
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস বৈঠকের পর কোনো পক্ষই সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে কোনো চুক্তি ছাড়াই ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এই ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে দুই দেশের বৈরী সম্পর্ক এক নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন মাত্র তিনটি পথ খোলা আছে। প্রথমত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি দরকষাকষি চালিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, স্থগিত হওয়া যুদ্ধ পুনরায় শুরু করা—যা ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। আর তৃতীয় পথটি হলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির
আলোচনা শেষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের 'রেডলাইন' বা চূড়ান্ত সীমার বিষয়ে অনড় ছিল। তিনি বলেন, "আমরা স্পষ্ট করেছি কোন কোন জায়গায় আমরা ছাড় দেব, কিন্তু ইরান আমাদের শর্ত মানতে রাজি হয়নি।" অন্যদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফ্লোরিডা থেকে ঘোষণা দেবেন। তবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মতে, ইরানের উচিত ছিল সহজভাবে আত্মসমর্পণ করা, যা তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই সংকটের মূলে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ। ইরান এনপিটি (NPT) চুক্তির দোহাই দিয়ে নিজেদের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে অধিকার হিসেবে দাবি করছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই সুযোগ বজায় রেখে ইরান আসলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খোলা রাখতে চায়। গত ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ দুই পক্ষের এই অবস্থানকে নমনীয় করার পরিবর্তে আরও কঠোর ও জেদি করে তুলেছে।
আগামী ২১ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলায় বিশ্ববাজারে এখন চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, তাই যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে অধিকার থেকে বিচ্যুত করা যাবে না। বর্তমানে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এক ভয়াবহ মোড়ের দিকে এগোচ্ছে।
/টিএ