর্তমানের কর্মব্যস্ত জীবনে দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা কিংবা ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর ফলে ঘাড় ব্যথার সমস্যায় ভুগছেন না এমন মানুষ মেলা ভার। সাধারণ এই সমস্যাটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বড় কোনো রোগ নয় বরং জীবনযাত্রার ত্রুটির কারণেই হয়ে থাকে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এই ব্যথা স্থায়ী হলে এবং এর সঙ্গে মাথাব্যথা, বমি ভাব বা জ্বর দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কিন্তু সাধারণ টান লাগা বা পেশির ব্যথায় সাথে সাথে আতঙ্কিত না হয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে সমাধান খোঁজা বুদ্ধিমানের কাজ।
আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে ঘাড় ব্যথার অব্যর্থ ঔষধ হিসেবে আদার বিশেষ সুখ্যাতি রয়েছে। আদার প্রদাহ-বিরোধী উপাদান ব্যথার স্থানে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দ্রুত আরাম প্রদান করে। কুচানো
রান্নাঘরের আরেকটি জাদুকরী উপাদান হলো হলুদ। এর শক্তিশালী প্রদাহ-বিরোধী গুণাবলী গাঁটের ব্যথা এবং ফোলাভাব কমাতে বেশ কার্যকর। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকদের মতে, এক গ্লাস গরম দুধে এক চা চামচ হলুদ মিশিয়ে খেলে মাংসপেশির জড়তা দূর হয়। তাৎক্ষণিক আরাম পেতে হলুদ ও পানির ঘন মিশ্রণ তৈরি করে ব্যথার জায়গায় প্রলেপ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, যা দ্রুত ব্যথা উপশমে সাহায্য করে।
প্রাকৃতিক উপশমকারী হিসেবে অ্যাপেল সিডার ভিনেগারও বেশ জনপ্রিয়। এতে থাকা এসিটিক অ্যাসিড পেশির প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। একটি তুলোর প্যাড অ্যাপেল সিডার ভিনেগারে ভিজিয়ে ঘাড়ের আক্রান্ত স্থানে কিছুক্ষণ চেপে ধরে রাখলে ব্যথা কমে আসে। এছাড়া শরীরের অভ্যন্তরীণ নিরাময় প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এক গ্লাস পানিতে এক টেবিল চামচ ভিনেগার মিশিয়ে পান করাও বেশ কার্যকর।
ঘাড়ের ব্যথা থেকে বাঁচতে ঘরোয়া প্রতিকারের পাশাপাশি দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম, শোয়ার সময় সঠিক উচ্চতার বালিশ ব্যবহার এবং দীর্ঘক্ষণ নিচু হয়ে ফোন ব্যবহার না করার অভ্যাস করলে এ সমস্যা থেকে দীর্ঘমেয়াদী মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে ঘরোয়া উপায়ে দুই দিনের মধ্যে অবস্থার উন্নতি না হলে সেটিকে অবহেলা না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
/টিএ